top of page

*#গম্ভীরালীলায়_মহাপ্রভু !* *(#পর্ব_১৪,চলবে)*


*#গম্ভীরালীলায়_মহাপ্রভু !*

*(#পর্ব_১৪)*

*#জগদানন্দ_পণ্ডিত"'*—


"#হেন_মতে_মহাপ্রভু_জগদানন্দ_সঙ্গে ৷ নানামতে অাস্বাদয় প্রেমের তরঙ্গে॥"(৩/১৩/০২)


#জগদানন্দ_পণ্ডিত প্রসঙ্গে এই কথাটি সকলের মনে জাগে—

*"#পণ্ডিত জগদানন্দ প্রভুর প্রাণরূপ ৷ লোকে খ্যাত যেহোঁ সত্যভামার স্বরূপ ॥* (চৈ;চ;)

#জগদানন্দ জগৎপ্রাণ মহাপ্রভুর এমনই একজন অন্তরঙ্গ ভক্ত যে, তিনি মহাপ্রভু ব্যতীত আর অন্য কিছুই জানতেন না ৷ মহাপ্রভুর প্রতি তাঁর ভালবাসা অতুলনীয় ৷

#গম্ভীরা_লীলাকালে জগদানন্দের মহাপ্রভুর প্রতি প্রেম-প্রীতি-ভালোবাসার অসংখ্য ঘটনা থেকে একটি মাত্র আস্বাদন করলেই বোঝা যাবে , ঘটনাটি হচ্ছে এক সময়ে জগদানন্দ গৌড়ে গিয়ে শিবানন্দ সেনের কাছ থেকে এক কলসী অত্যন্ত সুগন্ধি চন্দনাদি তেল প্রস্তুত করিয়ে নীলাচলে নিয়ে এসে মহাপ্রভুর প্রিয় ভক্ত গোবিন্দের হাতে দিয়ে বলেন—

*"#তাঁর_ইচ্ছা_প্রভু_অল্প_মস্তকা_লাগায় ৷ পিত্ত বায়ূ ব্যাধি প্রকোপ শান্তি হঞা যায়॥"* (চৈ;চ;

#কিন্তু_জগদানন্দের

ইচ্ছা পূর্ণ হল না , কারণ, সেই তেল দর্শন করে মহাপ্রভু বললেন--কোন সন্ন্যাসীর তেল মাখবার অধিকার নাই ৷

#এই_কথা_গোবিন্দের মুখে শুনে জগদানন্দ অভিমান করে নীরব রইলেন ৷ তাঁর মনে শুধু ঐ কথা আনাগোনা করতে লাগল, অতঃপর একদিন তিনি গোবিন্দকে দিয়ে মহাপ্রভুকে ঐ তেল ব্যবহার করতে বললেন ৷ গোবিন্দের মুখে জগদানন্দের এইকথা শুনে মহাপ্রভু বিরক্তি প্রকাশ করে সরস উক্তি করে অনেক উচ্চবাচ্য করলেন এবং পরেরদিন জগদানন্দ যখনই মহাপ্রভুর নিকট এলেন, তখনই—

*#প্রভু_কহে_পণ্ডিত ! তৈল আনিল গৌড় হৈতে ৷ আমি ত সন্ন্যাসী তৈল না পারি লইতে ॥ জগন্নাথে দেহ লইয়া দ্বীপ যেন জ্বলে ৷ তোমার সকল শ্রম হইব সফলে ॥*(চৈ;চ;)

#এই_কথা_শুনে জগদানন্দের অভিমানের মাত্রা যেন শতগুণ বৃদ্ধি হল, তাই জগদানন্দ তখনই বলিয়া উঠিলেন —

*"#পণ্ডিত_কহে_কে_তোমাকে কহে মিথ্যাবাণী ৷ আমি গৌড় হৈতে তৈল কভু নাহি আনি॥"* (চৈ;চ;)

#এই_কথা_বলে জগদানন্দ গৃহমধ্যে প্রবেশ করে তেলের কলসীটি এনে মহাপ্রভুর সন্মুখে—

*#তৈল_ভাঙ্গি_সেই_পথে_নিজ ঘরে গিয়া ৷ শুতিয়া রহিল ঘরে কপাট মারিয়া॥* "(চৈ;চ;)

#জগদানন্দ_ঘরে কপাট দিয়ে অনাহারে অনিদ্রায় তিনদিন পড়ে থাকলেন ৷

#এদিকে_ভক্তাধীন ভগবান, প্রেমবশ্য মহাপ্রভু আর কি স্থির থাকতে পারেন ? কিন্তু কি করবেন ! জগদানন্দ যে আমার সত্যভামা, ওকে তো অন্য কোনভাবে সান্ত্বনা দেওয়া যাবে না ! এই ভাবনায় মহাপ্রভু জগদানন্দের দরজায় গিয়ে বললেন—"'জগদানন্দ ! আমি জগন্নাথদেবকে দর্শন করতে যাচ্ছি, তোমার গৃহে আজ ভোজন করব ! শীঘ্র রন্ধন কর, আমি আসছি ৷

#এইকথা_বলে মহাপ্রভু চলে যেতেই জগদানন্দের যত অভিমান মূহুর্তে অপসারিত হয়ে হৃদয়ে আনন্দের ঢেউ উথাল পাথাল করতে লাগল ৷ জগদানন্দ তৎক্ষণাৎ সতীসাধ্বী পতিব্রতা রমণীর মত অতি আদরে রান্নার যোগাড় করতে লাগলেন ৷

#অতঃপর_যথাসময়ে মহাপ্রভু এলে পারস করে মহাপ্রভুর সন্মুখে ধরিতেই মহাপ্রভু বললেন—"তোমার ভোজনও প্রস্তুত কর ৷ আজ দুজনে এক সঙ্গে ভোজন করব ৷"

#জগদানন্দ_বললেন—

"ঠিক আছে প্রভু, তুমি আগে ভোজন কর,পরে আমি প্রসাদ পাব৷

#মহাপ্রভু ভোজন করে যাবার সময় গোবিন্দকে ডেকে বলে গেলেন—জগদানন্দের প্রসাদ পাওয়া হলে তুমি আমাকে সংবাদ দিও ৷

#এইভাবে_মহাপ্রভু এবং জগদানন্দের কত যে মান অভিমানের খেলা হত তার ইয়ত্তা নাই ৷

#মহাপ্রভুকে_কিসে সুখ দিতে পারবেন তাই ছিল জগদানন্দের জীবনের মূল লক্ষ্য ৷ মহাপ্রভু যে কঠিন শয্যায় শয়ন করতেন তা জগদানন্দ দর্শন করতে পারতেন না ৷ তাই একদিন শিমূল তুলোর একটি শয্যা করে দিলেন এবং তা নিয়ে যে কত রঙ্গ খেলা হল তা বৈষ্ণব জগতে অত্যন্ত সুবিদিত ৷

3 views0 comments

Comentarios


Be Inspired
bottom of page