top of page

*#গম্ভীরালীলায়_মহাপ্রভু !**(#পর্ব_১৬/১,চলবে)*


*#গম্ভীরালীলায়_মহাপ্রভু !*


*(#পর্ব_১৬/১)*


*#তোমার_চপল_মতি*

না হয় একত্রে স্থিতি ,

তাতে তোমার নাহি কিছু দোষ ৷

তুমি তো করুণা-সিন্ধু ,

আমার প্রাণের বন্ধু ,

তোমায় মোর নাহি কভু দোষ॥"


"#তুমি_নাথ_ব্রজপ্রাণ ,

ব্রজের কর পরিত্রাণ ,

বহুকার্যে নাহি অবকাশ ৷

তুমি আমার রমণ ,

সুখ দিতে আগমন ,

এ তোমার বৈদগ্ধ্যি বিলাস॥"

(চৈ;চ;)


পূর্বার্দ্ধে—#আবার_মনে_করলেন,

তাঁর আহ্বানে শ্রীকৃষ্ণ যেন আবার এসে অনুনয়-বিনয় করে বলছেন— "হে প্রিয়ে আমি তো অন্য কোথাও যাইনি ? কুঞ্জের বাইরেই ত ছিলাম ; কেন বৃথা রাগ করছ, আমার প্রতি প্রসন্ন হও ৷" একথা শুনে আবার উগ্রভাবে আবিষ্ট হয়ে অত্যন্ত ক্রোধভরে বললেন—

#তোমার_চপলমতি...........নাহি কিছু দোষ ৷" এখানে ঔগ্র ভাবের উদয় হওয়ায় অধীরমধ্যা-নায়িকার ভাব ব্যক্ত হচ্ছে ৷ (যে নায়িকা ক্রোধপ্রকাশ-পূর্বক নিজের কান্তাকে নিষ্ঠুর বাক্য প্রয়োগ করে,তাকে অধীরা বলে)


দ্বিতীয়ার্ধ—#আবার_মনে_করলেন, "হায় হায়, আমার কটুক্তি শুনে কৃষ্ণ তো চলে গেলেন ? এবার গেলে আর বুঝি আসবেন না ?" তাই অত্যন্ত দীনভাবে বলতে লাগলেন—#তুমি_তো_করুণাসিন্ধু..........

........নাহি কভু রোষ ৷" এখানে ঔগ্র ও দৈন্যভাবদ্বয়ের শাবল্য হয়েছে ॥


পূর্বার্ধ—"#তুমি_নাথ_ব্রজনাথ"

এখানে শ্রীরাধা মনে করলেন—পূনর্বার শ্রীকৃষ্ণ এসে বলছেন , "প্রিয়ে, বৃথা মান করে কেন কষ্ট দিচ্ছ ? প্রসন্ন হও"—একথা শুনে অমর্যের অনুগত অবহিথ্বা ভাবে ঔদাসীন্যের সঙ্গে যেন শ্রীরাধিকা বলছেন—

"#তুমি_নাথ.......নাহি অবকাশ ৷"

"তুমি হলে ব্রজবাসীদের প্রাণ ; কথা বলিনি বলে মান করেছি মনে করেছ ? ব্রাহ্মণী আমাকে মৌনব্রত গ্রহণ করিয়েছিলেন , এইজন্য তোমার সঙ্গে আলাপ করতে পারলাম না ৷ আমার এ অপরাধ ক্ষমা কর ৷" এখানে অবহিথ্বার(আকার-সংগোপন) উদয় হওয়ায় ধীরপ্রগল্ভা নায়িকার লক্ষণ ব্যক্ত হয়েছে ৷


দ্বিতীয়ার্ধ— "#শ্রীরাধা_আবার_মনে_করছেন-

"শ্রীকৃষ্ণ বুঝি চলে গিয়েছেন , আর বুঝি আসবেন না ৷" একথা মনে হতেই চাপলভাবের উদয় হওয়ায় ভাবছেন—"যদি তিনি কৃপা করে আসেন তবে আর তাঁকে ছাড়ব না ৷" এই ভেবে তাঁর সঙ্গে মিলনের জন্য ঔৎসুক্যবশত দৈন্যের সঙ্গে বলছেন—

"#তুমি_আমার_রমণ................

...........তোমার বৈদগ্ধ্য বিলাস ৷"

এখানে চপল ভাবের উদয় হয়েছে এবং দৈন্য ও চাপল্যের সন্ধি হয়েছে ৷ ( "তুমি দেব ক্রীড়ারত" থেকে "এ তোমার বৈদগ্ধ্য বিলাস" পর্যন্ত প্রত্যেক পদ্যের #পূর্বার্ধে_মান এবং #দ্বিতীয়ার্ধে_কলহান্তরিতার ভাব ব্যক্ত হয়েছে ৷ যে নায়িকা সখীগণের সামনে পদানত-কান্তকে পরিত্যাগ করে, পরে অত্যন্ত দুঃখ অনুভব করে তাকে কলহান্তরিতা বলে ৷ প্রলাপ, সন্তাপ, গ্লানি, দীর্ঘশ্বাস প্রভৃতি কলহান্তরিতা নায়িকার লক্ষণ ৷)


"#মোর_বাক্য_নিন্দা_মানি ,

কৃষ্ণ ছাড়ি গেল জানি ,

শুন মোর এ স্তুতি বচন ৷

নয়নের অভিরাম ,

তুমি মোর ধন প্রাণ ,

হা হা পুনঃ দেহ দরশন ॥"

#শ্রীরাধার_আহ্বানে শ্রীকৃষ্ণ আবার এসেছেন মনে করে—"আমি তাঁকে কতই না তিরস্কার করেছি, তাই তিনি চলে গিয়েছেন"— এরকম ভেবে, বার তাঁকে আসতে দেখে প্রবল ঔৎসুক্যের সঙ্গে দুই বাহু বাড়িয়ে যখন শ্রীকৃষ্ণকে আলিঙ্গন করতে গেলেন, তখন তাঁকে না পাওয়াতে হঠাৎ #শ্রীরাধার_বাহ্যস্ফূর্তি_হল ; তখন

অত্যন্ত খেদের সঙ্গে বললেন—

"#নয়নের_অভিরাম.............

.........পুনঃ দেহ দরশন ৷" এখানে

ঔৎসুক্যের প্রাবল্যহেতু ভাব-শাবল্য হয়েছে ৷ এটাই "নয়নের অভিরাম" শব্দের মর্ম ॥

"(#তুমি_দেব_ক্রীড়ারত থেকে #হা_হা_পুনঃ_দেহ_দরশন"' পর্যন্ত মহাপ্রভুর উক্তি ৷ )


#পূর্বে_ব্রজবিলাসে ,

যেই তিন অভিলাষে ,

যত্নে আস্বাদন না হইল ৷

শ্রীরাধার ভাবসার ,

আপনে করি অঙ্গীকার ,

সেই তিন বস্তু আস্বাদিল ॥"

#চৈতন্যলীলা_রত্ন_সার ,

স্বরূপের ভাণ্ডার ,

তেঁহো থুইলা রঘুনাথের কণ্ঠে ৷ তাহা কিছু যে শুনিল ,

তাহা ইহাঁ বিবরিল ,

ভক্তগণে দিল এই ভেটে ॥

(চৈ;চ;)

"'#যেই_তিন_অভিলাষে—

শ্রীরাধার প্রণয়মহিমা , নিজ মাধুর্য এবং নিজ মাধুর্য আস্বাদনে শ্রীরাধার কেমন আনন্দ ৷ শ্রীকৃষ্ণ প্রেমের বিষয় মাত্র ; তাঁতে আশ্রয়-জাতীয় ভাব না থাকায় ব্রজলীলায় তিনি তিনটি অভিলাষ পূর্ণ করতে পারেননি ৷ তাই এই বর্তমান কলিতে মাদনাখ্য মহাভাবস্বরূপিণী শ্রীরাধার ভাব অঙ্গীকার করে শ্রীকৃষ্ণই শ্রীচৈতন্য হলেন এবং পূর্বোক্ত তিনটি বস্তুর আস্বাদন করলেন ॥"'

"#রঘুনাথের_কণ্ঠে— মহাপ্রভুর শেষলীলা শ্রেষ্ঠ রত্নরূপ ৷ তা স্বরূপ দামোদরের ভাণ্ডারে জমা ছিল ৷ তিনি কৃপা করে শ্রী রঘুনাথ দাসগোস্বামীকে ওই সমস্ত লীলা জানিয়েছিলেন ৷ এবং তা শ্রীরঘুনাথ দাসগোস্বামীর

কাছ থেকে শুনে গ্রন্থকার শ্রীকৃষ্ণদাস গোস্বামী এই লীলা #চৈ_;চ; গ্রন্থে বর্ণনা করেন ৷

"#গম্ভীরাতে_গৌরাঙ্গ_মহাপ্রভুর

যে মহাভাব পূর্ণচন্দ্রের চন্দ্রিমার মত পরিপূর্ণ হয়েছিল সেই মহাভাবের সূচনা কিন্তু বহু পূর্ব হতেই প্রকাশ পেয়েছিল ৷


*(#জয়_মহাপ্রভু)*

1 view0 comments

Comments


Be Inspired
bottom of page