top of page

*#গম্ভীরালীলায়_মহাপ্রভু !* *(#পর্ব_১৭,চলবে)*


*#গম্ভীরালীলায়_মহাপ্রভু !*


*(#পর্ব_১৭)*


*"#বাল্যভাব-ছলে প্রভু করেন ক্রন্দন ৷ "কৃষ্ণ" "হরিণাম" শুনি রহয়ে রোদন ॥"* (চৈ;চ;)

#সদ্য_আবির্ভূত শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দর শিশুসুলভ ক্রন্দন করতেন তখন পুরনারীগণ হরিধ্বনি করলে সেই ক্রন্দন থেমে যেত— *"#অতএব_হরি_হরি_বোলে নারীগণ ৷"* (চৈ;চ;)

#এর_দ্বারাই বুঝা যায় রাধাভাবপূর্ণ শিশু গৌরাঙ্গের অন্তরে তখন থেকেই কৃষ্ণবিরহের অঙ্কুরোদ্গম হয়েছিল ৷ #অর্থাৎ—নামীর অদর্শন ব্যথা নামের মাধ্যমে উপশম করে ক্রন্দন থেকে বিরত মহাপ্রভু কৃষ্ণ মিলনানন্দ অনুভব করতেন ৷

#তারপর_গয়াধামে_গমন_করে মহাপ্রভুতে এই ভাব আরও অধিকতর গাঢ় হয়েছিল ৷ গয়া হতে মহাপ্রভু নবদ্বীপে ফিরে আসলে মহাভাব আরও প্রগাঢ় হয়ে উঠল , তিনি তখন কৃষ্ণবিরহে সর্বক্ষণই ক্রন্দন করতেন ৷

#নীলাচলে গম্ভীরা লীলাকালে মহাপ্রভু যেমন দিনরাত্রি কৃষ্ণবিরহ বেদনায় শ্লোকাবৃত্তি করতেন বা কখনও ক্রন্দন করতেন, গয়া প্রত্যাগত গৌরাঙ্গের অবস্থাও অনেকটা সেইরূপ ছিল ৷ যেমন—

*"#নিরবধি_শ্লোক_পঢ়ি , করয়ে ক্রন্দন ৷ "কোথা কৃষ্ণ" "কোথা কৃষ্ণ !" বলে অনুক্ষণ ॥"*

*রাত্র্যে নিদ্রা নাহিক প্রভুর প্রেমাবেশে ৷ বিরহে না পায় স্বাস্থ্য , উঠে পড়ে বৈসে ॥"* (চৈ;ভা;)

#গৌরাঙ্গ_মহাপ্রভুর

মধ্যে এরকম কত অলৌকিক ভাব বা মহাভাবই না দেখা যেত ৷ কাটোয়ায় কেশব ভারতীর কাছে সন্ন্যাস নেওয়ার পরে মহাপ্রভু যখন শান্তিপুরে শ্রীঅদ্বৈতাচার্যের ভবনে এলেন তখন কৃষ্ণপ্রেমোন্মত্ত তরুণ সন্ন্যাসীকে দর্শনের জন্য অদ্বৈত ভবন লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছিল, সেইসময় মহাপ্রভুকে কেন্দ্রকরে অদ্বৈত ভবনে নিত্যদিনই সংকীর্তনোৎসব হত, সেই কীর্তনের আসরে মহাপ্রভুর মনের ভাব বুঝে মুকুন্দ একদিন কীর্তনের এই পদটি গেয়ে উঠলেন—

*"#হা_হা_প্রাণপ্রিয়_সখী_কি_না_হৈল_মোরে ৷ কানু-প্রেমবিষে মোর তনুমন জরে ॥ রাত্রি দিনে পোড়ে মন সোয়াস্তি না পাঙ্ ॥"*

(চৈ;চ;)

#এই_পদটির_ভাবার্থ

এইরূপ—"'কৃষ্ণবিরহ-বিহ্বলা শ্রীরাধা তাঁর অতি অন্তরঙ্গা কোনও সখীকে বলছেন—"'হা হা প্রাণপ্রিয় সখি ! আমার এ কি হল ! কানুর বিরহানলে দেহ ও মন জ্বলে যাচ্ছে , রাতদিন সর্বদা আমার চিত্ত যেন পুড়ে খাক্ হয়ে যাচ্ছে ৷ আমি একটুও সোয়াস্তি পাচ্ছি না ৷ কি করব সখি ? কোথা যাব ? কোথা গেলে কানুকে পাব বলে দাও সখি, আমি সেখানে উড়ে যাব ॥"

#মুকুন্দের_মুখে নিজভাবানুকুল পদ শুনে মহাপ্রভুর প্রেমোচ্ছাস বেড়ে গেল ৷ মহাপ্রভুর শ্রীঅঙ্গে অশ্রু-কম্পাদি স্বাত্ত্বিক ভাবের উদয় হল ৷ অত্যধিক প্রেমাবেশে মহাপ্রভু কখনও উঠে দাঁড়ান, কখনও মাটিতে বসে পড়েন, আবার কখনও বা ক্রন্দন করতে থাকেন ৷ সেইসময়ে শান্তিপুরে মহাপ্রভুর *#কৃষ্ণপ্রেমানুরাগ_রঞ্জিত কমল লোচনদ্বয়ে যে অশ্রুগঙ্গা বয়েছিল তার খরশ্রোতে শুধুমাত্র #শান্তিপুর_ডুবু_ডুবু ন'দে ভেসে যায়-নি সমস্ত ভারতবর্ষ প্লাবিত হয়েছিল , মহাপ্রভুর অন্তর্ধানের পর সেই অশ্রু গঙ্গার শত শত তরঙ্গ ধারায় এখন সমগ্র জগৎই প্লাবিত হচ্ছে ৷*

#কলিযুগের_একমাত্র ধর্ম মহানাম সংকীর্তন ৷ তাই যুগাবতার কলিপাবন মহাপ্রভু সেই মহানামের সঙ্গে প্রেম সংযুক্ত করে কলিপীড়িত জগজ্জীবকে উপহার দিলেন ৷ আজ সমগ্র বিশ্বেই হরিনাম সুধারসের অশ্রুপ্লাবনে স্নাত হচ্ছে ৷ মহাপ্রভুর নিজ মুখ নিঃসৃত—

*"#পৃথিবীতে_যত_আছে_নগরাদি গ্রাম ৷ সর্বত্র প্রচারিত হইবে মোর নাম॥"'*

এই বাক্যের সার্থক রূপ প্রকাশ হয়ে আজও মহাপ্রভুর নয়নধারার এক বিন্দু যেন সমগ্র জগৎ কে প্রেমোন্মত্ত করে তুলছে ॥

* * *

(#জয়_মহাপ্রভু)

0 views0 comments

Comments


Be Inspired
bottom of page