top of page

*#গম্ভীরালীলায়_মহাপ্রভু !* *(#পর্ব_২৭)*

*#গম্ভীরালীলায়_মহাপ্রভু !*


*(#পর্ব_২৭)*


#মহাপ্রভুর_নয়ন দিয়ে যে অস্বাভাবিক অশ্রু ঝরে পড়ত, তা শুধু গম্ভীরার বিরহ দশায় বা জগন্নাথ দর্শন করার সময়ই হত তা নয় ৷ মহাপ্রভু যখন যেখানে থাকতেন তখন সেখানেই তদনুরূপ অবস্থার সৃষ্টি হত যেমন— #নামে_আত্মহারা_ মহাপ্রভু যখন সমুদ্রতীরে নৃত্যরত থাকতেন তখন মহাপ্রভুর নয়নাশ্রু এত তীব্র বেগে প্রবাহিত হত যে সমুদ্রবেলার বালুকারাশি সেই নয়ন জলে সিক্ত হত এবং মহাপ্রভুর শ্রীচরণযুগল বালুময় কর্দমে ডুবে যেত ৷

#রাধাভাবে_বিভাবিত

মায়াধীশ স্বয়ং মহাপ্রভু জীব নন, তিনি পূর্ণ অংশী, জীব তাঁরই অতি ক্ষুদ্রাংশ ৷ মহাপ্রেমে মাতোয়ারা মহাপ্রভুর সমগ্র স্বরূপসত্তা প্রেম বারিতে পরিপ্লুত৷

জলধরের জলের সীমানা আছে, কিন্তু কৃষ্ণপ্রেমাশ্রুর কোন সীমা-পরিসীমা পাওয়া কখনও সম্ভব নয় ৷

#গম্ভীরা_গৃহে_রাধাভাব

বিশিষ্ট মহাপ্রভুর মহাভাবসিন্ধুতে মিলন এবং বিরহের জোয়ার-ভাঁটার খেলা অবিরাম গতিতে চলতে থাকে ৷ বিরহ বেদনার সুতীব্র বিষে জর্জরিত হয়ে কখনও #তিনি_উন্মত্ত আবার পরক্ষণেই মিলনানন্দে #টইটুম্বুর ৷

#রাধাকৃষ্ণের মিলিত তনু, তাতে একাধারে শ্রীকৃষ্ণের অমৃত মধুর অসমোর্ধ্ব মাধুর্য, অন্যধারে শ্রীরাধার সর্বাতিশায়ী পরম মধুর প্রেম-মাধুর্যের মাখামাখি চলতে থাকত ৷ মধুরাতিমধুর ব্রজলীলা মহাপ্রভুতে পূর্ণিমার চাঁদের চন্দ্রিমার মত ষোলকলায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠত ৷

#সেইসময়_রাধাভাব- বিশিষ্ট মহাপ্রভু তাঁর একান্ত অভীষ্টবস্তু শ্রীকৃষ্ণদর্শনের এবং তাঁকে প্রাপ্তির নিমিত্ত অত্যন্ত বলবতী উৎকণ্ঠা বশতঃ এমন এমন সমস্ত অত্যদ্ভুত অত্যলৌকিক লীলা করতেন যা জীবের পক্ষে কল্পনাতীত যেমন—

#একদিন_গভীর_রাতে

গম্ভীরায় মহাপ্রভুকে শয্যায় না দেখে গোবিন্দ মশাল নিয়ে স্বরূপ দামোদরের সঙ্গে এখানে ওখানে তন্ন তন্ন করে খুঁজতে খুঁজতে শেষে শ্রীজগন্নাথ মন্দিরের সিংহদ্বারের উত্তরদিকে গিয়ে দেখলেন—

*"#প্রভু_পড়ি_আছে_দীর্ঘ_হাত পাঁচ ছয় ৷ অচেতন দেহ নাসায় শ্বাস নাহি বয়*॥ (চৈ:চ:-৩/১৪/৬০)

*#মুখে_লালা__ফেন_প্রভুর উত্তান নয়ান ৷ দেখিতেই সব ভক্তের দেহে ছাড়ে প্রাণ॥*"(৩/১৪/৬৪)

#প্রাণাপেক্ষাও_প্রিয় প্রভুর এই প্রকার অতি অলৌকিক বেদনাভরা লীলা দর্শন করে অতীব দুঃখ ও মর্মবেদনায় ভক্তদের যেন আর দেহে প্রাণ থাকে না ৷ পূর্ণাবতার মহাপ্রভু কৃষ্ণপ্রেমাস্বাদন করবার সময় যে সমস্ত অত্যদ্ভুত দৈহিক বৈকল্য বা বিকার প্রদর্শন করেছিলেন সেই সমস্তগুলিকে দুঃখ বা বেদনাপূর্ণ বলে মনে করার কোন কারণ নাই ৷ কারণ, প্রেমাবস্থা সদা সর্বক্ষণই পরমানন্দময়, দুঃখের মত মনে হলেও তা দুঃখ নয় ৷ অপ্রাকৃত প্রেমের রাজ্যে প্রাকৃত দুঃখের কোন প্রবেশাধিকার নাই ৷ তাই প্রেমাবতার মহাপ্রভুর এতাদৃশ প্রেমের বিকারগুলিও যে *#পরমানন্দে_টইটুম্বুর* ৷

#মহাপ্রভুর_জাগতিক

দেহটি জগৎকল্যাণেই হোক অথবা ব্রজপ্রেমাস্বাদনের জন্য হোক যে কোন ভাবেই নিয়োজিত করুন তাতে যে প্রাণপ্রভুর দেহে আঘাত লাগছে,এই আঘাতের বেদনা ভক্তদের মনে যে মর্মবেদনা হয়ে অশ্রুধারারূপে ঝরে পড়ছিল এবং তাঁরা দুর্বিসহ দুঃখে হাহাকার করে উঠছিল, তা মহাপ্রভুর একান্ত মরমীভক্তের উক্তিতেই বোঝা যাবে তখন—

*#স্বরূপ_গোঁসাঞি_তবে_উচ্চ করিয়া ৷ প্রভুর কানে কৃষ্ণনাম কহে ভক্তগণ লঞা॥*

*বহুক্ষণে কৃষ্ণনাম হৃদয়ে পশিলা ৷ "হরিবোল" বলি প্রভু গর্জিয়া উঠিলা॥*


*চেতন হইতে অস্থিসন্ধি সকল লাগিল ৷ পূর্ব প্রায় যথাযোগ্য শরীর হইল॥* (চৈ:চ:- ৩/১৪/৬৫,৬৬,৬৭ )

#মহাপ্রভুর_দেহ এবং হস্তপদাদি অস্বাভাবাবিক-ভাবে দীর্ঘ হবার কারণ কি ? মহাপ্রভুর দেহের অস্থিগ্রন্থিগুলি এমন অস্বাভাবিক ভাবে আলগা হয়ে গেল কেন ? এই সময়ে মহাপ্রভুতো সম্পূর্ণভাবে শ্রীকৃষ্ণ-বিরহে শ্রীরাধার ভাবে আবিষ্ট হয়ে ছিলেন, কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের বিরহে শ্রীরাধার দেহ যে এমনতর অস্বাভাবিক দীর্ঘ অথবা তাঁহার (শ্রীরাধার) অস্থি-গ্রন্থি সকল যে অস্বাভাবিক শিথিল হয়ে পড়েছিল এমন কথা শোনা যায় নাই, অথচ মহাপ্রভুর ক্ষেত্রে তা হল কেন ?

#এই_সবের_উত্তরে—

#দ্বাপর_লীলাতে শ্রীরাধা যখন অষ্টসাত্ত্বিক বিকার গ্রস্ত অবস্থায় নামরসামৃত আস্বাদন করতে করতে অপার আনন্দসিন্ধুতে নিমজ্জিত হতেন তখন একদিন শ্রীরাধাকে শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন—রাধে ! এইভাবে তুমি যে নামরসামৃত আস্বাদন কর, আমাকে তুমি ঠিক এইভাবে একটু আস্বাদনের সুযোগ করে দিবে ?

#এই_কথায়_শ্রীরাধা—বলেছিলেন—তা তুমি পারবে না ৷ কারণ, তুমি যে স্বয়ং ভগবান, এই স্বয়ং ভগবত্তার অহঙ্কার তোমার মধ্যে ষোল আনা বিদ্যমান ৷ আমার অন্তরে যে ভাবের অগ্নি জ্বলছে সেই ভাব ধারণে তুমি অক্ষম ৷

#তুমি_যদি_তোমার

বক্ষস্থল থেকে কৃষ্ণ-হৃদয় ঝেড়ে ফেলে সেই স্থলে আমার হৃদয় বসাতে পার তবেই তুমি আমার মত অতি অপূর্ব ও অদ্ভূত শ্রীকৃষ্ণমাধুর্যের আস্বাদন ও আনন্দোন্মাদনা উপভোগ করতে পারবে ৷ এছাড়া তোমার ইচ্ছাপূরণের অন্য কোন পথ বা পন্থা নাই ৷

*#গম্ভীরালীলায়_মহাপ্রভু !*


*(#পর্ব_২৭)*


#মহাপ্রভুর_নয়ন দিয়ে যে অস্বাভাবিক অশ্রু ঝরে পড়ত, তা শুধু গম্ভীরার বিরহ দশায় বা জগন্নাথ দর্শন করার সময়ই হত তা নয় ৷ মহাপ্রভু যখন যেখানে থাকতেন তখন সেখানেই তদনুরূপ অবস্থার সৃষ্টি হত যেমন— #নামে_আত্মহারা_ মহাপ্রভু যখন সমুদ্রতীরে নৃত্যরত থাকতেন তখন মহাপ্রভুর নয়নাশ্রু এত তীব্র বেগে প্রবাহিত হত যে সমুদ্রবেলার বালুকারাশি সেই নয়ন জলে সিক্ত হত এবং মহাপ্রভুর শ্রীচরণযুগল বালুময় কর্দমে ডুবে যেত ৷

#রাধাভাবে_বিভাবিত

মায়াধীশ স্বয়ং মহাপ্রভু জীব নন, তিনি পূর্ণ অংশী, জীব তাঁরই অতি ক্ষুদ্রাংশ ৷ মহাপ্রেমে মাতোয়ারা মহাপ্রভুর সমগ্র স্বরূপসত্তা প্রেম বারিতে পরিপ্লুত৷

জলধরের জলের সীমানা আছে, কিন্তু কৃষ্ণপ্রেমাশ্রুর কোন সীমা-পরিসীমা পাওয়া কখনও সম্ভব নয় ৷

#গম্ভীরা_গৃহে_রাধাভাব

বিশিষ্ট মহাপ্রভুর মহাভাবসিন্ধুতে মিলন এবং বিরহের জোয়ার-ভাঁটার খেলা অবিরাম গতিতে চলতে থাকে ৷ বিরহ বেদনার সুতীব্র বিষে জর্জরিত হয়ে কখনও #তিনি_উন্মত্ত আবার পরক্ষণেই মিলনানন্দে #টইটুম্বুর ৷

#রাধাকৃষ্ণের মিলিত তনু, তাতে একাধারে শ্রীকৃষ্ণের অমৃত মধুর অসমোর্ধ্ব মাধুর্য, অন্যধারে শ্রীরাধার সর্বাতিশায়ী পরম মধুর প্রেম-মাধুর্যের মাখামাখি চলতে থাকত ৷ মধুরাতিমধুর ব্রজলীলা মহাপ্রভুতে পূর্ণিমার চাঁদের চন্দ্রিমার মত ষোলকলায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠত ৷

#সেইসময়_রাধাভাব- বিশিষ্ট মহাপ্রভু তাঁর একান্ত অভীষ্টবস্তু শ্রীকৃষ্ণদর্শনের এবং তাঁকে প্রাপ্তির নিমিত্ত অত্যন্ত বলবতী উৎকণ্ঠা বশতঃ এমন এমন সমস্ত অত্যদ্ভুত অত্যলৌকিক লীলা করতেন যা জীবের পক্ষে কল্পনাতীত যেমন—

#একদিন_গভীর_রাতে

গম্ভীরায় মহাপ্রভুকে শয্যায় না দেখে গোবিন্দ মশাল নিয়ে স্বরূপ দামোদরের সঙ্গে এখানে ওখানে তন্ন তন্ন করে খুঁজতে খুঁজতে শেষে শ্রীজগন্নাথ মন্দিরের সিংহদ্বারের উত্তরদিকে গিয়ে দেখলেন—

*"#প্রভু_পড়ি_আছে_দীর্ঘ_হাত পাঁচ ছয় ৷ অচেতন দেহ নাসায় শ্বাস নাহি বয়*॥ (চৈ:চ:-৩/১৪/৬০)

*#মুখে_লালা__ফেন_প্রভুর উত্তান নয়ান ৷ দেখিতেই সব ভক্তের দেহে ছাড়ে প্রাণ॥*"(৩/১৪/৬৪)

#প্রাণাপেক্ষাও_প্রিয় প্রভুর এই প্রকার অতি অলৌকিক বেদনাভরা লীলা দর্শন করে অতীব দুঃখ ও মর্মবেদনায় ভক্তদের যেন আর দেহে প্রাণ থাকে না ৷ পূর্ণাবতার মহাপ্রভু কৃষ্ণপ্রেমাস্বাদন করবার সময় যে সমস্ত অত্যদ্ভুত দৈহিক বৈকল্য বা বিকার প্রদর্শন করেছিলেন সেই সমস্তগুলিকে দুঃখ বা বেদনাপূর্ণ বলে মনে করার কোন কারণ নাই ৷ কারণ, প্রেমাবস্থা সদা সর্বক্ষণই পরমানন্দময়, দুঃখের মত মনে হলেও তা দুঃখ নয় ৷ অপ্রাকৃত প্রেমের রাজ্যে প্রাকৃত দুঃখের কোন প্রবেশাধিকার নাই ৷ তাই প্রেমাবতার মহাপ্রভুর এতাদৃশ প্রেমের বিকারগুলিও যে *#পরমানন্দে_টইটুম্বুর* ৷

#মহাপ্রভুর_জাগতিক

দেহটি জগৎকল্যাণেই হোক অথবা ব্রজপ্রেমাস্বাদনের জন্য হোক যে কোন ভাবেই নিয়োজিত করুন তাতে যে প্রাণপ্রভুর দেহে আঘাত লাগছে,এই আঘাতের বেদনা ভক্তদের মনে যে মর্মবেদনা হয়ে অশ্রুধারারূপে ঝরে পড়ছিল এবং তাঁরা দুর্বিসহ দুঃখে হাহাকার করে উঠছিল, তা মহাপ্রভুর একান্ত মরমীভক্তের উক্তিতেই বোঝা যাবে তখন—

*#স্বরূপ_গোঁসাঞি_তবে_উচ্চ করিয়া ৷ প্রভুর কানে কৃষ্ণনাম কহে ভক্তগণ লঞা॥*

*বহুক্ষণে কৃষ্ণনাম হৃদয়ে পশিলা ৷ "হরিবোল" বলি প্রভু গর্জিয়া উঠিলা॥*


*চেতন হইতে অস্থিসন্ধি সকল লাগিল ৷ পূর্ব প্রায় যথাযোগ্য শরীর হইল॥* (চৈ:চ:- ৩/১৪/৬৫,৬৬,৬৭ )

#মহাপ্রভুর_দেহ এবং হস্তপদাদি অস্বাভাবাবিক-ভাবে দীর্ঘ হবার কারণ কি ? মহাপ্রভুর দেহের অস্থিগ্রন্থিগুলি এমন অস্বাভাবিক ভাবে আলগা হয়ে গেল কেন ? এই সময়ে মহাপ্রভুতো সম্পূর্ণভাবে শ্রীকৃষ্ণ-বিরহে শ্রীরাধার ভাবে আবিষ্ট হয়ে ছিলেন, কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের বিরহে শ্রীরাধার দেহ যে এমনতর অস্বাভাবিক দীর্ঘ অথবা তাঁহার (শ্রীরাধার) অস্থি-গ্রন্থি সকল যে অস্বাভাবিক শিথিল হয়ে পড়েছিল এমন কথা শোনা যায় নাই, অথচ মহাপ্রভুর ক্ষেত্রে তা হল কেন ?

#এই_সবের_উত্তরে—

#দ্বাপর_লীলাতে শ্রীরাধা যখন অষ্টসাত্ত্বিক বিকার গ্রস্ত অবস্থায় নামরসামৃত আস্বাদন করতে করতে অপার আনন্দসিন্ধুতে নিমজ্জিত হতেন তখন একদিন শ্রীরাধাকে শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন—রাধে ! এইভাবে তুমি যে নামরসামৃত আস্বাদন কর, আমাকে তুমি ঠিক এইভাবে একটু আস্বাদনের সুযোগ করে দিবে ?

#এই_কথায়_শ্রীরাধা—বলেছিলেন—তা তুমি পারবে না ৷ কারণ, তুমি যে স্বয়ং ভগবান, এই স্বয়ং ভগবত্তার অহঙ্কার তোমার মধ্যে ষোল আনা বিদ্যমান ৷ আমার অন্তরে যে ভাবের অগ্নি জ্বলছে সেই ভাব ধারণে তুমি অক্ষম ৷

#তুমি_যদি_তোমার

বক্ষস্থল থেকে কৃষ্ণ-হৃদয় ঝেড়ে ফেলে সেই স্থলে আমার হৃদয় বসাতে পার তবেই তুমি আমার মত অতি অপূর্ব ও অদ্ভূত শ্রীকৃষ্ণমাধুর্যের আস্বাদন ও আনন্দোন্মাদনা উপভোগ করতে পারবে ৷ এছাড়া তোমার ইচ্ছাপূরণের অন্য কোন পথ বা পন্থা নাই ৷

1 view0 comments

Comentarios


Be Inspired
bottom of page