top of page

"(#পর্ব_অাট_পোষ্টনং_২২)"


"(#পর্ব_অাট_পোষ্টনং_২২)"


#গৌরচন্দ্রিকার_সূত্রপাত_হয়

নরোত্তমদাস ঠাকুরের হাত ধরে, নরোত্তম ঠাকুর চৈতন্যদেবের অন্তর্ধানের অল্পপরে জন্ম,(অানু;১৫৩৩ খ্রীঃ)তিনি রাজপুত্র হয়েও অল্প বয়সে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন,তিনি শ্রীবৃন্দাবনধামে লোকনাথ গোস্বামীর কাছে দীক্ষা গ্রহণ করে নিজ জন্মভূমিতে ফিরে এসে ভজনখুলি নির্ম্মাণ করে সাধনভজন করতে থাকেন ৷ গৌর-নিত্যানন্দ,অদ্বৈতাচার্য এবং তাঁদের অনেক পার্ষদ তখন নিত্যলীলায় প্রবেশ করেছেন ৷ নরোত্তমদাস খেতরীতে যে মহোৎসব করেছিলেন, (অানু;-১৬০০ খ্রীঃ পূর্বে বা ১৫৮২ খ্রীঃ)এরূপ উৎসব ইহার পূর্বে বা পরে অনুষ্ঠিত হয় নাই ৷ নিত্যানন্দপত্নী জাহ্নবাদেবী ছিলেন এই উৎসবের হোত্রী, শ্রীনিবাস প্রধান পুরোহিত, নরোত্তম ঠাকুর উদ্দ্যোক্তা এবং রাজা সন্তোষ দত্ত যজ্মান ৷ জানা যায় খেতরীতে ছয় বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে এই উৎসব হয় ৷ এই ছয় বিগ্রহ;-


"শ্রীগৌরাঙ্গ বল্লবীকান্ত শ্রীকৃষ্ণ ব্রজমোহন ৷ শ্রীরাধারমন রাধে রাধাকান্ত নমহস্ত্ততে ॥"


ছয় বিগ্রহের প্রথমেই শ্রীগৌরাঙ্গকে স্থাপিত বুঝা যায় ৷ নরোত্তম ঠাকুরের উদ্দ্যোগে খেতরীতে যে সব বিগ্রহের প্রতিষ্ঠা হল তার মধ্যে শ্রীগৌরাঙ্গ-বিগ্রহই সর্বাগ্রবর্ত্তী ৷ এ থেকেই তখনকার মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায় ৷ এই উৎসবে অপূর্ব সংকীর্তন স্থল প্রস্তুত হয় ৷ সেই সংকীর্তন স্থলে শ্রীনিবাসাদিগণ এবং প্রসিদ্ধ গায়ক ও বাদক সমবেত হয়েছিলেন ৷ সেই মহোৎসবে বাঙলার এমন কোনও বিখ্যাত গায়ক,বাদক বৈষ্ণবভক্ত ছিলেন না যিনি খেতরীর মহোৎসবে অংশগ্রহণ করেন নাই ৷ শ্রীজাহ্নবাদেবী সকলের অলক্ষ্যে বসলেন, শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের পুত্র শ্রীঅচ্যুতানন্দ শ্রীনরোত্তম ঠাকুরকে গান করবার জন্য ইঙ্গিত করলেন,শ্রীখণ্ডের শ্রীরঘুনন্দন ঠাকুর নরোত্তম ঠাকুরকে মালা চন্দন দিলেন, শ্রীনরোত্তম ঠাকুর ভূমিতে মস্তক ঠেকিয়ে প্রণাম করলেন এবং দেবীদাস অমৃতের ন্যায় ধ্বনি করে মর্দ্দলে শব্দ করলেন, গৌরাঙ্গদাস প্রভৃতি সেই সঙ্গে মৃদঙ্গ করতাল সহকারে বাজাতে লাগলেন(ভক্তিরত্নাকরে এই কীর্ত্তনের বর্ণনা অাছে)৷

কীর্ত্তন দুই প্রকার-"নিবদ্ধ ও অনিবদ্ধ" ৷ গোকুলদাস অনিবদ্ধ কীর্তনগান করলেন,সুর,তান, রাগিণী, মূর্চ্ছনা প্রভৃতি বিস্তার করে তিনি এই কীর্তনগান করেছিলেন ৷ অার নরোত্তম ঠাকুর নিজে গেয়েছিলেন নিবদ্ধ কীর্তন ৷ (পালাক্রমে যে গান করা হয় তা ছিল নিবদ্ধ কীর্তন) ৷

নরোত্তম ঠাকুর নিজে গরাণহাটী সুরের স্রষ্টা, তিনি অসামান্য পদকর্ত্তাও ছিলেন ৷ নরোত্তম ঠাকুরের প্রার্থনার পদের ন্যায় কবিতা কোনও ভাষায় নাই, নরোত্তম ঠাকুর পালা সাজিয়ে গান করেছিলেন এবং তার পূর্বে গৌরচন্দ্রিকা গান করেছিলেন;-


"শ্রীরাধিকাভাবে মগ্ন নদীয়ার চান্দ ৷ সেই ভাবময় গীত রচনা সুছান্দ॥ অাকর্ষণ মন্ত্র কি উপমা তায় দিতে ৷ হইল বিহ্বল তাহা প্রথমে গাইতে॥ তদুপরি শ্রীরাধিকা কৃষ্ণের বিলাস ৷ গাইবেন মনে এই কৈল অভিলাষ॥(ভক্তিরত্নাকর)


এই গৌরচন্দ্রিকার অারম্ভ ৷ নরোত্তম ঠাকুর যে দৃষ্টান্ত দিলেন,তা পরবর্তী গায়ক ও পদকর্তাগণ অনুসরণ করলেন ৷

1 view0 comments

Kommentare


Be Inspired
bottom of page