top of page

"(#পর্ব_নয়_পোষ্টনং_৩২)"


"(#পর্ব_নয়_পোষ্টনং_৩২)"


#মহাপ্রভু_তখন_নবদ্বীপে_তাঁর

নাম-প্রেম প্রচার অারম্ভ করেছিলেন ৷ শ্রীহরিদাস ঠাকুর ও শ্রীনিত্যানন্দপ্রভু উভয়কেই মহাপ্রভু অাদেশ দিলেন, "যাও দ্বারে দ্বারে গিয়ে যাকে দেখ তাকেই বল কৃষ্ণনাম গ্রহণ করতে ৷ সেই সময়ে নবদ্বীপে তান্ত্রিকের দ্বারা পরিপূর্ণ ছিল ৷ শক্তি তথা মহামায়ার অারাধনাই তখন প্রাধান্য পাচ্ছিল ৷ শ্রীগৌরাঙ্গদেব(মহাপ্রভু) তখন প্রচার অারম্ভ করেছিলেন, সকলকে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে সব কিছু ছেড়ে কৃষ্ণনাম গ্রহণেই প্রকৃত মঙ্গল ৷ শ্রীনিত্যানন্দপ্রভু ও শ্রীহরিদাস ঠাকুর মহাপ্রভুর অাদেশ নিয়ে নগরে বেরিয়ে একদিন জগাই মাধাই নামে দুই মদ্যপ গুণ্ডার দেখা পেলেন, এরা মদ্যপ গুণ্ডা কিন্তু ব্রাহ্মণ বংশজাত এবং নবদ্বীপের মুসলমান শাসকের অধীনে শাসনকাজে রত ছিলেন ৷ তাদের ধর্মের দিকে কোন নজর ছিল না,যা-তা ভক্ষণ করে দস্যু কর্ম করা ও নানারকম পাপ কার্য্যে তারা লিপ্ত ছিল ৷ শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু মহাপ্রভুর মহিমা প্রচারের জন্য এই দুই পাপীকে উদ্ধারের সংকল্প করলেন এবং হরিদাস ঠাকুরকে সঙ্গে নিয়ে তাদেরকে বললেন :—


"বলো কৃষ্ণ,ভজ কৃষ্ণ, লহ কৃষ্ণ নাম ৷ কৃষ্ণ মাতা,কৃষ্ণ পিতা, কৃষ্ণ ধন প্রাণ ॥ তোমা সভা লাগিয়া কৃষ্ণের অবতার ৷ হেন কৃষ্ণ ভজ, সব ছাড় অনাচার॥

ডাক্ শুনি মাথা তুলি চা'হে দুইজন ৷ মহাক্রোধে দুইজন অরুণ-নয়ন॥" (চৈ,ভা: মধ্যখণ্ড)


এসব কথা শুনে মহাক্রোধে দুই দস্যু নিত্যানন্দপ্রভু ও হরিদাস ঠাকুরকে তাড়া করল ৷ নিত্যানন্দপ্রভু ও হরিদাস ঠাকুর মহাপ্রভুকে সেদিনকার বৃত্তান্ত জানালে মহাপ্রভু দস্যু দুজনের প্রতি ক্রোধ প্রকাশ করলেও নিত্যানন্দ প্রভু এদের উদ্ধারের দ্বারা মহাপ্রভুর "পাতকী-পাবন" নাম জগতে প্রকাশ তথা মহাপ্রভুর মহিমা বিশেষভাবে জগতে প্রচারের ইচ্ছা করলেন ৷ এরা মহাপাপী ও দস্যু এরা যদি পরিবর্তিত হয় অর্থাৎ ভক্ত হয়ে যায় তাহলে জগতের মানুষ বুঝতে পারবে মহাপ্রভুর ক্ষমতা ও মহিমা ৷ মহাপ্রভু বললেন, নিত্যানন্দ দর্শনে এবং তিনি যে এদের মঙ্গল চিন্তা করছেন, এতেই কৃষ্ণ নিশ্চয়ই অচিরাতে তাদের মঙ্গল করবেন ৷ অার একদিন নিশাকালে নিত্যানন্দ প্রভু জগাই মাধাইকে রাস্তায় দেখলেন সেই সময় মাধাই নিত্যানন্দের অবধূত নাম শুনে রেগে গিয়ে মাটির কলসের দ্বারা নিত্যানন্দের মাথায় অাঘাত করতেই মাথা কেটে রক্তপাত হতে লাগল ৷ তখন ওখানে নিত্যানন্দের সঙ্গে যারা ছিল তাদের মধ্যে থেকে মহাপ্রভুকে এই ঘটনার কথা জানালে মহাপ্রভু সেখানে এসে নিত্যানন্দ অঙ্গে রক্ত দেখে, 'চক্র চক্র' বলে অাহ্বান করলে চক্র এসে গেল, জগাই মাধাই তা দেখে ভীত হলেন ৷ নিত্যানন্দপ্রভু মহাপ্রভুকে স্মরণ করালেন এই অবতারে অস্ত্র ধারণ করা যাবে না ৷ অার বললেন:—


"মাধাই রাখিতে প্রভু রাখিল জগাই ৷ দৈবে সে পড়িল রক্ত দুঃখ নাহি পাই॥ মোরে ভিক্ষা দেহ প্রভু এই দুই শরীর ৷ কিছু দুঃখ নাহি মোর—তুমি হও স্থির॥(চৈ,ভাঃ মধ্যখণ্ড)


নিত্যানন্দপ্রভু অারো বললেন, মাধাই মারতে গেলে জগাই বাধা দিয়ে অামায় বাঁচালো:—


"জগাই রাখিল—হেন বচন শুনিয়া ৷ জগাইরে অালিঙ্গিলা প্রভু সুখী হৈয়া॥ জগাইরে বলে—কৃষ্ণ কৃপা করু তোরে ৷ নিত্যানন্দ রাখিয়া কিনিলি তুঞি মোরে॥ যে অভিষ্ট চিত্তে দেখে, তাহা তুমি মাগ ৷ অাজি হৈতে হউ তোর প্রেম ভক্তি লাভ॥"(চৈ,ভাঃ মধ্যখণ্ড)


জগাইর উপর কৃপা দেখে মাধাইর ও পরিবর্তন শুরু হল, মাধাই নিত্যানন্দ চরণ ধরে পড়লে নিত্যানন্দপ্রভু তাকে কৃপা করলেন, এবং মহাপ্রভুও তাকে কৃপা করলেন ৷ জগাই মাধায়ের পরিবর্তন হল,এর ফলে নগরে নগরে নিমাই পণ্ডিতের অলৌকিক ক্ষমতার কথা ছড়িয়ে পড়তে লাগল যিনি দুই মহা দস্যুকে মহান ভক্ত করে দিলেন ৷ সেই সঙ্গে সঙ্গে নিত্যানন্দপ্রভুর মহিমাও প্রকাশিত হল,যিনি দস্যুকর্তৃক অাঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তার সমস্ত দোষ ক্ষমা করে তাকে কৃপা করে,মহাপ্রভুর কৃপা লাভ করতে অনুমোদন করলেন ৷ শ্রীনিত্যানন্দ প্রভু এই রকম উচ্চ কৃপাময় বলে তাঁর দিব্যখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল ৷ নিত্যানন্দপ্রভুর কখনই শোষণকারী বা ভোগকারী মানসিকতা ছিল না, তিনি পরিপূর্ণভাবে "গৌর-কৃষ্ণে" সমর্পিত ৷

8 views0 comments

Comments


Be Inspired
bottom of page