top of page

"#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্যদেব ( #পর্ব ০২) ক্রমশঃ চলিবে ৷"


" (#প্রবন্ধ)"


#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্যদেব ৷"

"(#পর্ব_০২)"


#জাত_বৈষ্ণবদের_দীক্ষার প্রকরণও খুব সরল ৷ গুরু বা মঠধারী বা ভেক-গোসাই শিষ্য-শিষ্যার কানে একাক্ষরী মন্ত্র দেন, শিষ্যের হাতে দেন ডোরী, কৌপিন ও বহির্বাস ৷ তার গলায় পরিয়ে দেন তুলসীর মালা ৷


#কীর্তনগানের_ক্ষেত্রে শ্রীচৈতন্যদেবের অবদান;—


*#শ্রবনং_কীর্তনং_বিষ্ণোঃ_স্মরণং_পাদসেবনম্ ৷*

*অর্চনং বন্দনং দাস্যং সখ্যমাত্মনিবেদনম্ ॥*

*ইতি পুংসার্পিতা বিষ্ণৌ ভক্তিশ্চেন্নবলক্ষণা ৷ ক্রিয়তে ভগবত্যদ্ধা তন্মন্যেহধীতমুত্তমম্॥* (ভাগবত-৭/৫/২৩-২৪শ্লো;)"

#আমাদের_দেশে

একটা ধারণা প্রচলিত আছে যে শ্রীচৈতন্যদেবই কীর্তন গানের প্রবর্তক ৷ #কিন্তু শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাবের বহু পূর্বেই যে কীর্তন ও সংকীর্তন শব্দ দুটি প্রচলিত ছিল ,তাঁর বহু প্রমাণ আছে ৷ প্রহ্ণাদের(উবাচ) উপাখ্যানে এই শ্লোকে দেখা যাচ্ছে হিরণ্যকশিপুর প্রশ্নের উত্তরে প্রহ্লাদ যে নবধাভক্তির কথা বলেছেন তার মধ্যে কীর্তন অন্যতম ৷



#আবার_যুগাবতার_প্রসঙ্গে ঋষি

করভাজন কথনে সংকীর্তন শব্দটি পাওয়া যাচ্ছে—

*#কৃষ্ণবর্ণং_ত্বিষাকৃষ্ণং সাঙ্গোপাঙ্গাস্ত্রপার্ষদম্ ৷ যজ্ঞৈঃ সঙ্কীর্তনপ্রায়ৈর্যজন্তি হি সুমেধসঃ॥* (ভাগবত-১১/৫/৩২)"

#কলিযুগে ভগবানের

শ্রীবিগ্রহ কৃষ্ণবর্ণ ৷ নীলকান্তমনিসম তাঁর অঙ্গদ্যুতি; যেন উজ্জ্বলকান্তি ধারার প্রত্যক্ষ দর্শন হয় ৷ তিনি হৃদয় আদি অঙ্গ, কৌস্তুভ আদি উপাঙ্গ, সুদর্শন আদি অস্ত্র এবং সুনন্দ আদি পার্ষদ সকলে সংযুক্ত থাকেন ৷ কলিযুগে শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিগণ এমন যজ্ঞ দ্বারা তাঁর আরাধনা করে থাকেন যাতে নাম-গুণ-লীলা সংকীর্তনের প্রাধান্য থাকে ৷

#আবার_গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্ম্মের অন্যতম প্রবক্তা #শ্রীজীব তাঁর 'তত্ত্বসন্দর্ভ' গ্রন্থে 'ত্বিষা-কৃষ্ণং' শব্দটি ব্যাখ্যা করে এই শ্লোকটির মধ্যে সুস্পষ্ট চৈতন্যদেব আবির্ভাবের ইঙ্গিত দিয়েছেন ৷ শ্লোকটিতে সংকীর্তনকে যাগযজ্ঞের সমকক্ষ বলা হয়েছে যা শ্রীচৈতন্যদেবের শিক্ষার মূল কথা ৷ 'ত্বিষা' শব্দটির অর্থ, দীপ্তি বা কান্তি ৷ যদি ত্বিষা কৃষ্ণং শব্দটি ভাঙ্গা যায় এইভাবে-ত্বিষা+ অকৃষ্ণং তাহলে শ্লোকটির অর্থ দাঁড়ায় কৃষ্ণবর্ণ যে শ্রীকৃষ্ণ দীপ্তি ও কান্তিতে অকৃষ্ণ অর্থাৎ গৌরবর্ণ ধারণ করেছেন এবং সাঙ্গোপাঙ্গ ও পার্ষদদের নিয়ে আবির্ভূত হয়ে সংকীর্তনরূপ যজ্ঞ প্রবর্তন করেছেন ৷ কাজেই নৈষ্ঠিক গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের মতে শ্রীচৈতন্য আবির্ভাবের বহুপূর্ব্বে লেখা শ্রীভাগবতের এই শ্লোকে চৈতন্য আবির্ভাবের ইঙ্গিত স্পষ্ট ৷

#আবার_শ্লোকটির সাধারণভাবে অর্থ করা যায় দীপ্তিময় ও কান্তিময় কৃষ্ণবর্ণের শ্রীকৃষ্ণ ৷ তাহলেও কিন্তু সংকীর্তন শব্দটিকে বাদ দিতে পারি না ৷


#আবার_যদি এই শ্লোকে কৃষ্ণবর্ণ শব্দের অর্থ দুটিকে ত্বিষাকৃষ্ণ শব্দের দুটি অর্থের সঙ্গে মিলালে মোট চারটি অর্থ পাওয়া যায় ৷

যেমন;-(ক) যাঁর বর্ণ কৃষ্ণ এবং কান্তিও কৃষ্ণ, (খ) যিনি কৃষ্ণকে বর্ণন করেন এবং যাঁর কান্তি কৃষ্ণ; (গ) যাঁর বর্ণ কৃষ্ণ, কিন্তু কান্তি অকৃষ্ণ বা পীত বা গৌর এবং (ঘ) যিনি কৃষ্ণকে বর্ণন করেন এবং যাঁর কান্তি অকৃষ্ণ বা পীতবর্ণ ৷

#কিন্তু_প্রথম দুটি অর্থ অসঙ্গত, কারণ কলিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অন্য বর্ণের দ্বারা আচ্ছাদিত,ছন্ন অবতার, তাই তাঁর কান্তি কখনো কৃষ্ণ হতে পারে না ৷ তাহলে শেষ দুটি অর্থই সঙ্গত,কারণ কলিতে স্বয়ং ভগবান ভিতরে কৃষ্ণবর্ণ,বাইরে পীত বা গৌরবর্ণ; অর্থাৎ তিনি 'অন্তঃকৃষ্ণ বহির্গৌর'৷ তাই 'ত্বিষা কৃষ্ণম্'(সন্ধিহীন) পাঠ সঙ্গত নয়; 'ত্বিষা অকৃষ্ণম্' (সন্ধিবদ্ধ) পাঠই সঙ্গত ৷

আবার- "#রাধায়া_ভবতশ্চ চিত্তজতুনী স্বেদৈর্বিলাপ্য' ইত্যাদি শ্রীকৃষ্ণের প্রতি শ্রীবৃন্দাদেবীর উক্তি দ্বারা বুঝা যায়, প্রেমপরিপাক শ্রীরাধাকৃষ্ণের চিত্তকে গলিয়ে এক করে দিয়েছিল;সেই মহাপরাক্রান্ত প্রেমই কৃষ্ণপ্রেমময়ী শ্রীরাধার অঙ্গকেও গলিয়ে যেন তাঁর প্রতি অঙ্গদ্বারা শ্রীকৃষ্ণের প্রতি শ্যামঅঙ্গকে আলিঙ্গন করে পীতবর্ণ করে দিয়েছে, শ্যামসুন্দরকে অন্তঃকৃষ্ণ বহির্গৌর করে দিয়েছে ৷ তাই এই কলির এই অবতার শ্রীচৈতন্যদেব শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের যুগলিত বিগ্রহ ৷

*#আবার_আমাদের_দেশে একদল আছেন যাঁরা কোন অংশের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা করতে না পারলেই সেই অংশকে " #প্রক্ষিপ্ত " বা পরবর্তীকালের সংযোজন বলে নিশ্চিন্ত হতে চান ৷*

তাইতো শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে—


*#জীবের_কল্মষ-তমো নাশ করিবারে ৷ অঙ্গ উপাঙ্গ নাম নানা অস্ত্র ধরে*॥(চৈ:চ:-১/৩/৪৭)

#কলিহত_জীবের এই ভক্তিবিরোধী কর্মাসক্তি দূর করবার জন্য শ্রীগৌরাঙ্গ অঙ্গ, উপাঙ্গ ও হরেকৃষ্ণ নাম-রূপ-অস্ত্র নিয়েই অবতীর্ণ হয়েছেন ৷



#যাই_হোক কীর্তন বা সংকীর্তনের ধারা বহু প্রাচীন থেকেই আমাদের দেশে প্রচলিত ছিল ৷ ভাগবতে উল্লেখ আছে ব্রজবালক কৃষ্ণসখাগণ শ্রীকৃষ্ণের গুণগান করতেন ৷ রাসলীলায় গোপী গীতের উল্লেখ আছে। মাথুর বিরহকালে ভ্রমর গীতিরও উল্লেখ করা যায় ৷ কাজেই উচ্চৈস্বরে নামযশঃ গান-যাকে বলে কীর্তন-তা একটি প্রাচীন রীতি ৷


#বাংলাদেশের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখতে পাই বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণের যুগে রচিত ছোট ছোট সাধন সংগীতগুলি সুর ও তাল সহযোগে গাওয়া হত ৷


#আবার_শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাবের পূর্ব্বে অন্তঃত দুটি কৃষ্ণলীলা বিষয়ক কাব্য রচিত হয়েছে বাংলাদেশে জয়দেবের 'গীতগোবিন্দ' আর বড়ু চণ্ডিদাসের 'শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন' কাব্য

দুটি আখ্যায়িকা কাব্যের রূপে লিখিত হলেও ছোট ছোট গীতির সমষ্টি ৷ আবার মিথিলার কবি বিদ্যাপতির নামও এ প্রসঙ্গে স্মরণীয়—

*#চণ্ডিদাস_বিদ্যাপতি,

রায়ের নাটক গীতি ,

কর্ণামৃত শ্রীগীতগোবিন্দ ৷

স্বরূপ রামানন্দসনে,

মহাপ্রভু রাত্রিদিনে ,

গায় শুনে পরম আনন্দ ॥* (চৈ:চ:-২/২/৬৬)


#স্বয়ং_শ্রীচৈতন্যদেব জয়দেব , বিদ্যাপতি , ও চণ্ডিদাসের পদ আস্বাদন করতেন এ কথাও আমরা তাঁর জীবনী কাব্যপাঠে অবগত হই ৷

'আস্বাদন' শব্দটির অর্থ সম্ভবতঃ শুধু আবৃত্তি নয়, সুর ও তাল সহযোগে গান শোনা বা নিজে গাওয়া ৷ সুতরাং শ্রীচৈতন্যদেব আবির্ভাবের পূর্ব্বেই কীর্তন গানের ধারা বাংলাদেশে প্রচলিত ছিল ধরে নেওয়া যায় ৷


*#তাহলে_কীর্তনগানে_শ্রীচৈতন্যদেবের_অবদান_কি_?*—

#একটু_ধীর_স্থিরভাবে_বিচার বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে শ্রীচৈতন্যদেব বাংলাদেশের সেই #বিশিষ্ট_সংগীত_ধারাটিকে- #সুগঠিত_সুবিন্যস্ত_ও_সুসংহত করে তাকে জনগণের হৃদয়ের সামগ্রী করে তুললেন ৷ সেই হিসাবে শ্রীচৈতন্যদেব বাংলার কীর্তনগানের সংস্কারক ৷


*#শ্রীচৈতন্যদেবের জীবন নিয়ে রচিত চরিত কাব্যগুলির মধ্যে যেমন তত্ত্ব ও দর্শনের দিক থেকে কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্য-চরিতামৃত শ্রেষ্ঠ, তেমনি আবার ঐতিহাসিকতার দিক থেকে বৃন্দাবন দাসের চৈতন্য-ভাগবত সবচেয়ে বেশী বিশ্বস্ত।*



#কীর্তনগানের ধারাকে কিভাবে শ্রীচৈতন্যদেব জনপ্রিয় ও সুসংহত করে তুললেন তার কিছু কিছু বিবরণ বৃন্দাবন দাস চৈতন্য ভাগবতে দিয়েছেন ৷ প্রথম জীবনে যখন নিমাই পণ্ডিত নবদ্বীপে টোল খুলে ছাত্র পড়াচ্ছেন-তখন থেকেই তাঁর বাংলার এই নিজস্ব সংগীত ধারাটির প্রতি এক আশ্চর্য ভালবাসা জন্মেছিল ৷ তিনি টোলে ছাত্রদের নানা শাস্ত্র শিক্ষা দেবার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সংকীর্তনও শিক্ষা দিতেন ৷ এ ছাড়া ছাত্ররা জিজ্ঞাসা করত—


*#শিষ্যগণ_বোলেন "কেমন সংকীর্ত্তন ?"৷ আপনে শিখায় প্রভু শ্রীশচীনন্দন ॥* (কেদার-রাগ)

*" হরয়ে নমঃ কৃষ্ণঃ যাদবায় নমঃ ৷ গোপাল গোবিন্দ রাম শ্রীমধুসূদন"*


*দিশা দেখাইয়া প্রভু হাথে তাল দিয়া ৷ আপনে কীর্ত্তন করে শিষ্যগণ লৈয়া*॥(চৈ:ভা:মধ্যখণ্ড)

"হরয়ে নমঃ কৃষ্ণঃ"-পদটি নিমাই পণ্ডিত যে ভাবে শিষ্যদের শিখিয়ছিলেন আজও ঠিক সেইভাবেই হাততালি দিয়ে গাওয়া হয় সমস্বরে ৷ ছত্র দুটির এমনই আকর্ষণী শক্তি যে গলা আপনা- আপনিই মিলে যায়, হাত আপনা-আপনিই উঠে আসে ৷


আসলে শ্রীচৈতন্যদেবই বাংলা কীর্তনগানকে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত করেন এবং কীর্তনগানের ধারাকে গণতন্ত্রীকরণ করেন ৷ এত বড় জনসংগঠক ও জননেতা মধ্যযুগে বাংলায় আর কোথায় ? শ্রীচৈতন্যদেবের যুগ থেকে বাংলাদেশের কীর্তনের ধারায় প্রচলিত হ'ল লীলাকীর্তন বা পালাকীর্তন, নামকীর্তন এবং নূতন ও অভিনব প্রথা সংযুক্ত হ'ল নগর কীর্তন ৷ লীলাকীর্তন হ'ল রাধাকৃষ্ণের রূপ,গুণ, ও বিবিধ মনোহারী লীলার বর্ণনা ৷ নামকীর্তনে শ্রীহরির নাম ও করুণার কথাই প্রধান ৷


শ্রীবাস অঙ্গনে পার্ষদদের নিয়ে শ্রীচৈতন্যদেব কীর্তনগান করতেন,নামকীর্তন করতেন- এ বর্ণনা বৃন্দাবন দাস চৈতন্যভাগবতে দিয়েছেন ৷ কিন্তু বিরোধীপক্ষ পাষণ্ডীদের তা সহ্য হ'ল না,তাঁরা নগর রক্ষক মুসলমান কাজীর কাছে নালিশ জানালেন ৷ নাম গান কাজীর আদেশে বন্ধ হল ৷ শ্রীচৈতন্যদেব গড়ে তুললেন জনসংগঠন, গণবিক্ষোভ ৷


*"নগরে নগরে আজি করিব কীর্তন ৷ সন্ধ্যাকালে সবে কর নগরমণ্ডন॥* সন্ধ্যাতে দেউটি যত জ্বাল ঘরে ঘরে ৷ দেখি কোন কাজী আসি মোরে মানা করে ॥



এই যে শাসনের বাধা না মানার আহ্বান, এই বিদ্রোহ শ্রীচৈতন্যদেবেরই শিক্ষা ৷ ষোড়শ শতাব্দীর গণ সংগ্রামের রূপ নিশ্চয়ই বর্তমান যুগের মত হয়নি৷ এই গণমিছিলই "নগর সংকীর্তনের" রূপ পরিগ্রহ করল৷ মহাপ্রভুই প্রথম অহিংস আন্দোলনের স্রষ্টা।

এ মিছিলও জনগণের মিছিল, তাদের হাতিয়ার মন্দিরা,মৃদঙ্গ, জয়পতাকা আর কণ্ঠে সুমধুর সংগীত,কীর্তনগান—"তুয়া চরণে মন লাগহুরে৷"এই নগর সংকীর্তনে নেতৃত্ব দিলেন অদ্বৈত আচার্য,হরিদাস এবং শ্রীবাস ৷ বিরাট মিছিল কণ্ঠে গান নিয়ে কাজীর গৃহদ্বারে উপনীত হলেন ৷ কাজী নতিস্বীকার করল ৷ জনগণের জয় হল ৷


নামকীর্তন বা নামজপ শ্রীচৈতন্যদেব প্রবর্তন করেন বাচক জপ ও মানসিক জপ হিসাবে ৷

"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে ৷ হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ॥"

একক বা সমবেতভাবে উচ্চৈঃস্বরে বা মনে মনে এই গাওয়াই নাম গান বা নাম জপ ৷

কালভেদে বিভিন্ন সুরে এই গান গাওয়া হয় ৷


কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্য-চরিতামৃত গ্রন্থে মধ্যলীলার দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদে কৃষ্ণদাস শ্রীচৈতন্য প্রদর্শিত চৌষট্রি অঙ্গের সাধন ভক্তির উল্লেখ করেছেন ৷ এই চৌষট্রি অঙ্গ সাধনভক্তির মধ্যে আবার-সাধু সঙ্গ, নামকীর্তন,ভাগবত শ্রবণ, মথুরাবাস ও শ্রীমূর্তি সেবন-এই পাঁচ অঙ্গের শ্রেষ্ঠত্ব আবার এই পাঁচ অঙ্গের মধ্যে "নাম-সংকীর্তন"ই সর্ব্বশ্রেষ্ঠ ৷ শ্রীচৈতন্যদেবের মতে *"নববিধা ভক্তিপূর্ণ হয় নাম হৈতে॥"*


শ্রীচৈতন্যদেব নাম সংকীর্তনকেই কলিযুগের পরম উপায় ও কৃষ্ণ আরাধনার যজ্ঞ বলে অভিহিত করেছেন—

*"নাম সংকীর্তন কলৌ পরম উপায় ॥*

*সংকীর্তন যজ্ঞে করে কৃষ্ণ আরাধন ৷ সেই ত সুমেধা পায় কৃষ্ণের চরণ॥* (৩/২০/৭-৮)

কৃষ্ণদাস কবিরাজের এই পয়ারের সাথে ভাগবতের "কৃষ্ণ বর্ণং ত্বিষা কৃষ্ণং" শ্লোকের সুস্পষ্ট ছায়াপাত আছে ৷ শুধু তাই নয় এই কলিযুগের যজ্ঞস্বরূপ নাম সংকীর্তনে সুবিধাও আছে ৷ শ্রীচৈতন্যদেবের মতে—

*"খাইতে শুইতে যথা তথা নাম লয় ৷ দেশ কাল নিয়ম নাই সর্বসিদ্ধি হয় ॥"* (চৈ:চ:-৩/২০/১৪)



এইখানেই মহাপ্রভুর ধর্ম সংস্কারের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব-ধর্ম্মের সরলীকরণ ও গণতন্ত্রীকরণ ৷ ধর্ম সাধনার উপবাস,কৃচ্ছসাধনা,বহিরঙ্গের উপাচার-কোন কিছুর প্রয়োজন নাই ৷ জাতি-ধর্মনির্বিশেষে যে কোন মানুষ,যে কোন স্থানে, যে কোন অবস্থায়-যে সাধনা করতে পারে তা হ'ল নামকীর্তন ৷ বাংলার কীর্তনগানকে এইভাবে বাংলার কীর্তনকে নবজীবন দান করলেন ৷ *"বাংলার কী্র্তনগানের ক্ষেত্রে শ্রীচৈতন্যদেবের এটিই বড় অবদান"৷*


শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনাশ্রিত গৌরচন্দ্রিকা পদ রচনা বা নরোত্তম দাসের নেতৃত্বে খেতুরীর মহোৎসবে কীর্তনগানের সুর ও গায়ন ভিত্তিক নানা ঘরানার সৃষ্টি-এ সব তো পরের কথা ৷ ***বাংলার কীর্তনগানকে জনসাধারণের সামগ্রী করে তোলার কৃতিত্ব প্রধানতঃ শ্রীচৈতন্যদেবের ৷***

"ক্রমশঃ"

*"জয় মহাপ্রভু ৷"*

Comentários


Be Inspired
bottom of page