top of page

বঙ্গে নবজাগরণের নায়ক চৈতন্যদেব ৷ পর্ব-৬, চলবে ৷


বঙ্গে নবজাগরণের নায়ক চৈতন্যদেব ৷

পর্ব-৬, চলবে ৷



"#সমাজের_অভ্যন্তরিণ_ক্ষেত্রে_চৈতন্যদেবের_অান্দোলনের_অবদান;—

"(#পর্ব_দুই_পোষ্টনং_০৩)"


#মধ্যযুগের_সাধকদের যে কথা সত্য, তা চৈতন্যদেবের সম্বন্ধেও সত্য—প্রেমধর্ম সম্বন্ধে তাঁর যে মতবাদ তা হল সামন্তযুগের মতাদর্শের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ, তা সামন্ত সমাজ-ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বীকার করে না, চৈতন্যদেব মুসলমান শাসিত হিন্দু সমাজের সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের প্রবক্তা হিসাবে সদাচারী, হিন্দু সমাজধর্মের পক্ষপাতী, জাতিভেদের বিরুদ্ধেও তিনি প্রত্যক্ষ দণ্ডায়মান ছিলেন ৷ সামন্তযুগের মতাদর্শকে অস্বীকার করে তিনি প্রচার করলেন-জীবে দয়া,ঈশ্বরে ভক্তি, বিশেষ করে নাম-ধর্ম,নাম-সংকীর্তন ৷ এই অধিকারভেদের দেশে কৃষ্ণ নামে অব্রাহ্মণ-চণ্ডাল সকলেরই অধিকার, এই একক সাধনার দেশে সকলের সমবেত সংকীর্তন নবদ্বীপের পথে পথে, পুরীর রথাগ্রেও সকল জাতের মানুষ নিয়ে প্রেমের পরমোৎসব- সেখানে যবন হরিদাস পর্যন্ত তাঁর পরম অনুগ্রহভাজন সহচর,এসব চৈতন্যদেবের মহৎ সংস্কার-প্রয়াসেরই প্রমাণ ৷ এদেশে, এসমাজে-সেযুগের তুলনায়, নিশ্চয়ই এই সাধনাদর্শ ও সাধন-প্রয়াসকে অামরা অাজকের প্রচলিত ভাষাতে 'গণতান্ত্রিক' বলতে পারি ৷ মধ্যযুগের সাধারণ অন্যান্য সাধকগুরুর মতো চৈতন্যদেবেরও ভূমিকা ছিল প্রধানত সংস্কারের,ভাববাদী বিদ্রোহীর ৷ বাঙালী সমাজে তাঁর নিজস্ব একটা ভূমিকা ছিল, বাঙালী শাসিত শ্রেণীর সাংস্কৃতিক প্রতিরোধকে তিনি সার্থক রূপ দান করেন,একদিকে অভিজাতদের মধ্যে ম্লেচ্ছাচার রোধ করে,অন্যদিকে জনসারণকে সংকীর্তন ও নামধর্মের সাহায্যে প্রেমধর্মে সমান অধিকার দান করে ৷ এইভাবে হিন্দু সমাজের উচ্চ ও নিম্ন বর্গকে এক-ধর্মাচরণে ও ভাবাদর্শে পরস্পরের নিকট এনে চৈতন্যদেব এক অাত্মীয়-ভাবাপন্ন হিন্দু সমাজ গড়ে তুলতে সহায়তা করেন,সাধারণভাবে সেই মনে জাগিয়ে তোলেন সেই সমাজের মন থেকে অাগেকার অনুষ্ঠান-বাহুল্য কতকটা দূর করেন, সাধারণভাবে সেই মনে জাগিয়ে তোলেন সমকালের প্রতি মমতা,মানুষের একটা মূল্যবোধ,মানুষের একটা ঐশী মহিমা ,এই সাংস্কৃতিক-সামাজিক জাগরণে বাঙালীর চেতনা সাহিত্য,সঙ্গীতে,দর্শনে নানাদিকে অপূর্ব ভাবৈশ্বর্যে মূর্ত হয়ে উঠল ৷

এই জাগরণ এক পরম মহোৎসব, অার মুখ্যত তা চৈতন্যদেব ও তাঁর ভক্ত বৈষ্ণব-মণ্ডলীর দান ৷


#সমাজে_অসত্য_অন্যায় পরিব্যপ্ত হলে সমাজের বাহ্যিক ক্ষেত্রে তার শোধন বা পরিবর্তন প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে ৷ কিন্তু মানুষ নিয়েই তো সমাজ ,সেই মানুষের অন্তর যদি কলুষিতই থাকে,তাহলে অসত্য-অন্যায়ের প্রতি তার সহজ টান কেউ অাটকাতে পারে না ৷ অার অসত্য-অন্যায়ের সংসর্গে তার দ্বারা সমাজও কলুষিত হয় ৷ যুগ যুগ ধরে মানব ইতিহাস এই তথ্যই দিচ্ছে ৷ তবে তার সঙ্গে সঙ্গে অার একটা ইতিহাসও চলে অাসছে, যখনই সামাজিক গ্লানি পূর্ণমাত্রায় দেখা দিয়েছে, তখনই কোন না কোন সুনির্দিষ্ট কিংবা অারও একটু গভীরভাবে বললে সুনিশ্চিত মানুষ নিজের জীবন উৎসর্গ করে সমষ্টি-জীবন নিষ্কলুষ করবার সাধনায় মেতে উঠেছেন ৷ তখন তাঁদেরই হাত ধরে সমাজের সর্বক্ষেত্রে ছুটে এসেছে নবজাগরণ(রেঁনেসা) সমষ্টির কাছে তাঁরা হয়ে উঠেছেন সমাজ সংস্কারক, কোন কোনও ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশী মহামানব ৷ যে মহামানব জন-মানসকে যত বেশী পরিমাণে সুপ্রভাবিত করে জন-জীবন-শৈলী পবিত্রতর করতে পেরেছেন,তিনি মানুষের মাঝে, মানুষের কাছে তত বড় মহামানব,অতিমানব, এবং লোকাত্তরমানবরূপে রূপায়িত হয়েছেন ৷

(ক্রমশঃ)

0 views0 comments

Commentaires


Be Inspired
bottom of page