top of page

#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্যদেব ৷ পর্ব-১০, চলবে ৷

#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্যদেব ৷

পর্ব-১০, চলবে ৷


৷#বাংলা_সাহিত্যে_চৈতন্যদেবের_অবদান;—

"(#পর্ব_০৪_পোষ্ট_১০)"


#বৈষ্ণব_সাহিত্য_মোটের_উপর

তিন জাতীয়;-#জীবনী_কাব্য,,

#বৈষ্ণবশাস্ত্র_ও_পদাবলী ৷

সাহিত্যের দিক থেকে বৈষ্ণব পদাবলীকেই অামরা অমর সম্পদ বলে মনে করি; জীবনী কাব্যকে এ দেশের সাহিত্য ধারায় অপূর্ব বলে না মেনে পারি না ৷ ভারতবর্ষের সাহিত্যে বৈষ্ণব জীবনী-কাব্যসমূহ এক নতুন জিনিস ৷ দেবদেবীর মাহাত্ম্য-কীর্ত্তনই এতদিন সাহিত্যের প্রধান উপজীব্য,অবশ্য অবতার-বাদের দেশে দেবতারাও অাকৃতিতে ও প্রকৃতিতে অনেকটা মানুষেরই অপরূপ ৷ তবু তাঁদের ক্রিয়াকর্ম হল দেবতার লীলা-খেলা ৷ বৈষ্ণব জীবন-চরিতসমূহ যে এই প্রভাব থেকে মুক্ত তা নয় ৷ কারণ চৈতন্যদেবের জীবদ্দশাতেই তিনি অবতার বলে গণ্য হয়েছিলেন ৷ বৈষ্ণবজীবনী তাই সর্বাংশে জীবনী নয়,ভক্তি-কাব্য,অার তাই ধর্মের প্রভাব মুক্ত নয় ৷ বৈষ্ণব-জীবনীসমূহও মধ্যযুগের ধার্মিকতার দ্বারাই উদ্বুদ্ধ,তা সম্পূর্ণরূপে মানব-জীবনের চিত্র নয় ৷ কিন্তু চৈতন্যদেব,অদ্বৈত অাচার্য ও অন্যান্য ভক্ত মহাজনরা ছিলেন জীবন্ত মানুষ,লোকে তাঁদের রক্তমাংসের দেহে বরাবর দেখেছেন ৷ ভক্তি-মাহাত্মেও অবতার বা গুরু বলে সেই রক্তমাংসের মানুষকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া তাই সম্ভব হয় নি ৷ বৈষ্ণব জীবনী-কাব্যও এদিক থেকে সত্যকারের সাহিত্যের পথে এগিয়ে গিয়েছে-মানুষকে অাশ্রয় করেছে ৷ শুধু তাই নয় ৷ এসব জীবনীতে সেই মানুষের জীবন-কথা এসেছে, তার গৃহ,পরিবার,সমাজ এবং সমসাময়িক পরিবেশের কথাও এসেছে ৷ এমন কি, চৈতন্যদেব যেমন প্রাদেশিক সীমা ছাড়িয়ে পর্যটন করেছেন, তাঁর জীবনীতেও তেমনি ভারতের নানা অংশের তথ্যও কিছু-না-কিছু স্থান পেয়েছে ৷ এই সব তথ্যের গুরুত্বও কেউ অস্বীকার করতে পারে না এবং ঐতিহাসিকের চক্ষে তারও কিছু মূল্য অাছে ৷

#চৈতন্যদেবের_প্রত্যক্ষ_ও

সুপরিণত রূপ জীবনীসাহিত্যের মধ্যেই বিকশিত ৷ তাঁর দেবোপম চরিত্রকে ঘিরে বাংলা সাহিত্যে সর্বপ্রথম জীবনীসাহিত্য গড়ে ওঠে ৷ সুতরাং নবতর সংযোজনের পরিপেক্ষিতে এই সাহিত্যের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম ৷ বৃন্দাবন দাস তাঁর চৈতন্যভাগবত গ্রন্থের মাধ্যমে এই নতুন পথের দ্বার উদ্ঘাটন করেন ৷ পরবর্তীকালে কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্যচরিতামৃত, লোচনদাসের চৈতন্যমঙ্গল, জয়ানন্দের চৈতন্যমঙ্গল, প্রভৃতি চরিতসাহিত্যের এই শাখাটিকে সমৃদ্ধতর করে ৷ জীবনী সাহিত্যের এই যে উদ্ভোধন, তা পরবর্তীকালেও নব নব অাঙ্গিকে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে ৷

বাঙলায় চৈতন্যদেবের প্রথম (অানু:১৫৪৮ খ্রীঃ) জীবনী হল বৃন্দাবনদাসের "চৈতন্য-ভাগবত" ৷

#চৈতন্য_ভাগবত নানাদিক দিয়েই মহামূল্যবান গ্রন্থ ৷ চৈতন্যদেবের তিরোধানের (১৫৩৩ খ্রীঃ) পনের বৎসরের (অানু:) মধ্যেই তা রচিত হয়ে থাকবে ৷ বৃন্দাবনদাস এ কাব্য লিখেছিলেন নিত্যানন্দপ্রভুর উৎসাহে ৷ তখনো চৈতন্যদেবের অনেক অনুচর-পরিকর জীবিত ছিলেন; তাঁদের মুখেই তিনি অনেক বৃত্তান্ত শুনেছিলেন, কিন্তু তাঁর দৃষ্টিতে ভাগবত-বর্ণিত কৃষ্ণলীলারই নুতন সংস্করণ চৈতন্যলীলা,শ্রীচৈতন্যদেব শ্রীকৃষ্ণের অবতার ৷ তাই ভক্ত-সমাজে চৈতন্যদেব সম্পর্কে যে-সব অলৌকিক কাহিনী প্রচলিত ছিল তিনি অকুণ্ঠিতচিত্তে গ্রহণ করেছেন ৷ তাঁর উদ্দেশ্য হল শ্রীচৈতন্যমহাপ্রভুর লীলা প্রচার ৷

অার সেই সঙ্গে প্রধান গৌরব তিনি দান করেছেন নিজের গুরু শ্রীনিত্যানন্দপ্রভুকে ৷

#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্যদেব ৷

পর্ব-১০, চলবে ৷


৷#বাংলা_সাহিত্যে_চৈতন্যদেবের_অবদান;—

"(#পর্ব_০৪_পোষ্ট_১০)"


#বৈষ্ণব_সাহিত্য_মোটের_উপর

তিন জাতীয়;-#জীবনী_কাব্য,,

#বৈষ্ণবশাস্ত্র_ও_পদাবলী ৷

সাহিত্যের দিক থেকে বৈষ্ণব পদাবলীকেই অামরা অমর সম্পদ বলে মনে করি; জীবনী কাব্যকে এ দেশের সাহিত্য ধারায় অপূর্ব বলে না মেনে পারি না ৷ ভারতবর্ষের সাহিত্যে বৈষ্ণব জীবনী-কাব্যসমূহ এক নতুন জিনিস ৷ দেবদেবীর মাহাত্ম্য-কীর্ত্তনই এতদিন সাহিত্যের প্রধান উপজীব্য,অবশ্য অবতার-বাদের দেশে দেবতারাও অাকৃতিতে ও প্রকৃতিতে অনেকটা মানুষেরই অপরূপ ৷ তবু তাঁদের ক্রিয়াকর্ম হল দেবতার লীলা-খেলা ৷ বৈষ্ণব জীবন-চরিতসমূহ যে এই প্রভাব থেকে মুক্ত তা নয় ৷ কারণ চৈতন্যদেবের জীবদ্দশাতেই তিনি অবতার বলে গণ্য হয়েছিলেন ৷ বৈষ্ণবজীবনী তাই সর্বাংশে জীবনী নয়,ভক্তি-কাব্য,অার তাই ধর্মের প্রভাব মুক্ত নয় ৷ বৈষ্ণব-জীবনীসমূহও মধ্যযুগের ধার্মিকতার দ্বারাই উদ্বুদ্ধ,তা সম্পূর্ণরূপে মানব-জীবনের চিত্র নয় ৷ কিন্তু চৈতন্যদেব,অদ্বৈত অাচার্য ও অন্যান্য ভক্ত মহাজনরা ছিলেন জীবন্ত মানুষ,লোকে তাঁদের রক্তমাংসের দেহে বরাবর দেখেছেন ৷ ভক্তি-মাহাত্মেও অবতার বা গুরু বলে সেই রক্তমাংসের মানুষকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া তাই সম্ভব হয় নি ৷ বৈষ্ণব জীবনী-কাব্যও এদিক থেকে সত্যকারের সাহিত্যের পথে এগিয়ে গিয়েছে-মানুষকে অাশ্রয় করেছে ৷ শুধু তাই নয় ৷ এসব জীবনীতে সেই মানুষের জীবন-কথা এসেছে, তার গৃহ,পরিবার,সমাজ এবং সমসাময়িক পরিবেশের কথাও এসেছে ৷ এমন কি, চৈতন্যদেব যেমন প্রাদেশিক সীমা ছাড়িয়ে পর্যটন করেছেন, তাঁর জীবনীতেও তেমনি ভারতের নানা অংশের তথ্যও কিছু-না-কিছু স্থান পেয়েছে ৷ এই সব তথ্যের গুরুত্বও কেউ অস্বীকার করতে পারে না এবং ঐতিহাসিকের চক্ষে তারও কিছু মূল্য অাছে ৷

#চৈতন্যদেবের_প্রত্যক্ষ_ও

সুপরিণত রূপ জীবনীসাহিত্যের মধ্যেই বিকশিত ৷ তাঁর দেবোপম চরিত্রকে ঘিরে বাংলা সাহিত্যে সর্বপ্রথম জীবনীসাহিত্য গড়ে ওঠে ৷ সুতরাং নবতর সংযোজনের পরিপেক্ষিতে এই সাহিত্যের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম ৷ বৃন্দাবন দাস তাঁর চৈতন্যভাগবত গ্রন্থের মাধ্যমে এই নতুন পথের দ্বার উদ্ঘাটন করেন ৷ পরবর্তীকালে কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্যচরিতামৃত, লোচনদাসের চৈতন্যমঙ্গল, জয়ানন্দের চৈতন্যমঙ্গল, প্রভৃতি চরিতসাহিত্যের এই শাখাটিকে সমৃদ্ধতর করে ৷ জীবনী সাহিত্যের এই যে উদ্ভোধন, তা পরবর্তীকালেও নব নব অাঙ্গিকে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে ৷

বাঙলায় চৈতন্যদেবের প্রথম (অানু:১৫৪৮ খ্রীঃ) জীবনী হল বৃন্দাবনদাসের "চৈতন্য-ভাগবত" ৷

#চৈতন্য_ভাগবত নানাদিক দিয়েই মহামূল্যবান গ্রন্থ ৷ চৈতন্যদেবের তিরোধানের (১৫৩৩ খ্রীঃ) পনের বৎসরের (অানু:) মধ্যেই তা রচিত হয়ে থাকবে ৷ বৃন্দাবনদাস এ কাব্য লিখেছিলেন নিত্যানন্দপ্রভুর উৎসাহে ৷ তখনো চৈতন্যদেবের অনেক অনুচর-পরিকর জীবিত ছিলেন; তাঁদের মুখেই তিনি অনেক বৃত্তান্ত শুনেছিলেন, কিন্তু তাঁর দৃষ্টিতে ভাগবত-বর্ণিত কৃষ্ণলীলারই নুতন সংস্করণ চৈতন্যলীলা,শ্রীচৈতন্যদেব শ্রীকৃষ্ণের অবতার ৷ তাই ভক্ত-সমাজে চৈতন্যদেব সম্পর্কে যে-সব অলৌকিক কাহিনী প্রচলিত ছিল তিনি অকুণ্ঠিতচিত্তে গ্রহণ করেছেন ৷ তাঁর উদ্দেশ্য হল শ্রীচৈতন্যমহাপ্রভুর লীলা প্রচার ৷

অার সেই সঙ্গে প্রধান গৌরব তিনি দান করেছেন নিজের গুরু শ্রীনিত্যানন্দপ্রভুকে ৷

0 views0 comments

Comments


Be Inspired
bottom of page