top of page

#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্যদেব ৷" পর্ব-৯, চলবে ৷


#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্যদেব ৷"

পর্ব-৯, চলবে ৷


(#পর্ব_০৪_পোষ্টনং_০৯)"


#বাংলা_সাহিত্যে_চৈতন্যদেবের_অবদান ৷"


#চৈতন্যদেবের_১৪৮৬_১৫৩৩

প্রভাবকাল মধ্যযুগের বাংলা ও বাংলা সাহিত্যের এক গৌরবময় ইতিহাস ৷ চৈতন্যদেবের যুগান্তকারী অাবির্ভাবের ফলে বাংলা সমাজ ও সংস্কৃতিতে যে নবজাগরণ দেখা দিয়েছিল,তা সুনিশ্চিতভাবেই সাহিত্যের গতিপথকেও প্রভাবিত করে ৷ প্রতিষ্ঠাপর্বে বাঙালী সংস্কৃতির দু'টি ধারার যে মিলন ঘটেছিল তা কোমল ও ললিত ভাবধারায় সঞ্জীবিত হয় ৷ প্রেম ও ভক্তির ভাবরস-প্রবাহে বাঙালি নিজের মুক্তিমন্ত্র শুনতে পায় ৷ অন্যদিকে রাজশক্তি হারিয়ে বাঙালি যে হীনমন্যতায় ভুগছিল,সে অবস্থার মৌলিক পরিবর্তন না ঘটলেও ভাবের দিক থেকে চৈতন্যদেব বাঙালিকে উদ্ধার করেন, অার এই কারণেই চৈতন্যদেব প্রবর্তিত এই ধর্ম অান্দোলন এটা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অান্দোলনও বটে ৷ এই অান্দোলনের ফলে বাঙালি জাতি তার অাত্মসস্মান ফিরে পায় ৷ পরাজিতের মনোভাব থেকে মুক্তি অার চিত্তের গভীর ভাব প্রবণতায় নতীন মূল্যবোধের অনুসন্ধান বাঙালির সংস্কৃতি চর্চায় গভীর প্রভাব বিস্তার করে ৷ রচনার প্রাচুর্যে ও উৎকর্ষে বাংলা সাহিত্যের নব নব দিগন্ত উন্মোচিত হয় ৷ চৈতন্য সংস্কৃতি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে ভাব ও রূপের বিশেষ পরিবর্তন সাধন করেছিল ৷ এই পরিবর্তনের দু'টি প্রধান দিক-প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ৷ প্রত্যক্ষ প্রভাব-#বৈষ্ণব_পদাবলী, গৌরচন্দ্রিকা,গৌরপদাবলী ও #জীবনীসাহিত্য ৷ চৈতন্য সংস্কৃতির পরোক্ষ প্রভাব-চণ্ডীমঙ্গল, মনসামঙ্গল, ও ধর্মমঙ্গল ধারার #মঙ্গলকাব্য ৷ অনুবাদ সাহিত্য-রামায়ণ, মহাভারত,ভাগবত ৷ তাছাড়াও শাক্তপদাবলী ও লোকসাহিত্য ৷

#অনুবাদ_সাহিত্যেও চৈতন্যদেবের প্রভাব সুস্পষ্ট ৷ ব্যক্তি চৈতন্যদেবের উচ্চ অাদর্শই বাঙালি কবিকে অনুরূপ অাদর্শ এক চরিত্রের সন্ধানে নিয়োজিত করেছিল ৷ রামায়ণ,মহাভারত ও ভাগবতের কবিরা চৈতন্য-প্রভাবিত বৈষ্ণব ভাবধারায় প্রভাবিত হয়েছিলেন এবং তাঁদের কাব্যের পরিবেশ,চরিত্র ও মৌলিক কাব্যরস সেইমতো নিয়ন্ত্রণ করেন ৷ এর ফলে বঙ্গানূদিত রামায়ণ, মহাভারত ও ভাগবত ইত্যাদির মহাকাব্যিক গরিমা ম্লান হয়ে ঘেলেও,প্রেম ও ভক্তিরসে জারিত এই কাব্যগুলি বাঙালির গার্হস্থ্য অালেখ্যে পরিণত হয় ৷ কাশীরাম দাসের মহাভারত অনুবাদ তারই এক উজ্জ্বল স্মারক ৷

#শাক্তসাহিত্যেও_চৈতন্যদেবের

সার্বভৌম প্রভাব ও তাঁর প্রবল ভাবের জোয়ারে তার স্বাতন্ত্র্য সস্পূর্ণ রক্ষা করতে পারেনি ৷ কেউ কেউ মনে করেন, শাক্ত পদাবলীর বাৎসল্য রসের পদগুলিতে ও উমাসংগীতে (অাগমনী ও বিজয়া গান) চৈতন্য-প্রভাবিত বৈষ্ণব গীতিকবিতার কোমল স্নিগ্ধতা অনুভূত হয় ৷

#লোকসংগীতেও_চৈতন্যদেবের

ভাববিহ্বল দেবোপম জীবনের বাংলার সুদূর গ্রামাঞ্চলে সুস্পষ্ট প্রভাব ৷ মৈমনসিংহ গীতিকার বিষয়বস্তুতে চৈতন্যদেবের সমন্বয়বাদ ফুটে উঠেছে ৷ শুধু তাই-ই নয়, বাউল গানে যে "মনের মানুষ"-এর অনুসন্ধান রয়েছে,তার মূলেও চৈতন্যদেবের প্রভাব অস্বীকার করা যায় না ৷

#প্রাক_চৈতন্যযুগে মঙ্গলকাব্যের

মনসা, চণ্ডী প্রভৃতি দেবদেবীর চরিত্রগত সংকীর্ণতা, হিংস্রতা,নিষ্ঠুরতা ও স্বার্থপরতা চৈতন্যোত্তর পর্বে অনেকটাই হ্রাস পেয়ে এক স্নিগ্ধ দৈব মহিমায় প্রতিষ্ঠিত হয় ৷ চৈতনোত্তর যুগের কবি দ্বিজ বংশীদাসের মনসামঙ্গলে মনসা চরিত্রে উগ্রমূর্ত্তির পরিবর্তে স্নেহ ও প্রীতির স্পর্শ লাগে ৷ চণ্ডীমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবিদ্বয় মুকুন্দ চক্রবর্তী ও দ্বিজ মাধবের হাতেও প্রতিহিংসাপরায়ণা চণ্ডীর রূপান্তর ঘটে জননী অভয়ার ৷ কাব্যের প্রতি ক্ষেত্রেই ধ্বনিত হতে থাকে এক মানবিক সুর ৷ ধর্মমঙ্গল কাব্যেও ধর্মঠাকুরের ক্ষমাসুন্দর রূপটি ফুটে ওঠে চৈতন্য-প্রভাবিত কোমলতার স্পর্শে ৷

#চৈতন্যদেবের_অলৌকিক পরশপাথরের স্পর্শে বাংলা সাহিত্য নব নব ভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে ৷ বাংলা সাহিত্যে তাঁর এই প্রভাবের এই ঐতিহাসিক ফলশ্রুতি সুদূর প্রুসারিত ৷ প্রাক চৈতন্য-যুগের সাহিত্যে যে স্থূলতা,কদর্যতা ও গ্রাম্যতা ছিল, তা চৈতন্য প্রভাবে রুচিসম্মত ও শ্লীল হয়েছে ৷ প্রাক চৈতন্য পর্বে দৈবতার মহিমাকীর্তনই ছিল সাহিত্যের উদ্দেশ্য ও পরিধি ৷ চৈতন্যপ্রভাবে তা 'দেবতাকে প্রিয় করি প্রিয়রে দেবতা' হয়েছে ৷ প্রাক চৈতন্যপর্বের ভক্তিভাবের তুলনায় ঐশ্বর্যভাবের প্রাধান্য ছিল ৷ চৈতন্যপ্রভাবে ভক্তিরস বাংলা সাহিত্যকে অাপ্লুত করেছে ৷ প্রকৃতপক্ষে চৈতন্যদেবের প্রভাবেই বাংলা সাহিত্য মানবতাবাদের জয় ঘোষিত হয়েছে ৷ চৈতন্যপ্রভাবিত অধ্যাত্মভাব ও জীবনাবেগ সৃষ্টির জন্যই বৈষ্ণব কবিদের হাতে বাংলা ভাষা সূক্ষ্ম অনুভূতি ও বিচিত্রভাব প্রকাশের যোগ্য হয়ে ওঠে ৷

1 view0 comments

Коментарі


Be Inspired
bottom of page