top of page

#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্যদেব ৷" (#পর্ব_চার_পোষ্টনং_১৫)"


#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্যদেব ৷"

(#পর্ব_চার_পোষ্টনং_১৫)"


#চৈতন্যদেবের_অাবির্ভাবে

বৈষ্ণবপদাবলীতে গভীর ছাপ পড়েছিল ৷ প্রাক-চৈতন্যযুগে মানব-মানবীর পার্থিব প্রেমই ছিল রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলীর মূল ভিত্তি ৷ কিন্তু চৈতন্যদেবের অাবির্ভাবের পর পার্থিব মানব-মানবীর প্রেম পরিণত হয় অপার্থিব রাধাকৃষ্ণ লীলায় এবং নব-জন্মান্তর ঘটে সমগ্র পদাবলী সাহিত্যের ৷ শুধু তাই নয় 'গৌরচন্দ্র' অর্থাৎ মহাপ্রভুকে নিয়েও রচিত হয় পদাবলীর দু'টি বিশেষ শাখা-'গৌরচন্দ্রিকা' ও 'গৌরপদাবলী' বা গৌরাঙ্গ-বিষয়ক পদ ৷ এই পদগুলি বৈষ্ণব-সাহিত্যে এক ব্যপকতর ও সূক্ষ্মতর পরিবর্তন দেখা যায় ৷

#অাধুনিক_কালের(১৮০০ খ্রীঃ)

অাগেকার বাঙলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব জীবনী-কাব্য নয়,মঙ্গলকাব্য নয়, নানা পৌরাণিক কাব্যও নয়-সে গৌরব বৈষ্ণব গীতিকবিতা বা 'পদাবলী' সাহিত্য ৷ সম্ভবত গীতিকবিতাই বাঙালী প্রতিভার নিজস্ব প্রকাশ পথ ৷ 'চর্যাপদ' থেকে অাধুনিক কালে রবীন্দ্রনাথ বা রবীন্দ্রোত্তর কাল পর্যন্ত বাঙলা সাহিত্যের প্রধান পরিচয়-বাঙালীর গীতি-কবিতা ৷ বৈষ্ণব-গীতি কবিতার ধারাও সেই কবি-জয়দেব-বিদ্যাপতি-চণ্ডিদাস থেকে অারম্ভ করে একেবারে রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর অনুজদের কাল পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন ধারায় প্রবাহিত ৷ অবশ্য;-পদাবলীর প্রধানতম বিকাশের কাল ছিল চৈতন্যদেব যুগের (১৫০০-১৭০০ খ্রীঃ) শতাব্দীতে ৷ কৃষ্ণ-লীলা অবলম্বন করে গীতিকবিতা রচনা চলেছিল অনেকদিন থেকেই,বিশেষত ভারতের এই প্রাচ্যমণ্ডলে গৌড়ে-মিথিলায় ৷ মধ্যযুগের বাঙলায় সেই গীতিকাব্য কিছু কিছু রচনা হয়েছিল জয়দেবের অনুকরণে সংস্কৃতে, কিছু খাঁটি বাঙলায়-চণ্ডীদাসের ধারায় ৷ কিন্তু বেশীর ভাগ বৈষ্ণব পদই রচিত হয় একটি মিশ্র ভাষায়,'ব্রজবুলিতে'৷

এই ধারার মূল উৎস বলা যায় মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে ৷ ব্রজবুলি যে অাসলে ব্রজভূমির ভাষা নয়,মূলত মৈথিল ও বাঙলা মিশ্রিত ভাষা ৷ অার তার সঙ্গে এখানে ওখানে ব্রজবাসী বৈষ্ণব মহাজনদের প্রভাবে মিশ্রিত হয়েছে এক-অাধটি ব্রজভাষার শব্দ ৷ ব্রজবুলির মতো ভাষার উদ্ভব হল মৈথিল ভাষার কবি বিদ্যাপতির রাধাকৃষ্ণ লীলার গীতিসমূহ থেকে ৷

#ভক্ত_কবি_জয়দেবের পরে পূর্ব ভারতে বিদ্যাপতির (পঞ্চদশ শতকে মিথিলায় জন্ম বিদ্যাপতির)মতো কবি মনে হয় অার জন্মান নি ৷ নিজের মৈথিল ভাষায় তিনি রাধাকৃষ্ণ লীলার পদ রচনা করেন ৷ মিথিলা সেই সময়ে ন্যায়ের প্রধান পাঠকেন্দ্র ৷ বাঙালী ছাত্ররা সেখানে ন্যায় অধ্যয়ন করতে যেতেন, বিদ্যাপতির পদাবলী শুনতেন,মুগ্ধচিত্তে স্বদেশে তা নিয়ে ফিরতেন ৷ দেখতে দেখতে বিদ্যাপতির পদ তাই বাঙলায় বিস্তৃত হয় ৷ শ্রীচৈতন্যদেবের সমকালেই মিথিলার কবি বাঙলার কবি বলেই বাঙালীর কাছে পরিচিত হয়ে গিয়েছিলেন৷

বিদ্যাপতির রাধাকৃষ্ণ-প্রেমের মৈথিল পদসমূহ যে মৈথিলীতে রচিত তাও পরে অার কেউ মনে করেন নি ৷ বিদ্যাপতির রচনা মাধুর্যে অাকৃষ্ট হয়ে বিদ্যাপতির অনুকরণে বাঙালী পদকর্তারাও অনুরূপ ভাষায় পদ-রচনায় মেতে উঠলেন-স্বয়ং কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এই ভাষার মাধুর্যে অাকৃষ্ট হয়ে ব্রজবুলিতে লেখেন 'ভানুসিংহের পদাবলী' ৷ বাঙালীর লিখিত এই অনুকৃত কাব্যভাষায়ও যে বাঙলা ভাষার প্রভাব পড়বে তা স্বাভাবিক ৷ কিন্তু তবু এ ভাষা যে খাঁটি বাঙলা নয়,তা সকলেই বুঝতেন ৷ মৈথিলী ভাষা অপরিচিত বলে সাধারণ লোকে মনে করে নিলেন এই বিদ্যাপতির পদের ভাষাই ব্রজভূমের ভাষা,রাধাকৃষ্ণের শ্রীমুখের ভাষা ৷ তাই এর নামকরণ হয় 'ব্রজবুলি' অর্থাৎ বৃন্দাবনের ভাষা ৷ কিন্তু ব্রজবুলি অাসলে মৈথিলী-বাঙলা মিশানো একটি কাল্পনিক ভাষামাত্র ৷ তাই বিদ্যাপতি বাঙালী বৈষ্ণব সমাজে বৈষ্ণব-ভক্ত বলেই শুধু গণ্য হন নি, বাঙালী তাঁকে বাঙলার কবি বলে জানত ৷ অার যিনি বাঙলার এত বড় এক কাব্যধারার জন্মদাতা তাঁকে বাঙলা সাহিত্যের অাপনার বলা নিশ্চয়ই সমুচিত ৷ (জয় মহাপ্রভু)

0 views0 comments

Comments

Couldn’t Load Comments
It looks like there was a technical problem. Try reconnecting or refreshing the page.
Be Inspired
bottom of page