top of page

#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্যদেব ৷ (#পর্ব_পাঁচ_পোষ্ট_২০)


#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্যদেব ৷

(#পর্ব_পাঁচ_পোষ্ট_২০)


#চৈতন্যদেবের_ভগবত্তা_ঘোষণা-


#চৈতন্যদেব_যখন মাতৃগর্ভে তখন থেকেই শুরু হয়েছে চৈতন্য জীবনীকারদের এ ধরণের অাধি-দৈবিক প্রচেষ্টা;—

"এইমত ব্রহ্মাদি-দেবতা প্রতিদিনে ৷ গুপ্ত রহি ঈশ্বরের করেন স্তবনে॥ শচীগর্ভে বৈসে সর্ব্ব-ভুবনের বাস ৷ ফাল্গুনী-পূর্ণিমা অাসি হইলা প্রকাশ॥"

(চৈ;ভা;অাদিখণ্ড)

অার এক প্রসিদ্ধ চৈতন্য জীবনীকার কৃষ্ণদাস কবিরাজ(কবিরাজ গোস্বামী) সেই পরম বৈষ্ণবের কলমেও সেই-একই অাধি-ভৌতিক ও অাধি-দৈবিক ঝড়ে পড়েছে:—

"চৌদ্দশত ছয় শকে শেষ মাঘ মাসে ৷ জগন্নাথ-শচী-দেহে কৃষ্ণের প্রবেশে॥ শচী কহে মুঞি দেখো অাকাশ উপরে ৷ দিব্যমূর্ত্তি লোক অাসি স্তুতি যেন করে ॥

(চৈ;চ; অাদিলীলা ) এইভাবে বৃন্দাবন দাস,মুরারি গুপ্ত, কৃষ্ণদাস কবিরাজ, জয়ানন্দ দাস, বাসু ঘোষ,লোচন দাস, প্রভৃতি জীবনীকাররা চৈতন্যদবকে হয় ঈশ্বর,অাবার কোথাও ঈশ্বরের অবতার ভুক্ত করেছেন ৷ শুধুমাত্র চৈতন্য ভাগবতেই চৈতন্যদেবকে সুস্পষ্ট ভাবে পনের বার কৃষ্ণ বলা হয়েছে, পয়ারগুলি- ১/১/১০৬, ১/১/১২৫, ১/২/৭৯, ১/৮/২৬২, ১/৮/২৮৫, ১/৯/২৪৩, ১/১০/৪, ২/২/৪৮-৫৩, ২/৯/২৮৭, ২/২২/১৪, ২/২৩/২৬২, ২/২৩/২৮৫, ২/২৪/১৫, ৩/১০/১৭০ , ও, ৩/১০/৩৭৩, এবং চৈতন্য ভাগবতে অন্তত চল্লিশ বার চৈতন্যদেবকে নারায়ণ,বৈকুণ্ঠনাথ, লক্ষীনারায়ণ প্রভৃতি বাক্যে স্তুতি করা হয়েছে ৷ ভক্ত যদি তার ভক্তিস্পদ অতিমানবকে ভগবান বা তার অবতার রূপে বিশ্বাস করেন, ও প্রচার করেন,সেক্ষেত্রে তাঁর ভক্তিজনিত কল্পনা বাস্তবের চেয়েও সত্য ৷

কবিরাজ গোস্বামী তার চৈতন্যচরিতামৃতের মধ্যলীলায় তাঁর সেই অতিশয় সত্য কথাটি লিখেছেন:—

"অাদ্যোপান্ত চৈতন্যলীলা অলৌকিক জান ৷ শ্রদ্ধা করি শুন ইহা সত্য করি মান॥"

কবিরাজ গোস্বামীর এধরণের উপদেশ চৈতন্যদেবকে ঈশ্বর বা ঐশ্বরিক অবতার ধরে নেওয়ায় কোন বিতর্ক থাকতে পারে না ৷ অতঃপর দেখা যাক চৈতন্য ভাগবতে কমপক্ষে তেরো জায়গায় চৈতন্যদেবের নানা রূপের অলৌকিক বর্ণনা রয়েছে, একেবারে অাধিভৌতিক ব্যাপার ৷ কখনও দু'হাতধারী মানুষ চৈতন্য ছ'হাতধারী এক অতিমানুষে পরিণত হয়েছেন, কখনো বা ভয়ংকর রূপধারী দৈত্যে, কখনো বা তীক্ষ্ম দাঁতঅলা শূকর রূপে, অাবার কখনো মা কালী বা জটাজুট ধারী দিগম্বর শিবরূপে, সেই সব রোমহর্ষক চৈতন্যভাগবতের স্থানগুলির বিবরণ যথা:—(এক) মা শচীদেবীর কাছে চৈতন্যদেবের কৃষ্ণরূপ প্রকটন, ২/৮/৬৩-৬৬, (দুই) মুরারি গুপ্তের কাছে বরাহ রূপ প্রকটন, ২/৩/১৮-২৪, (তিন) মাধায়ের কাছে চতুর্ভুজ প্রকটন, ২/১০/১৯৩-৯৫, (চার) চন্দ্রশেখর অাচার্যের ঘরে রূক্মিনী-অাদ্যাশক্তি-রূপ প্রকটন, ২/১৯,(পাঁচ) অদ্বৈতাচার্য ও নিত্যানন্দের কাছে বিশ্বরূপ প্রকটন,২/২৩/৪৭-৬০ (ছয়) সার্বভৌম ভট্রাচার্যের কাছে ষড়ভুজ প্রকটন,৩/৩/১০১-২, (সাত) শ্রীধর পণ্ডিতের কাছে কৃষ্ণ বলরাম রূপ প্রকটন, ২/৯/১৯০-৯৫, (অাট) শ্রীবাস পণ্ডিতের কাছে নৃসিংহ রূপ প্রকটন, ২/২/২৫-৫৯, (নয়) অদ্বৈতাচার্যের কাছে অপূর্ব কৃষ্ণরূপ প্রকটন, ২/৫/৭৪, (দশ) শিবের গায়েনের কাছে শিব-রূপ প্রকটন, ২/৮/৯৫-১০১, (এগার) মুরারি গুপ্তের কাছে রাম-লক্ষণ-সীতা রূপ প্রকটন, ২/১০/৬-১০,

(বারো) নিত্যানন্দের কাছে ষড়ভুজ রূপ প্রকটন, ২/৫/৮৮-৯০, এবং (তেরো) তৈর্থিক নামক বিপ্রের কাছে কৃষ্ণ-রূপ প্রকটন, ১/৩/২৬৩-৭০ প্রভৃতি ৷ এরকমভাবে প্রায় সকল চৈতন্য জীবনীকারদের গ্রন্থে চৈতন্যদেবকে অল্প-বিস্তর অতি-ভৌতিক, অাবার কোথাও কোথাও বা অতি শাক্তিক পরিণত করা হয়েছে, অর্থাৎ তিনিই 'সর্ব ও সর্বজ্ঞ', তিনিই 'যয়া-ত্বয়া জগৎশ্রষ্ঠা জগৎপাতাত্তি যো জগৎ' ৷

বাঙালি-বাঙলা তথা অাসমুদ্র হিমাচল ভারতবাসীরকাছে অবতারের স্বীকৃতি পেয়েছেন শ্রীচৈতন্যদেব ৷ জনমনে কোথাও তিনি ঈশ্বর সাদৃশ্য, অাবার কোথাও তিনি স্বয়ং ঈশ্বর ৷ জন্মগ্রহণের পাঁচশতাধিক বছর পরেও লোকায়ত জনজীবনে তিনি একই অাসনে অাসীন ৷ তাঁর জীবন-চরিতে যা কিছু অলৌকিক, অাধি-দৈবিক সবই অাজ লৌকিক বলে স্বীকৃত ৷ কিন্তু কেন ? কোন ক্ষমতা বলে চৈতন্যদেব জনমানসে এমন দীর্ঘাতিদীর্ঘ প্রভাব রেখেছেন ? এর সহজ উত্তরঃ—"একটি বাড়ির বুনিয়াদ(ভিত) যদি পাকাপোক্ত হয়,শক্ত হয় তাহলে তার দীর্ঘ স্থায়িত্বে কোন অন্তরায় থাকে না,তখন প্রাকৃতিক ঝড় ঝাপটাও সে সহ্য করবার ক্ষমতা ধরে ৷ তেমনি মানুষের জীবনেও এই একই নিয়ম ৷ মানুষ চৈতন্য অকস্মাৎ একদিনে ঈশ্বর চৈতন্যদেবে রূপান্তরিত হননি, তাঁর প্রাক-জন্ম মূহুর্ত থেকেই ঈশ্বরপ্রাপ্তির ভিত ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল ৷ (জয় মহাপ্রভু)

0 views0 comments

コメント


Be Inspired
bottom of page