top of page

"#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্যদেব ৷" (#পর্ব_০৪_চলবে)


"#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্যদেব ৷"

(#পর্ব_০৪_চলবে)





"(#পর্ব_দুই,#পোষ্টনং_০৪)"


#সমাজ_সংশোধনের_প্রক্রিয়া

দুই ধারা ৷ এক-বাহ্যিক ধারা ৷

দুই-অভ্যন্তরিণ ধারা ৷


#বাহ্যিক_ধারার_কথা:—সমাজের যেখানে যেখানে কলুষতা,গ্লানি,দুর্নীতি সেখানে সেখানে উপযুক্ত সংশোধনাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করে,সমাজ গ্লানি মুক্ত করার প্রক্রিয়া হল প্রথম পর্য্যায়ের,এ কাজ প্রধানতঃ এবং প্রথাগতভাবে রাজা,রাজকর্মচারী অথবা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জনপ্রতিনিধিগণেরই করণীয় ৷ কিন্তু তাঁরাও তো মানুষ,তার উর্দ্ধে কিছু নন,তাই তাঁদেরকে নিয়ে সমাজের গ্লানি অপসারণে তখন পূর্ণ ভূমিকায় প্রকটিত হন সার্থক সমাজ সংস্কারক ৷ এ গেল বাহ্যিক ক্ষেত্রে সমাজ পরিবর্তন ৷ এক্ষেত্রে অাইনী বা শাস্তির ভয়ে অাপাতত সংশোধিত বা পরিবর্ত্তিত মানুষজন অাবারও কলুষতানুকুল পরিস্থিতির ব্যবহারে এবং অাপন স্বভাবজাত কারণে দুর্নীতি পরায়ণ হতে পারেন ৷ বাহ্যিক সমাজ সংশোধনের প্রাঙ্গনে এই এক বিরাট ফাঁক বা ত্রুটি ৷ তাই সমাজবিজ্ঞানীগণের চিন্তাভাবনায় এই প্রক্রিয়া সার্ব্বিক বা সর্ব্বাত্মক নয় ৷

#এবার_সমাজের_অভ্যন্তরিণ ক্ষেত্রের পরিবর্ত্তনের কথা:— মানুষ দুর্ব্বার কুবাসনা স্বার্থন্ধতায় মোহগ্রস্ত হয়েই দুর্নীতির অাশ্রয় নেয় ৷ দুর্ব্বাসনা বা স্বার্থসিদ্ধি বাসনা জাগে তার মনে ৷ তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে তার দুষ্ককর্মের মধ্য দিয়ে সমাজের নানান ক্ষেত্রে ৷ অতএব বিষয়টি মানসিক,মন অন্তরেন্দ্রিয় ৷ তাই বিষয়টিকে অান্তরিক বা অভ্যন্তরিণ বিষয়ও বলা যেতে পারে ৷ সুনির্দিষ্ট বা সুচিহ্নিত সেই বিশেষ মানব তখন মানব মনকে বুঝতে পারে এবং কলুষমুক্ত করার প্রজত্নে যত্নশীল হন ৷ সত্য-ন্যায়-শুভ-মঙ্গলময়ী কামনা নিয়ে পরম-প্রেম-পূর্ণ ব্যবহারে মানুষের কাছে গিয়ে মানুষকে প্রভাবিত করবার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন ৷ তাঁর প্রীতিতে-মাধুর্য্যে-সহজ-সরল মানবীয় ব্যবহারে মানব মন অালোড়িত হয় ৷ স্বাভাবিকভাবেই

কলুষিত চিত্তবৃত্তি হেতু স্বার্থসিদ্ধিতে মস্তবড় প্রতিবন্ধকতা রচিত হয়,তখন এক শ্রেনীর কাম প্রতিহত হলে ক্রোধ উৎপন্ন হয় ৷ অার সেই ক্রোধ পুঞ্জীভূত হয়ে সুচিহ্নিত মহামানবের শরীরে অাঘাত হানে ৷ মানব ইতিহাসে এ বড় কালিমালিপ্ত এবং বেদনাদায়ক অধ্যায় ৷ কিন্তু মহামানব তো মানব দরদের মূর্ত্ত বিগ্রহ ৷ মানব কল্যানার্থে তাঁর জীবন তো উসসর্গকৃত ৷ তাই এই জাতীয় অাঘাত বা রক্তপাতে মহামানবের অভিযান স্তব্ধীভূত হয় না ৷ বরঞ্চ অারও বলবতী ও বলয়সী হয় ৷ তখন ক্রমে ক্রমে অাঘাতকারীদেরও মন-প্রাণ গলতে থাকে ৷ তাঁদের মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করতে থাকে, যার ফলস্বরূপ তাঁদের মনে জাগে অনুশোচনা ৷ অনুশোচনার অঙ্গারে জ্বলতে থাকা হৃদয় জুড়ানোর রাস্তা তাঁরা খুঁজতে থাকে ৷ তখন মহামানবের পরশে ক্রমে নমনীয় হতে থাকে তাঁরা ৷ নিজেকে সোঁপে দেন সেই মহামানবের কাছে ৷ একসময় তাঁদের তথা সমাজের প্রতিটি মানুষের মনে-প্রাণে মানবীয় গুণের ছোঁয়া লাগে ৷ "পরশমণির পরশে লোহা যেমন সোনাতে পরিণত হয়, তদ্রুপ মহামানব-পরশমণির সংসর্গে কলুষিত মানব-মন-বিজ্ঞানসস্মতভাবে ধীরে ধীরে সবার অলক্ষে প্রকৃত মানবতত্ত্বগুণে সোনাতে রূপান্তরিত হয়" ৷ সময়ান্তরে মানব মনে পূর্ণ মানবত্ব জাগ্রত হয় ৷ #মহামানবের_কাজ_কিন্তু চলতেই থাকে ৷ সেই মহামানব এরপর জীবপ্রীতি বা মানবপ্রীতির মনস্তাত্বিক অর্থাৎ ঈশ্বর প্রীতির সঙ্গে মানব মনকে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন ৷ সমর্পিত প্রাণ পেয়ে এই অতিমানবীয় কাজটি তিনি সুসম্পন্ন করতে থাকেন ৷ অার স্বাভাবিকভাবেই তিনি কৃতকার্য্য হ'ন ৷ সমাজ তখন দেবতুল্য মানবে সুশোভিত হয় ৷ অার মানুষের অন্তর কলুষ মুক্ত হয়ে গেলে অাপনা হতেই সমাজের সর্বক্ষেত্রে নিষ্কলুষতা প্রতিভাত হয় ৷ সামগ্রিক বা সর্বাত্মকভাবে তখনই সমাজ সংশোধিত কলুষমুক্ত বা গ্লানিশূন্য হয় ৷ শুধুমাত্র বাস্তববোধ দিয়ে কোন কালে,কোন যুগে এই অত্যাশ্চর্য্য কর্মযজ্ঞ সম্পাদিত হয়নি ৷ গূঢ়ভাবে তাকালে দেখতে পাব, এটা সম্ভব হয়েছে মানবের মন দিয়ে ভাব-রাজ্যে প্রবেশ করে তা বিলোড়িত করতে পারলেই ৷


#তাই_ইতিহাস_বলছে সর্বস্তরের

মানব মনের অভ্যন্তর স্থিত ভাব-রাজ্যে অালোড়ন তুলেছিলেন যে মহামানব,অতিমানব বা লোকোত্তর মানব তিনি #চৈতন্যদেব ৷ তাই তাঁর এই অান্দোলনকে ভাবান্দোলনও বলা হয় ৷ ভাব দিয়ে ভাব রাজ্যে প্রবেশ করে ভাব সমুদ্রে ঢেউ তোলা ৷ এ অতি অসাধারণ কাজ ৷ অার অতি অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ছাড়া এই অতি অসাধারণ কাজ অসম্ভব ৷ তাই ঐতিহাসিক তথ্যের থেকেও গৌড়ীয়-বৈষ্ণব সাহিত্যে,ইতিহাসে এবং দর্শনে মূলতঃ স্থান পেয়েছে ভাবের কথা বা ভাবলোচনা ৷ সর্বত্রই ভাবের ছড়াছড়ি ৷ এই ভাবের সামর্থ্যে সন্দেহ করার কোন অবকাশ নাই ৷ তার কারণ, একমাত্র ভাবই পেরেছে অাজ থেকে প্রায় পাঁচ শতাব্দী অাগে কল্মষক্লিষ্ট মানুষকে, শুধু মানুষই নয় সস্মানীয় বৈষ্ণবাচার্য্যে রূপান্তরিত করতে ৷ যার ব্যপ্তি ঘটেছিল সমগ্র বঙ্গে তথা ভারতবর্ষে ৷ অার এখন ঘটছে সমগ্র বিশ্বে ৷ নিরন্তর তার ব্যপ্তি ঘটে চলেছে ৷ তখন তার উদাহরণ ছিল "জগাই-মাধাই", "চাঁদ কাজী","ডাকাত", "উগ্রক্ষত্রিয়", "জলদস্যু" ইত্যাদি ইত্যাদি, এখন তো অগণিত-অসংখ্য ভবিষ্যত হয়ত অারও অারও ৷

* * * * *

* * *

2 views0 comments

Comments


Be Inspired
bottom of page