top of page

#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্যদেব !️ (#পর্ব_২—চলবে)


#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্যদেব !️

(#পর্ব_২—চলবে)




"(#পর্ব_এক_পোষ্টনং_০২)"


"#চৈতন্যযুগের_চৈতন্যময় অান্দোলন অাপামর বাঙালীজনের মধ্যে পরিব্যাপ্ত সর্বাত্মক বৈপ্লবিক চেতনার প্রথম এবং সার্থক উন্মেষ ৷ " বাঙালির হিয়া অমিয় মথিয়া নিমাই ধরেছে কায়া " সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত যথার্থই বলেছেন ৷ তবে বাঙালির অসীম বেদনা মন্থন করেও চৈতন্যসম্ভব ঘটছিল ৷ অার্যাবর্তের হাতে অাক্রান্ত,ইসলামের হাতে অাক্রান্ত, পুরুষতান্ত্রিকতার হাতে অাক্রান্ত, বিস্মৃতির হাতে অাক্রান্ত,নালন্দা বিক্রমশীলা পুড়ে যাওয়ার অাগুনে অাক্রান্ত,মধ্যযুগের অনিবার্য মহাঝঞ্ঝায় অাক্রান্ত বাঙালির বেদনা,বাঙালির ক্রমশঃ কোনঠাসা হয়ে যাওয়ার বেদনা, এভাবে অনেক বেদনার বারুদ একসঙ্গে জমে চৈতন্য বিস্ফোরণ ঘটেছিল ৷ তাই সাংখ্য অাশ্রিত গীতার সেই শ্লোক বারবার স্মরণ করি—"' যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত ৷ অভ্যুথ্বানম্ধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্॥ পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুস্কৃতাম্ ৷ ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে॥"

#ইতিহাস_বলছে , বাঙালী চিত্তের বহু বহু শতাব্দী ধ'রে সঞ্চিত ক্লেদকলুষকে হরিচরণাশ্রিত প্রেমের বণ্যায় ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল অমিত সুদর্শনতনু ও বিশাল পুরুষাকারসম্পন্ন এই জনগণমন—অধিনায়কের বিপ্লব"'*৷ #বাংলার প্রথম এই রুদ্রসম—তেজস্বী মহাবিদ্রোহীর কণ্ঠেই সার্থক উদ্ গীত হয়ে উঠেছিল যুগ যুগ ব্যাপী লাঞ্ছিত, নিপিড়ীত ও অবহেলিত মানবাত্মার প্রতিবাদের ভাষা—নাম—সংকীর্তন"'*৷ '#কায়েমি স্বার্থ—সর্বস্ব বিরুদ্ধবাদীদের সকল অাপত্তির কোলাহলকে ছাপিয়ে , অত্যাচারী শাসকের সকল নিষেধাজ্ঞাকে স্তম্ভিত ক'রে, অাকাশ—বাতাস মুখরিত হয়ে উঠেছিল বাংলায় প্রথম এই সার্থক সাম্যের গান"'*৷~~~~~~ ~~~~~~*"'#ইতিহাস স্বীকার করেছে , তথাকথিত বাঙালী জাতিকে অধঃপাতে তলিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষার জন্য যেমন "কোমলে কোমল ও কঠোরে কঠোর" এক মহামানবের প্রয়োজন ছিল , অভাবিত ভাবেই , তেমনই এক কল্পনাতীত মহামানবিক সত্তা নিয়েই অাবির্ভূত হয়েছিলেন এই প্রথম সমাজ—সংস্কারক;— **"'#তদানীন্তন_বিদ্যাজীবী ভক্তগণ বহু শাস্ত্রীয় প্রমানাদির সম্ভারে শ্রীভগবানের লীলাবিগ্রহরূপে তাঁর অাবির্ভাবের সেই বিশাল বিশ্বাসকে যুক্তিগ্রাহ্য করে তুলতেও প্রয়াসী হয়েছিলেন ৷ এর উপরে ছিল সত্যাশ্রয়ী মহাপ্রভুর স্ব—মুখেই পরিব্যক্ত অাত্মতত্ত্ব—"' মুঞি কৃষ্ণ মুঞি রাম মুঞি নারায়ণ"'***৷~~~~~~~ ***"'#এই_যুগে যজ্ঞাদি বৈদিক ক্রিয়াকর্মে নয় , কেবলমাত্র "হরে কৃষ্ণ হরে রাম" নামগানেই জীবের মুক্তি—শ্রীমন্মহাপ্রভু কণ্ঠে উদ্ গীত হয়ে উঠেছিল এই মহামন্ত্র"'***~~~~~ ~~~***"' #তাঁর_সময়কাল থেকে অদ্যাবধি সকল ভক্তের হৃদয়ে পরম চৈতন্যোদ্দীপক এই মহামণ্ত্রটির প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত বিশ্বাসের অালো এমনই অবিশ্বাস্য প্রাখর্যে অাকীর্ণ হয়ে অাছে যে , *সহস্র নিরীশ্বরবাদের তিরস্করণীতেও তা অাবৃত করা যায়নি ৷*—'পরং বিজয়তে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনম্'৷ ~~~~~~~~~~~~~~ ***"'#শ্রীগৌরাঙ্গসুন্দরের অধ্যাত্ম—সাধনার অনুসারী সাধক—গবেষকগণ অাজও স্বীকার করছেন যে , পাঁচশো বছরেরও অাগে এই বঙ্গে শ্রীমন্মমহাপ্রভুর পদচারণা সত্যই এক অপূর্ব সংবাদ , একটি অলৌকিক ঘটনা , একটি অদৃষ্টপূর্ব মহাসত্যের অবতরণলীলা"'***~~~~ ~~***"' #শুধু_বঙ্গ_নয় , ভারতবর্ষের একটি বিরাট ভূখণ্ডের মানুষ সেই যেন প্রথম দর্শন করল স্বয়ং শ্রীভগবান্কে , প্রত্যক্ষ করল অসীম ভগবত্তাকে , হৃদয় দিয়ে অনুভব করল অলোকসামান্য ঈশ্বরত্বের অনাস্বাদিতপূর্ব মধুরিমা ৷ তাঁর গুরুগণও তাঁকে গুরুরূপে বরণ করে ধন্য হলেন"'*** ৷ ~~~~~~

~~~~~~~~~~

***"'#যে_অন্ধ তমিস্রা , ভীরুতার গ্লানি বঙ্গভূমিকে তখন অাবিষ্ট করে রেখেছিল তাকেই অাঘাত করে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যের অভ্যুদয় হয়েছিল"'*** ~~~~~~~~~~ "'#ভারতভূমিতে হৈল মনুষ্যজন্ম যার ৷

জন্ম সার্থক করি,কর পর—উপকার"'॥

~~~~~***"'#শ্রীচৈতন্যদেব এক নব চেতনার উন্মেষ ঘটিয়েছিলেন ৷ যাঁরা ধর্মবিশ্বাসী নন, যাঁরা নাস্তিক তাঁরা ঈশ্বরকেন্দ্রিক জাগৃতিকে 'রেনেসাঁ' বলতে সন্মত নন ৷ তাঁরা মনে করেন যে শিল্প—কলা, মানুষের ইহ জীবনের চিন্তাধারায় প্লাবনের জোরে যে পরিবর্তন সেটিই হল 'রেনেসাঁ' ৷ এটি একদেশদর্শিতা ৷ ধর্মকে এবং ঈশ্বরকে কেন্দ্র করেও অাপামর জনগণের মনে চিন্তাপরিবর্তনের প্লাবন ঘটতে পারে , যা কর্মকে নিয়ন্ত্রিত করে এবং সেটিও অবশ্যই নবজাগৃতি বা "রেনেসাঁ"৷

শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য তাই ঘটিয়েছেন ৷ মানুষের মনের জড়তাকে কাটিয়ে তিনি প্রেমের প্লাবন এনে দিয়েছেন ৷ জীবে দয়া, ঈশ্বরে ভক্তি এবং সেই ভক্তি উদ্দীপনের জন্য নাম—সংকীর্তন—এরই উপর শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ধর্ম প্রতিষ্ঠিত"'***

~~~~~~~~~

#নগরে নগরে অাজি করিব কীর্তন ৷

সন্ধ্যাকালে সবে কর নগরমণ্ডন॥

সন্ধ্যাতে দেউটি যত জ্বাল ঘরে যরে ৷

দেখি কোন কাজী অাসি মোরে মানা করে ॥

~~~~~***"'#এই_যে_শাসনের বাধা না মানার অাহ্বান, এই বিদ্রোহ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যেরই শিক্ষা ৷ তিনি সেবা কর্কে নিমগ্ন হতে বলেছেন এবং বিধর্মীরা যে তীর্থসমূহ ভেঙ্গে দিয়েছে সেগুলিকে অাবার গড়ে তুলতে অাহ্বান করেছেন"'৷

~~~~~~~~~~~

***"'#শ্রীচৈতন্যদেব ১৪৮৬ খ্রীষ্টাব্দে নবদ্বীপধামে জন্মগ্রহণ করেন ৷ তাঁর বাবার নাম শ্রীজগন্নাথ মিশ্র এবং মায়ের নাম শচী দেবী ৷ কিন্তু জন্মের পাঁচশো (অধিক) বছর পরেও যাঁর প্রাসঙ্গিকতা বিন্দুমাত্র হ্রাস পায়নি সেই মহাপুরুষের জীবন সম্পর্কে এইসব বাস্তব তথ্যের চেয়ে অনেক বড় ভাব সত্য হল সমগ্র বাঙালী জাতির "হিয়া—অমিয় মথিয়া" তিনি কায়া ধরেছিলেন"'***

~~~~***"'#তাঁর_জীবনকালের পরবর্তী বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে সর্বব্যাপ্ত প্রভাব নিয়ে তাঁর উজ্বল উপস্থিতি ৷ অার সাধক অধ্যাত্ম—পথচারী বৈষ্ণব—জনেরা জানেন, "বরজ যুবতী—ভাবের ভকতি"—র মাহাত্ম্য নিজের জীবনে প্রকটিত করে তিনি যেমন "রাধার মহিমা, প্রেমরসসীমা" জগতে জানিয়ে গেছেন, তেমনই সেই দুর্লভ প্রেমসম্পদ অকাতরে বিণ করেছেন সর্বজনের মধ্যে , সমাজের উচ্চতম স্তরের থেকে "সবার পিছে, সবার নীচে" থাকা সর্বহারাদেরও,—তাঁর অাবির্ভাব তাই কলিতাপদগ্ধ জীবকুলের উদ্ধারকল্পে এক অসীম ঐশী করুণার অভিবর্ষণ ৷ তাই এই ঘরের ছেলের চোখে "বিশ্বভূপের ছায়া" দেখেছে বাঙ্গালী , বিশ্বাস করেছে , "গৌরাঙ্গ মধুর লীলা , যার কর্ণে প্রবেশিলা , হৃদয় নির্মল ভেল তার"***৷

~~~~~~~~***"'#এদেশের সুপ্রাচীন উদার ধর্মের যে স্বতঃস্ফূর্ত স্রোতোধারা প্রতিকুল রাজশক্তির অত্যাচার তথা বহুবিধ অারোপিত বিধি—নিষেধ অাচার—বিচারের পাষাণকায়ায় অবরুদ্ধ হয়ে নির্জীব ও মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল"'***৷তাকে—~~~~~~~~~~ খাইতে শুইতে যথা তথা নাম লয়

দেশ—কাল নিয়ম নাহি সর্বসিদ্ধি হয় ॥

~~~~***"'#এহেন_অশ্রুতপূর্ব বৈপ্লবিক উদ্দীপনায় সঞ্জীবন—মন্ত্র শুনিয়ে তার মধ্যে নতুন প্রাণশক্তির সঞ্চার করে গণজীবনের সর্বস্তরে তার বিস্তার ও প্রতিষ্ঠা ঘটিয়েছিলেন যিনি , এবং তারই ফলশ্রুতিস্বরূপ তাঁর প্রচারিত ধর্মের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নিজের নামটিও দেশে দেশে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে এমনভাবে পরিব্যাপ্ত হয়ে অাছে যে—

পৃথিবীতে যত অাছে নগরাদি গ্রাম ৷

সর্বত্র প্রচারিত হইবে মোর নাম॥

~~~~তাঁর এই উক্তিও অাজ বহুলাংশে বাস্তবায়াত হয়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে , সেই "রাধাভাবদ্যুতি—সুবলিত কৃষ্ণস্বরূপ"'***৷

~~~***"'শ্রীমদ্ভাগতের মুখ্য শ্লোক—"'এতে চাংশকলাঃ পুংসঃ কৃষ্ণস্তু ভগবান্ স্বয়ং"' ৷ অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণই স্বয়ং ভগবান"'***৷

~~~~~~~~~~

***"'গৌড়ীয় বৈষ্ণব মহাজনগণের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শ্রীকৃষ্ণই শ্রীচৈতন্যদেব ; তিনি "রাধাভাবদ্যুতি সুবলিত নৌমি কৃষ্ণস্বরূপম্"৷ অর্থাৎ শ্রীরাধা ও শ্রীকৃষ্ণের মিলিত তনুই শ্রীগৌরাঙ্গ বা শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য ৷ তিনিই "স্বয়ং ভগবান" ৷ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যই যে শ্রেষ্ঠ পরতত্ত্ব—সিদ্ধান্তের এই সুদৃঢ়তাই তাঁর কৃপাপ্রাপ্তির একমাত্র উপায় ৷ তাঁর নির্দেশিত ও অাচরিত "শ্রীশ্রীহরিনাম সংকীর্তন" অর্থাৎ—

"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে"

"হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে"॥—

এই নাম সাধ্য ও সাধন ৷ "নাম সংকীর্তন কলৌ পরম উপায়" অর্থাৎ কলিকালে একমাত্র হরিনাম সংকীর্তনই পারে জীবের স্বরূপ স্মৃতি জাগরিত করে মায়াবন্ধন ঘুচিয়ে "অকৈতব কৃষ্ণপ্রেম" দান করতে ॥ #নবজাগরণে_চৈতন্যদেবের অান্দোলন, চৈতন্যদেবের ভগবত্তা, চৈতন্যদেবের নীলাচল যাত্রা, দাক্ষিণাত্য ও উত্তরপশ্চিম ভ্রমনের স্বার্থকতা, চৈতন্যদেবের বৈষ্ণব অান্দোলন, বাংলায় চৈতন্যদেবের সামাজিক অবদান, বাংলা সাহিত্যে চৈতন্যদেবের অবদান,এবং বাংলায় কীর্তনগানের ক্ষেত্রে চৈতন্যদেবের অবদান এসবের ওপর অালোকপাত করলে বুঝা যায় যে ;- #বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_চৈতন্যদেব'ই ৷ *

* * * * *

* * *

#জয়_মহাপ্রভু !"

0 views0 comments

Comments


Be Inspired
bottom of page