top of page

#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_ চৈতন্যদেব ৷ (#পর্ব_০৫_চলবে)


#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক_ চৈতন্যদেব ৷

(#পর্ব_০৫_চলবে)





"#বৈষ্ণব_অান্দোলনে_চৈতন্যদেবের_অবদান;—

"(#পর্ব_তিন,#পোষ্টনং_৫)"


#বৈষ্ণব_অান্দোলনের_সূত্রপাত

মূলত চৈতন্যদেবের পূর্বে চণ্ডীদাস(১৪শ শতক) ও বিদ্যাপতির(অানু:১৩৭৪-১৪৬০) বৈষ্ণবপদ রচনার মধ্য দিয়ে ৷ চৈতন্যদেব(১৪৮৬-১৫৩৩)এতে নতুন মাত্রা যোগ করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে এটি একটি সামাজিক অান্দোলনে পরিণত হয় ৷ তখন এর নতুন নাম হয় গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্ম ৷ যা সাধারণভাবে বাংলায় বৈষ্ণবধর্ম নামে পরিচিত ৷ হিন্দু সমাজে ভগবৎপ্রেম ও ভক্তিবাদ অাশ্রিত বৈষ্ণবধর্ম চৈতন্যদেব উদার মানবপ্রেম ও সাম্যনীতির অাদর্শ যুক্ত করে একে একটি নব্য ভাববাদী ধর্মমতের রূপ দেন ৷ তিনি রাধাকৃষ্ণের জীবাত্মা-পরমাত্মার তত্ত্বকে গ্রহণ করে অচিন্ত্যদ্বৈতাদ্বৈতবাদের কথা বলেন ৷ শ্রীকৃষ্ণের হ্লাদিনী বা অানন্দদায়িনী শক্তির মানবীরূপ হচ্ছে রাধা ৷ সুতরাং মূলে উভয়ে অদ্বৈত, কিন্তু দেহরূপে দ্বৈত ; পুনরায় অদ্বৈত বা একাত্ম হওয়ার জন্যই তাঁরা মর্ত্যলীলা করেন ৷ প্রেম ও ভক্তি দিয়ে পরমাত্মাকে পাওয়া যায়; তাঁর সঙ্গে একাত্ম হওয়া যায় ৷ রাধাকৃষ্ণের প্রেমসাধনা একাত্ম হওয়ার সাধনা ৷ এজন্য তা 'দ্বৈতাদ্বৈত তত্ত্ব' নামে পরিচিত ৷ এ তত্ত্বের উপলব্ধি ও সাধনা সহজবোধ্য ও সহজসাধ্য বলে একে 'অচিন্ত্য' বলা হয়েছে ৷

#গৌড়ীয়বৈষ্ণব_ও_পূর্বের_বৈষ্ণব_ধর্মের_পার্থক্য;—

(১) গৌড়ীয়-বৈষ্ণবধর্মে রাধাকৃষ্ণই মূল; কিন্তু পূর্বের বৈষ্ণবধর্মে বিষ্ণুকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে ৷ চৈতন্য অাবির্ভাবের অাগেও কিছু ভক্ত কবি রাধাকৃষ্ণ লীলা রচনা করেছিলেন, তবে তা সীমাবদ্ধ ছিল ৷ (২) গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মে রাধাকৃষ্ণের মিলিত তনু হিসাবে শ্রীচৈতন্যদেবের ভজন করা হয়, অাগে যা ছিল না ৷ (৩) গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের মূল হল সংকীর্তন,যা অাগের তুলনায় অালাদা ৷

#বৈষ্ণবধর্মে কীর্তন প্রচলিত ছিল,চৈতন্যদেব পদযাত্রাসহ নামসংকীর্তন ও নগরকীর্তন প্রবর্তন করে এতে নতুন মাত্রা যোগ করেন ৷ ভক্তিভাবাশ্রিত নামসংকীর্তনে বৈষ্ণব অান্দোলন প্রাণবন্ত ও গতিশীল হয় ৷ এ কারণে বৈষ্ণব অান্দোলন ভক্তি অান্দোলন নামেও অভিহিত ৷ অাবার সার্বিকভাবে চৈতন্যদেবের অবদানের কথা স্মরণ করে একে চৈতন্য অান্দোলনও বলা হয় ৷ চৈতন্যদেবের এই অান্দোলনের প্রধান কারণ দুটি;- (১) স্বধর্ম ও স্বসমাজের সংস্কার সাধন এবং (২) শাসক শ্রেণির ছত্রছায়ায় ইসলাম ধর্মের ক্রমবর্ধমান প্রভাব রোধ করা ৷ চৈতন্যদেব এক দিকে বিরাজমান হিন্দু অভিজাতদের ম্লেচ্ছাচার রোধ করেন, অন্যদিকে নামসংকীর্তনের মাধ্যমে সর্বসাধারণকে নব্য প্রেমধর্মে সমান অধিকার দেন ৷ এভাবে চৈতন্যদেব উচ্চ ও নিম্ন বর্গকে অভিন্ন ধর্মাচরণ ও ভাবাদর্শে পরস্পরের কাছে এনে এক অাত্মীয়ভাবাপন্ন হিন্দু সমাজ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন ৷

#চৈতন্যদেবের_সময়ে_হিন্দু

সমাজের অবস্থা ছিল খুবই সঙ্কটজনক,সমাজে তখন বর্ণভেদ ও জাতিভেদ প্রথার কারণে অস্পৃশ্যতা, অস্পৃশ্যতার কারণে বৈষম্য এবং বৈষম্যের কারণে সামাজিক অনৈক্য বিরাজ করছিল ৷ উপরন্তু সতী প্রথা,কৌলীন্য প্রথা, বাল্যবিবাহ, জাতিচ্যুতি, প্রায়শ্চিত্ত ইত্যাদি সংস্কার হিন্দু সমাজকে নানাদিক থেকে অাড়ষ্ট করে রেখেছিল ৷ চৈতন্যদেব হিন্দু সমাজের এই অচলায়তন ভেঙে তাতে মানবতার নবপ্রাণ সঞ্চার করেন ৷

চৈতন্যদেবের কাছে কোনও জাতিভেদ,ধর্মভেদ বা বর্ণভেদ ছিল না ৷ তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে প্রচার করেন, কৃষ্ণভক্তদের মধ্যে কোনও জাতিকুল বিচার নেই, সবাই সমান ৷ বৈষ্ণব অান্দোলনের মূল শক্তি এখানেই নিহিত ৷ মধ্যযুগে বিভিন্ন বর্ণশ্রেণীতে বিভক্ত হিন্দু সমাজে চৈতন্যদেবের এই মতবাদ ছিল কল্পনাতীত ৷ তখন সমাজের উচ্চ ছিল ব্রাহ্মণ,অার নিম্নে ছিল শূদ্র ৷ ব্রাহ্মণ ও শূদ্রের সামাজিক সংস্কারের অধিকারে অাকাশ পাতাল পার্থক্য ছিল ৷ তুর্কি বিজয়ের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কারের কঠোরতা অারও বৃদ্ধি পায়, এরূপ অবস্থায় ব্রাহ্মণ সন্তান চৈতন্যদেব চণ্ডাল,মুচি,ম্লেচ্ছ,বৈশ্য,কায়স্থ,ব্রাহ্মণ সকল বর্ণের মানুরকে কৃষ্ণের প্রেমমন্ত্রে ডাক দিয়ে ঐক্যসূত্রে বাঁধার চেষ্টা করেন ৷ চৈতন্যদেব নিজে চর্চা করে অন্যকে শিক্ষা দিতেন ৷ চৈতন্যদেব জাতিভেদের কঠোরতা শিথিল করেন ৷ চৈতন্যদেবের কাছে শাস্ত্রের চেয়ে মানুষের জীবনের মূল্য ছিল অধিক ৷ চৈতন্যদেবের প্রেমভক্তিবাদে সমাজের সব স্তরের মানুষের সমাবেশ ঘটেছিল ৷ এতে সামাজিক সচলতার শক্ষণ প্রকাশ পায় ৷ সেকালের বর্ণবাদী হিন্দু সমাজের প্রেক্ষাপটে বৈষ্ণবরা এ ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক চেতনার পরিচয় দেন ৷

0 views0 comments

Comments


Be Inspired
bottom of page