top of page

#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক__ চৈতন্যদেব ৷ (#পর্ব_০৮_চলবে)


#বঙ্গে_নবজাগরণের_নায়ক__ চৈতন্যদেব ৷

(#পর্ব_০৮_চলবে)



~~~ #বৈষ্ণব_অান্দোলনে_চৈতন্যদেবের_অবদান;—

(#পর্ব_তিন,#পোষ্টনং_০৮)


#চৈতন্যদেবের_লেখা_বৈষ্ণব

ধর্মের ওপর কোন বই পাওয়া যায় না ৷ বৈষ্ণবধর্মের অাদর্শ কি,লক্ষ্য কি ? বৈষ্ণবদের অাচরণ বিধি কেমন হবে, বৈষ্ণব ভক্তির তাত্ত্বিক রূপটাই বা কী ? এসব ব্যপারে চৈতন্যদেবের লেখা প্রামাণ্য কোন তথ্য বা বই পাওয়া যায় না ৷ বৈষ্ণব ভক্তির তাত্ত্বিক রূপ বৃন্দাবনে পরিস্ফুট হয়েছিল, যাঁদের নিরন্তর চেষ্টার ফলে "গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্ম" একটা বিশিষ্ট ধর্মীয় মতবাদরূপে প্রতিষ্ঠিত হয় তাঁরা বৃন্দাবনের ছয় গোস্বামী রূপে অাজও বিখ্যাত ৷

#প্রথম_পর্যায়ে_বৃন্দাবনের_এই ষড়্ গোস্বামীর মধ্যে সনাতন ও রূপ দুই ভাই; বৈষ্ণব-ধর্ম প্রচারে তাঁরা জীবন উৎসর্গ করেন , বৈষ্ণব শাস্ত্র রচনাই হয়ে ওঠে তাঁদের জীবনের মহাব্রত ৷ এঁদের পাণ্ডিত্য ও প্রতিভায় গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্ম বৃন্দাবন থেকে রাজপুতনায়,পাঞ্জাবে,সিন্ধুদেশেও বিস্তার লাভ করে ৷ ভারতবর্ষের সঙ্গে বাঙালীর মানসিক যোগও এঁরা সুদৃঢ় করেন ৷ রূপ ও সনাতন বহু সংস্কৃত গ্রন্থের রচয়িতা ৷ সনাতন হরিভক্তিবিলাসেরও লেখক, অসামান্য পণ্ডিত,নিরভিমান ভক্ত ৷ রূপ গোস্বামীর ভক্তিরসামৃতসিন্ধু ও উজ্জলনীলমণি বৈষ্ণব রসশাস্ত্রের প্রধান গ্রন্থ ৷ এদের ভ্রাতুষ্পুত্র জীব বৃন্দাবনের তৃতীয় গোস্বামী,তিনি সংস্কৃতে বহু দার্শনিক গ্রন্থের প্রণেতা ৷ তাঁর প্রধান কীর্তি ষট্সন্দর্ভ ৷ অন্য তিনজন গোস্বামী গোপাল ভট্র, রঘুনাথ ভট্র, ও রঘুনাথ দাস ৷ এই তিনজন বৃন্দাবন পুনরাবিস্কার করেন, গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজের প্রতিষ্ঠা সেখানে অপ্রতিহত করে তোলেন,অার গোস্বামীদের রচিত বৈষ্ণব শাস্ত্রও বাঙ্লা দেশে প্রচারের ব্যবস্থা করেন ৷ বাঙালী বৈষ্ণব সমাজের কৃষ্ণলীলার দর্শন ও তত্ত্ব যোগান এই বৃন্দাবনের গোস্বামীরা ৷ সেই তুলনায় নবদ্বীপের ও শ্রীখণ্ডের চৈতন্য পূজারী ভক্তরা বাঙলা দেশে ততটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেন নি ৷

#দ্বিতীয়_পর্যায়ে_শ্রীনিবাস_নরোত্তম_শ্যামানন্দ প্রমুখ মহাজনেরা ষড়্ গোস্বামীর উত্তরাধিকার লাভ করেন ৷ এঁদের জীবনকাল ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণ, এঁদের প্রচারিত বৈষ্ণবধর্মে বাঙ্লা দেশ অাবার নতুন করে ভেসে গেল;হরিনাম সংকীর্তনে অার বৈষ্ণবদের মহোৎসবে দেশ গেল ছেয়ে ৷ বৃন্দাবনের গোস্বামীদের রচিত বৈষ্ণব ধর্ম গ্রন্থাবলী বাংলায় নিয়ে অাসেন শ্রীনিবাস অাচার্য,নরোত্তম দত্ত ও শ্যামানন্দ নামে এই তিনজন প্রভাবশালী বৈষ্ণব ৷ এঁরা এই বৈষ্ণব গ্রন্থগুলি প্রচারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় বৈষ্ণবদের নিয়ে মহোৎসব অনুষ্ঠানের অায়োজন করতে থাকেন ৷ এঁদের সবচেয়ে বড় মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছিল খেতুরীতে ৷ এই খেতুরী মহোৎসবেই বৃন্দাবনে গোস্বামীদের রচিত শাস্ত্রগুলি বাংলার বৈষ্ণব সমাজে বৈষ্ণব শাস্ত্র রূপে স্বীকার করে নেওয়া হয় ,অার বৈষ্ণবদের অাচার অাচরণ ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদির বিধিমালা নির্দিষ্ট করে গৃহীত হয় ৷

ঐতিহ্য অনুসারে খেতুরীতেই সুস্পষ্টভাবে বৃন্দাবনের গোস্বামীদের দ্বারা রচিত শাস্ত্র সর্ববৈষ্ণব গ্রাহ্য হয়েছিল ৷ রাধাকাষ্ণের যুগল মন্ত্রে চৈতন্যদেবের মূর্তিপূজার শুরু হয় ৷ এই দ্বিতীয় পর্যায়ের মহাজনদের পরেও বৈষ্ণব মহাজনদের অভূাব হয় নি ৷ পদ-রচনায়,জীবনী-রচনায়, ভক্তিধর্ম-প্রচারে তাঁরা বৈষ্ণব-সমাজ ও বাঙালী জাতিকে সমুজ্জ্বল করেছেন ; পাণ্ডিত্যে, সাহিত্য-সৃষ্টিতে,সাধনায় তাঁরা অনেকেই ছিলেন শ্রদ্ধাস্পদ মানুষ ৷

* * * * *

* * *

0 views0 comments

Comments


Be Inspired
bottom of page