top of page

রাধাভাবে ভোরা গোরা ৷(#পর্ব_০৪) ( ক্রমশঃ চলিবে )

Updated: Nov 24, 2020


রাধাভাবে ভোরা গোরা ৷(#পর্ব_০৪) (চলবে)


(#রায়_রামানন্দ_ও_মহাপ্রভু_____সংবাদ!)

#জ্ঞানশূন্যা ভক্তিতে—সেব্য-সেবকত্ব ভাব বা সেবাবাসনা থাকায় মহাপ্রভু রামানন্দকে বললেন—"এহো হয়"

তবু এর পরে কিছু থাকলে তা শুনতে চাইলেন ৷ তখন—

" #রায়_কহে—প্রেমভক্তি সর্ব সাধ্য সার ॥" (চৈ;চ;-২/৮)



#প্রেমভক্তি—প্রেমলক্ষণা ভক্তি ৷ প্রেম বলতে 'কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতিবাসনা' বুঝায় ৷ সাধন-ভক্তির অনুষ্ঠান করতে করতে ভগবৎ-কৃপায় চিত্তের মলিনতা দূর হলে সেব্য-সেবকত্ব জ্ঞানের উদয়ে ভক্তের সেবা-বাসনা প্রেমরূপে পরিণত হয় ৷ এই প্রেমরূপ সেবা-বাসনার সঙ্গে যে কৃষ্ণসেবা, তা-ই প্রেমভক্তি ৷

#মহাপ্রভু_বললেন—

প্রেমভক্তি সাধ্যবস্তু ঠিকই, কিন্তু এর পরেও বলবার বা শুনবার বস্তু আছে ৷ তখন—

#রায়_কহে—দাস্যপ্রেম সর্ব সাধ্য সার ॥" (চৈ;চ;)

#দাস্যপ্রেম—'ভগবান সেব্য, আমি তাঁর সেবক; ভগবান প্রভু, আমি তাঁর দাস'- এরূপ ভাবই দাস্যভাব ৷ আর দাস্যভাবজাত যে সেবাবাসনা— তাই দাস্যপ্রেম ৷ #কিন্তু_সকলেই শ্রীকৃষ্ণের দাস হলেও সেবাবাসনা অনুযায়ী দাস্যপ্রেম বিকাশেরও তারতম্য আছে ৷ শান্তভাবের ভক্ত যাঁরা তাঁদের কৃষ্ণের প্রতি নিষ্ঠা আছে, কিন্তু মমতা-বুদ্ধি নেই ৷ তাই শান্তভাব থেকে দাস্যভাব উন্নত ৷

#তাই_মহাপ্রভু_বললেন-

দাস্যপ্রেম সাধ্য ঠিকই ৷ কিন্তু কৃষ্ণের প্রতি মমতাবুদ্ধির আধিক্যহেতু আরও উৎকর্ষ সেবাবাসনার কথা শুনতে চাইলেন মহাপ্রভু ৷

তখন—


#রায়_কহে—সখ্যপ্রেম সর্বসাধ্য সার ॥(চৈ;চ;)

#সখ্যপ্রেম—প্রেমাধিক্যবশত যাঁরা শ্রীকৃষ্ণকে নিজেদের সমান বলে মনে করেন, কোনো মতেই নিজের থেকে শ্রেষ্ঠ মনে করেন না, তাঁদের প্রেমকে সখ্য প্রেম বলে ৷ এই প্রেমে শান্তের একনিষ্ঠতা, দাস্যের সেবা আছে ৷

#কিন্তু_দাস্যের_ন্যায় গৌরববুদ্ধি, সম্ভ্রম ও সেবায় সঙ্কোচ নেই ৷ এইজন্য এই প্রেম দাস্য অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ৷

#মহাপ্রভু_সখ্যপ্রেমকে সাধ্য বলে উত্তম বললেন, কিন্তু মমতাবুদ্ধির আধিক্য হেতু আরও প্রেমবৈচিত্রী ও উৎকর্ষময় সেবাবাসনার কথা শুনতে চাইলেন ৷ তখন—

#রায়_কহে—বাৎসল্য প্রেম সর্বসাধ্য সার ॥(চৈ;চ;)

#বাৎসল্য_প্রেম—যাঁরা

নিজেদেরকে শ্রীকৃষ্ণের গুরুস্থানীয় বলে মনে করেন এবং শ্রীকৃষ্ণকে তাঁদের অনুগ্রহের পাত্র বলে মনে করেন, তাঁদের রতিকে বাৎসল্য প্রেম বলে ৷ এই রতিতে সখ্য অপেক্ষাও মমতাধিক্য আছে ; কারণ নন্দ-যশোদাদি শ্রীকৃষ্ণকে তাড়ন, ভর্ৎসন, বন্ধনাদি করেছেন ৷ এতে শান্ত, দাস্য ও সখ্যের নিষ্ঠা, সেবা, সংকোচহীনতা ছাড়াও শ্রীকৃষ্ণকে পাল্য এবং নিজেকে পালক জ্ঞান আছে ৷ এজন্য সখ্য অপেক্ষা বাৎসল্য শ্রেষ্ঠ ৷

#মহাপ্রভু_বললেন—বাৎসল্য প্রেম উত্তম বস্তু, কিন্তু এর চেয়েও কিছু উত্তম থাকলে তা বল ৷ তখন—

#রায়_কহে—কান্তাপ্রেম সর্বসাধ্য সার ॥(চৈ;চ;)

#কান্তাপ্রেম—শ্রীকৃষ্ণকে প্রাণবল্লভ, আর নিজেদেরকে তাঁর কান্তা মনে করে স্বসুখবাসনাশূন্য হয়ে কেবল কৃষ্ণসুখৈক তাৎপর্যময়ী সম্ভোগ-লালসাকে কান্তাপ্রেম বলে ৷ #এখানে_কান্তা বলতে পরকীয়া ভাবাপন্ন ব্রজগোপীদের বুঝাচ্ছে ৷

#কান্তাপ্রেমে শান্তের নিষ্ঠা, দাস্যের সেবা, সখ্যের অসংকোচভাব, বাৎসল্যের লালন ও মমতাধিক্যের সঙ্গে কৃষ্ণের সুখের জন্য নিজাঙ্গ দিয়েও সেবা আছে ; এইজন্য কান্তাপ্রেম শ্রেষ্ঠ ৷

#তাছাড়া বাৎসল্য প্রেম বৃদ্ধি পেয়ে ' অনুরাগ 'পর্যন্ত যেতে পারে, কিন্তু কান্তাপ্রেম ভাব ও মহাভাব পর্যন্ত বর্ধিত হয় ; এইজন্য এইপ্রেম বাৎসল্য অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ ৷ তাই কান্তাপ্রেমই সেবা-বাসনার সর্বাতিশায়ী উৎকর্ষতা প্রাপ্ত হয়েছে ৷


#তটস্থ_হঞা_বিচারিলে_আছে_তরতম ॥ (চৈ;চ;)

#তটস্থ_হঞা_বিচারিলে—

নিরপেক্ষভাবে বিচার করলে বিভিন্ন ভাবের মধ্যে যে তারতম্য আছে, তা বুঝা যায় ৷


*#পরিপূর্ণ_কৃষ্ণপ্রাপ্তি_এই_প্রেমা__হৈতে ৷*

*#এই_প্রেমের_বশ_কৃষ্ণ_কহে____ভাগবতে॥*(চৈ;চ;-২/৮)

*#শান্তের_গুণ_দাস্যে , দাস্যের গুণ সখ্যে , সখ্যের গুণ বাৎসল্যে এবং বাৎসল্যের গুণ মধুরে বর্তমান ৷* এইভাবে শান্তের একটি গুণ, দাস্যের দুটি, সখ্যের তিনটি, বাৎসল্যের চারটি এবং মধুরের পাঁচটি গুণ ৷

অর্থাৎ গুণাধিক্যেও কান্তাপ্রেম সর্বশ্রেষ্ঠ ৷ যে রসে গুণ যত বেশি, সেই রসে স্বাদও তত বেশি ; তাই স্বাদাধিক্যেও কান্তাপ্রেমই সর্বশ্রেষ্ঠ ৷

#আকাশ,বায়ূ, তেজ, জল ও পৃথিবী—এই পাঁচকে পঞ্চভূত বলে ৷ শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধ—এই পাঁচটি পঞ্চভূতের পঞ্চগুণ ৷ এই পৃথিবীতে যেমন শব্দ,স্পর্শ,রূপ,রস আকাশাদির সমস্ত গুণই আছে, উপরন্তু পৃথিবীর বিশেষ গুণ আছে তেমনই কান্তাপ্রেমে শান্ত, দাস্য, সখ্য, বাৎসল্যের গুণ তো আছেই, উপরন্তু নিজাঙ্গ দিয়ে সেবাও আছে, তাই কান্তাপ্রেমের সেবাতেই শ্রীকৃষ্ণের পরিপূর্ণ সেবা এবং এই প্রেমেই শ্রীকৃষ্ণ সম্যকরূপে বশীভূত ৷।

14 views0 comments

Commenti


Be Inspired
bottom of page