top of page

*#রাধাভাবে ভোরা গোরা!* *(#পর্ব_২৩/৩চলবে)*


*#রাধাভাবে ভোরা গোরা!*


*(#পর্ব_২৩/৩)*


#গম্ভীরা_গৃহ_হতে মহাপ্রভুর কৃষ্ণপাগল মনটি ব্রজভূমিতে প্রবেশ করে তিনি ভাবনেত্রে অগণিত পুষ্পলতা শোভিত অরণ্য, গিরিরাজ গোবর্দ্ধন ও নীলাম্বরী যমুনাকে দর্শন করলেন ৷ এই অবস্থায় শ্যামসুন্দরের সুমধুর মুখখানি রাধাভাবে ভাবিত মহাপ্রভুর মনে উদ্ভাসিত হয়ে উঠল ৷ আর অমনি তিনি অবশভাবে মেঝেতে বসে পড়ে কপালে হাত রেখে কত কথা বলতে বলতে বিলাপ করতে লাগলেন ৷ সেই অবস্থায় মহাপ্রভুর কৃষ্ণপ্রেমানুরাগরঞ্জিত কমল নয়নদ্বয়ে টপ্ টপ্ বারি শ্রাবণের ধারার মত পতিত হয়ে মহাপ্রভুর গণ্ডদেশ পরিপ্লুত হয়ে উঠল ৷ সেই দর্শনে মহাপ্রভুর মনের ভাব বুঝে স্বরূপ দামোদর নিজের স্বভাবে সুমিষ্ট স্বরে গেয়ে উঠলেন—

"#যমুনা_হইয়া শ্যামেরে দেখিয়া

ঘরে আইল বিনোদিনী

বিরলে বসিয়া কাঁদিয়া কাঁদিয়া

ধেয়ায় শ্যামরূপ খানি॥

নিজ করোপরে রাখিয়ে কপাল

মহাযোগিনীর পারা ৷

ও দুটি নয়নে বহিছে সঘনে

শ্রাবণ মাসেরি ধারা॥"(স:গ্র:)

#এইটুকু_গেয়ে স্বরূপ দামোদর কিছুক্ষণ নীরব হতেই মহাপ্রভু একহস্তে পরমপ্রেমাবেশে স্বরূপ দামোদরের গলা জড়িয়ে ধরে পরমাদরে প্রেম গদ্ গদ্ কণ্ঠে বলে উঠলেন— #গাও_গাও_আরও_গাও_আরও_গাও...........

#মহাপ্রভুর_অত্যধিক

আগ্রহ দর্শন করে স্বরূপ দামোদর অধিকতর ভাবসমৃদ্ধ একটি পদাবলী গেয়ে উঠলেন—

*#মরিব_মরিব_সখি_নিশ্চয় মরিব ৷ কানু হেন গুণনিধি কারে দিয়া যাব॥ তোমরা যতেক সখী থেকো মঝু সঙ্গে ৷ মরণকালে কৃষ্ণনাম লিখ মোর অঙ্গে॥ ললিতা প্রাণের সখি মন্ত্র দিও কানে ৷ মরদেহ পড়ে যেন কৃষ্ণনাম শুনে॥ না পোড়াইও মোর অঙ্গ না ভাসাইও জলে ৷ মরিলে তুলিয়ে রেখো তমালের ডালে॥ সেই সে তমাল-তরু কৃষ্ণবর্ণ হয় ৷ অচেতন তনু মোর তাহে যেন রয়॥ কবহুঁ সে পিয়া যদি আসে বৃন্দাবনে ৷ পরাণ পায়ব হাম পিয়া দরশনে॥ পুন যদি চাঁদমুখ দরশ না পাব ৷ বিরহ অনলে মাহ তনু তেয়াগব॥* (সংগ্রিহীত দুটিই পদ)

#অপূর্বসুন্দর মহাভাবোচ্ছ্বাসপূর্ণ মধুময় সঙ্গীত শুনতে শুনতে মহাপ্রভুর হৃদি-সমুদ্রের বিরহোচ্ছ্বাসপূর্ণ ভাবতরঙ্গাবলী আরও উথলে উঠল-মহাপ্রভুর কৃষ্ণবিরহানল নব নবায়মান হয়ে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল ৷ মহাপ্রভু কৃষ্ণবিরহানলে জর্জরিত হয়ে বড় ব্যাকুলভাবে বিলাপ করতে লাগলেন—

"#সখি_কহিব_কানুর_পায় ৷

সে সুখ সায়র দৈবে শুখায়ল

তিয়াসে পরাণ যায়॥

সখি ধরিব কানুর কর ৷

আপনা বলিয়া বোল না তেজবি

মাগিয়া লইবি বর॥

সখি যতেক মনের সাধ ৷

শয়নে স্বপনে করিনু ভাবনে

বিহি সে করিলে বাদ॥

সখি হাম সে অবলা তায় ৷

বিরহ আগুন দহয়ে দিগুণ

সহনে নাহিক যায় ॥

সখি বুঝিয়া কানুর মন ৷

যেমন করিলে আইসে সে জন

দ্বিজ চণ্ডীদাস ভণ॥

#হৃদিবিদারক বিলাপ করে কাঁদতে কাঁদতে এবং কাঁপতে কাঁপতে মহাপ্রভু মহাপ্রেমাবেশে অবশ হয়ে পাশে বসে থাকা রামানন্দ রায়ের কোলে ঢলে পড়লেন ৷ সেই অবস্থায় মহাপ্রভুর অঙ্গে যেন কোন বল নাই—উঠিবার শক্তিও নাই—চোখ খুলিবারও ক্ষমতা নাই ৷ মুদ্রিত দুই চোখে অবিরল প্রেমাশ্রু ধারা বয়ে চলেছে ৷ মহাপ্রভুর সোনার বরণ মুখমণ্ডল যেন আরও করুণ দেখাচ্ছে ৷ এমন অবস্থাতেই মহাপ্রভুর ভগবৎ তনু(দেহ) নিস্পন্দ জড়বৎ রামানন্দ রায়ের কোলে শায়িত রইল ৷

0 views0 comments

Comentarios


Be Inspired
bottom of page