top of page

*#রাধাভাবে ভোরা গোরা!* *(#পর্ব_২৪)* (চলবে)


*#রাধাভাবে ভোরা গোরা!*


*(#পর্ব_২৪)*

(চলবে)



#এতস্য_মোহনাখ্যস্য_গতিং কামপ্যুপেযুষঃ ৷ ভ্রমাভা কাপি বৈচিত্রী দিব্যোন্মাদ ইতীর্যতে॥ উদ্ ঘূর্ণাচিত্রজল্পাদ্যাস্তদ্ভেদা বহবো মতাঃ॥" (চৈ:চ:-৩/১৪ শ্লোক-০২)

#অর্থাৎ—কোনো এক অনির্বচনীয় বৃত্তিপ্রাপ্তূ মোহন নামক ভাবের ভ্রমসদৃশী অদ্ভুত বৈচিত্রীকে দিব্যোন্মাদ বলে ৷ এই দিব্যোন্মাদের উদ্ ঘূর্ণা, চিত্রজল্প প্রভৃতি অনেক রকমের ভেদ অাছে ৷


#শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃতের আলোকে এবার গম্ভীরালীলার রসাস্বাদন করার চেষ্টা করব—


"#একদিন_মহাপ্রভু_করিয়াছেন_শয়ন ৷ কৃষ্ণ রাসলীলা করে , দেখেন স্বপন ॥" (৩/১৪/১৫)

"#দেখি_প্রভু_সেই_রসে_আবিষ্ট__হইলা ৷ "বৃন্দাবনে কৃষ্ণ পাইলু" এই জ্ঞান হৈলা॥" (৩/১৪/১৮)

"#গোপীরা_যখন_কৃষ্ণ_বিরহে অত্যন্ত কাতর হয়ে পড়ল, তখন সেই গোপীদের মধ্যে হাস্যবদন,পীতবসন, বনমালী সাক্ষাৎ মদনমোহন শ্রীকৃষ্ণ আবির্ভুত হলেন ৷ তাঁর অপূর্ব সুন্দর রূপ দেখে বোঝা গেল যে, তিনি ষড়ৈশ্বর্যের দ্বারা বিভূষিত ৷ কৃষ্ণ একলা ততটা সুন্দর নন, কিন্তু যখন তিনি তাঁর শক্তি, বিশেষ করে হ্ণাদিনী শক্তি, যার প্রতীক হচ্ছেন শ্রীমতী রাধারাণী, সহ বিরাজ করেন,তখন তাঁকে অপূর্ব সুন্দর দেখায় ৷ কৃষ্ণ সর্বদাই শত সহস্র লক্ষীর দ্বারা পরিবৃত ৷ সমস্ত গোপীরা হচ্ছেন লক্ষী, কৃষ্ণ তাঁদের হাত ধরে যমুনার তীরে নিয়ে গেলেন ৷"

#কৃষ্ণ_যখন_যমুনার তীরে বনে প্রবেশ করলেন, চাঁদের কিরণ তখন অন্ধকারকে দূর করল ৷ শরৎ ঋতুর প্রভাবে তখন কুন্দ ও কদম্ব ফুল ফুটেছিল এবং মৃদুমন্দ বাতাসে তাদের সুবাস বহন করছিল, সেই সুবাসে মোহিত হয়ে মৌমাছিরা মধু মনে করে সেই বাতাসে উড়ে বেড়াতে লাগল ৷ যমুনার তীরে নরম বালি সমান করে তার উপর কাপড় বিছিয়ে গোপিকারা কৃষ্ণের আসন করলেন ৷"

"#সেখানে_সমবেত গোপীরা প্রায় সকলেই ছিলেন বেদ-বাণীর অনুগামী ৷ তাঁদের পূর্বজীবনে শ্রীরামচন্দ্রের আবির্ভাবের সময়, তাঁরা ছিলেন বৈদিক তত্ত্বজ্ঞানী ঋষি, যাঁরা মাধুর্য রসে শ্রীরামচন্দ্রের সঙ্গলাভ করার বাসনা করেছিলেন ৷ শ্রীরামচন্দ্র তাই তাঁদের বরদান করেছিলেন যে, তিনি যখন শ্রীকৃষ্ণরূপে আবির্ভূত হবেন, তখন তাঁরাও তাঁর সেই লীলায় অংশগ্রহণ করবেন এবং তখন তিনি তাঁদের বাসনা পূরণ করবেন ৷ কৃষ্ণলীলায় সেই বেদজ্ঞ ঋষিরা বৃন্দাবনের গোপীরূপে জন্মগ্রহণ করে শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গলাভ করে তাঁরা তাঁদের পূর্বজন্মের বাসনা চরিতার্থ করেছিলেন ৷ তাঁদের পূর্ব বাসনার চরম উদ্দেশ্য সাধিত হয়েছিল, তাঁরা এত উৎফুল্ল হয়েছিল যে, তাঁদের আর কোন বাসনা ছিল না ৷ কেউ যখন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে প্রাপ্ত হন, তখন তাঁর আর অন্য কোন বাসনা থাকে না ৷"

"#গোপীরা_যখন তাঁদের মাঝে কৃষ্ণকে ফিরে পেলেন ,তখন কৃষ্ণের বিরহজনিত তাঁদের সমস্ত অনুশোচনা এবং পরিতাপ প্রশমিত হল ৷ তখন তাঁদের মনে হল যে, তাঁদের আর কোন বাসনা নেই ৷"

"#অত্যন্ত_যত্ন_সহকারে তাঁরা শ্রীকৃষ্ণের বসবার আসন তৈরী করলেন ৷ শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন তাঁদের প্রাণের ঈশ্বর, তাই তাঁর বসবার জন্য তাঁরা অতি মনোরম এক আসন তৈরী করলেন ৷ গোপী পরিবৃত হয়ে সেই আসনে বসে শ্রীকৃষ্ণ আরও সুন্দর হয়ে উঠলেন ৷"

"#গোপীগণ তাঁদের প্রাণপ্রিয় শ্রীকৃষ্ণকে প্রশ্ন করলেন—#তিন_রকমের_ প্রেমিক রয়েছে, এক যে প্রেমিক কেবল গ্রহণ করে, দুই যে প্রেমিক প্রেমিকা অত্যন্ত প্রতিকূল হলেও সেই প্রেমের প্রতিদান দেন, এবং তিন যে প্রেমিক অনুকূল অথবা প্রতিকূল কোনভাবেই সেই প্রেমে সাড়া দেন না ৷ এই তিন রকমের প্রেমিকের মধ্যে কাকে তোমার সবচাইতে ভাল বলে মনে হয় অথবা কাকে তুমি যথার্থ প্রেমিক বলে মনে করো ?"

"#শ্রীকৃষ্ণ_উত্তরে বললেন—(১) ব্যবসায়ীর মতো ,(২)প্রেমবিহীন তবুও ব্যবসায়ীর থেকে ভাল ,(৩) আর তৃতীয় শ্রেণীর প্রেমিক প্রতিদান দেয় না এবং অবহেলাও করে না ৷ তাদের দুটি ভাগ একদল আত্মতৃপ্ত, যাদের কারোরই ভালবাসার প্রয়োজন হয় না , তাদের বলা হয় আত্মারাম অর্থাৎ তারা পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চিন্তায় সম্পূর্ণভাবে মগ্ন হয়েছেন এবং তাই তাদের কেউ ভালবাসল কি না তা দিয়ে তাদের কিছু যায় আসে না ৷ আর অপরটি হল অকৃতজ্ঞ তাদের বলা হয় নির্দয় ৷"

"#শ্রীকৃষ্ণ_প্রকারান্তরে

গোপীদের এই প্রশ্নের উত্তর দিলেন, যদিও এই প্রশ্নের মাধ্যমে গোপীরা বলতে চেয়েছিলেন যে, শ্রীকৃষ্ণ যথাযথভাবে তাঁদের প্রেমের প্রতিদান দেননি ৷ এর উত্তরে শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন যে, পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন আত্মতৃপ্ত-আত্মারাম ৷ তিনি কারও প্রেমের আকাঙ্খী নন, কিন্তু তবুও তিনি অকৃতজ্ঞ নন ৷"

#ভগবদ্_ভক্তি_ সর্বদাই চিন্ময় ৷ গোপীরা বিশেষ করে শ্রীকৃষ্ণের প্রতি শুদ্ধ ভক্তি প্রদর্শন করেছেন ৷ সেই শুদ্ধ ভক্তির মাহাত্ম্য এতই অসীম যে, শ্রীকৃষ্ণ নিজেই সেজন্য তাঁদের কাছে ঋণী থেকে গেছেন ৷ "(তাই_শ্রীচৈতন্যমহাপ্রভু বলেছেন যে,বৃন্দাবনের গোপবধূ প্রদর্শিত শ্রীকৃষ্ণভক্তি হচ্ছে সর্বোত্তম প্রকাশ ৷)"

"#এইভাবে_শ্রীকৃষ্ণের সান্ত্বনা বাণী শুনে গোপীরা অত্যন্ত প্রসন্ন হলেন ৷ শুধু তাঁর কথা শুনে নয়, পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের করকমল এবং তাঁর শ্রীপাদপদ্ম স্পর্শ করে তাঁদের বিরহজনিত গভীর বেদনা প্রশমিত হল ৷"

"#তারপর_পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গোপীদের সঙ্গে রাসনৃত্য শুরু করলেন ৷ শ্রীকৃষ্ণের এই রাসনৃত্যকে কখনই জড় জগতের কোন রকমের নৃত্যের সঙ্গে তুলনা করা যায় না ৷ এই রাসনৃত্য সম্পূর্ণ চিন্ময় ৷ সেই কথাটা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ নিজেকে বহুরূপে বিস্তার করে প্রতিটি গোপীকার সঙ্গে নৃত্য করেছিলেন ৷"

"#গোপীদের_সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের সেই নাচে , তাঁদের নূপুর, অলঙ্কার ও চুড়ির শব্দ এক অপূর্ব সুন্দর সঙ্গীতের সৃষ্টি হল ৷ শ্রীকৃষ্ণকে তখন একটি সোনার রত্নহারের মাঝে নীলকান্ত মণির মতো দেখাচ্ছিল ৷ শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে গোপীদের সেই নৃত্যের সময় অপূর্ব সুন্দর দেহসৌষ্ঠব প্রদর্শিত হচ্ছিল ৷ তাঁদের পদবিক্ষেপ, কর সঞ্চালন, সুমধুর হাস্যের সঙ্গে ভ্রু-বিলাস, তাঁদের কানের কুণ্ডল, তাঁদের পুষ্পশোভিত কেশরাশি—শ্রীকৃষ্ণের গুণকীর্তন করতে করতে নাচবার সময় সেগুলিকে মেঘ, বিদ্যুৎ, বজ্র এবং তুষারের মতো মনে হল ৷ শ্রীকৃষ্ণকে দেখে মনে হল ঠিক যেন একটি মেঘমালা, তাঁদের সঙ্গীতের ধ্বনি ছিল বজ্রের মতো, গোপীকাদের সৌন্দর্য ছিল বিদ্যুতের মতো এবং তাঁদের মুখের স্বেদবিন্দুগুলি ঠিক তুষারের মতো মনে হল ৷ #এইভাবে_শ্রীকৃষ্ণ_এবং_গোপীরা_নৃত্যমগ্ন_হলেন—

#এইভাবে রাসরসাবিষ্ট মহাপ্রভু স্বপ্নযোগে সুদীর্ঘসময় ধরে রাসলীলা দর্শন করতে লাগলেন ৷ এদিকে প্রভুর অধিক বিলম্ব দর্শনে গোবিন্দ উচ্চকণ্ঠে কৃষ্ণনাম শুনিয়ে প্রভুকে জাগিয়ে তুললেন ৷ জেগে ওঠার ফলে মহাপ্রভু স্বপ্নে যে শ্রীকৃষ্ণকে পেয়েছিলেন, তাঁকে হারিয়ে অতি সন্তাপে অতিশয় বিহ্বল হয়ে পড়লেন ৷

4 views0 comments

Comments


Be Inspired
bottom of page