top of page

রাধাভাবে ভোরা গোরা (#পোষ্ট_নং_০৩) ( ক্রমশঃ চলিবে )

Updated: Nov 24, 2020


রাধাভাবে ভোরা গোরা

(#পোষ্ট_নং_০৩)(চলবে)

^^^^^^^^^^^


#গোদাবরী_নদীতে স্নানের পর রামানন্দ রায়ের নবীন সন্ন্যাসীর সাথে অালাপের সময় মহাপ্রভু তাঁর পরিচয় গোপন করেছিলেন, কিন্তু নবীন সন্ন্যাসীর অাকৃতিতে-প্রকৃতিতে ঈশ্বরের লক্ষণ দেখায় রামানন্দ নবীন সন্ন্যাসীকে ( মহাপ্রভুকে) কিছুদিন বিদ্যানগরে অবস্থান করার জন্য অনুরোধ করিলে মহাপ্রভু সস্মত হলে রামানন্দ রায় মহাপ্রভুর অাসনের জন্য মনোরম একান্ত স্থান ও অন্যান্য সুব্যবস্থা করিলেন ৷ অালাপকালে মহাপ্রভু ঈষৎ হেসে রামানন্দকে বলেছিলেন তোমার মুখে কৃষ্ণকথা শুনিতে মন হয় ৷ এরপর মহাপ্রভুর বিশ্রামান্তে রামানন্দ অাসিলে মহাপ্রভু বারাংবার রামানন্দ হইতে ভক্তির "তত্ত্ব ও ভজন-প্রণালী" জানিবার জন্য বিশেষ অাগ্রহ প্রকাশ করিলে রামানন্দ বলিতে সম্মত হলে—

"#প্রভু_কহে—পড় শ্লোক সাধ্যের নির্ণয় ৷ #রায়_কহে—স্বধর্মাচরণে বিষ্ণুভক্তি হয় ॥"(চৈ;চ;-২/৮/৫৪)

#রামানন্দ_বলতে_শুরু_করলেন

#সাধ্য— " জীবের অভীষ্ট বা কাম্যবস্তুই হল সাধ্য ৷ অার সাধ্যবস্তু পাওয়ার উপায় হল সাধন ৷"

#স্বধর্মাচরণ— "ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র—এই চারটি বর্ণাশ্রমের এবং ব্রহ্মচর্য, গার্হস্থ্য, বাণপ্রস্থ ও সন্ন্যাস—এই চারটি চতুরাশ্রমের জন্য শাস্ত্রে যে সমস্ত কর্তব্য-কর্মের উপদেশ অাছে, তার অনুষ্ঠান বা অাচরণই হল তাঁর স্বধর্মাচরণ ৷"

#বিষ্ণুভক্তি—রায় রামানন্দের অালোচনা থেকে বুঝা যাচ্ছে—বিষ্ণুভক্তিই পুরুষার্থ বা সাধ্যবস্তু ; ভগবান বিষ্ণু অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণকে সেবা করাই হল বিষ্ণুভক্তি ৷

#মহাপ্রভু_বললেন—এ অত্যন্ত বাইরের (বাহ্য)কথা ৷ এরপরে যদি কিছু থাকে, তা বল৷ তখন—

#রায়_কহে-কৃষ্ণে কর্মার্পণ সাধ্য সার ॥" (চৈ;চ;)

#কৃষ্ণে_কর্মাপণ—শ্রীকৃষ্ণেতে সমস্ত কর্মের ফল অর্পণ ৷ কর্ম বলতে বেদবিহিত কর্ম এবং শরীরের স্বাভাবিক ধর্মবশত যে সব কর্ম করা হয়, সেই সব কর্মের বলা কথা হয়েছে ৷ #কিন্তু_কৃষ্ণে_কর্মাপণ_সাধ্য_নয়, সাধন মাত্র ; এর সাধ্য হল কর্মবন্ধন থেকে মুক্তি ৷ নিজেকে কর্মবন্ধন থেকে মুক্ত করার ভাবনা যেখান অাছে সেখানে প্রেম থাকতে পারে না; কাজেই তা বাহ্য ৷

#মহাপ্রভু_বললেন—এটাও বাহ্য অাগে বল ৷ তখন—

#রায়_কহে—স্বধর্মত্যাগ এই সাধ্য সার ৷ (চৈ;চ;)

#স্বধর্ম_ত্যাগ—নিজেকে কর্মবন্ধন থেকে মুক্ত করার ভাবনা যেখানে অাছে—সেখানে প্রেম থাকতে পারে না ; কাজেই তা বাহ্য ; #তখন_রামানন্দ বললেন "স্বধর্মত্যাগ" অর্থাৎ বর্ণাশ্রম ধর্ম ত্যাগই সাধ্য সার ৷

#কিন্তু_স্বধর্মত্যাগও সাধন মাত্র, এটা সাধন নয় ৷

#তাই_মহাপ্রভু_বললেন—

এটাও নিতান্ত বাইরের কথা ৷ তখন—#রায়_কহে—জ্ঞানমিশ্রা ভক্তি সাধ্য সার ৷ (চৈ;চ;)

#জ্ঞানমিশ্রা_ভক্তি—জ্ঞানের সঙ্গে মিশ্রিতা ভক্তি ৷ জ্ঞানমার্গের সাধনের সঙ্গে মিশ্রিতা যে ভক্তি, তা-ই জ্ঞানমিশ্রা ভক্তি ৷ অাবার যাঁরা ভক্তিমার্গের সাধন করেন,তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বিভিন্ন তত্ত্বাদি বিষয়ক জ্ঞানলাভের চেষ্টাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকন ৷ তাই এঁদের ভক্তিকেউ জ্ঞানমিশ্রা ভক্তি বলা যায় ৷

#তবে_রামানন্দ জ্ঞান-শব্দে জীব-ব্রহ্মের ঐক্য জ্ঞানকেই বুঝিয়েছেন বলে মনে হয় ৷

#তাই_এবারও_মহাপ্রভু বললেন—এটাও নিতান্ত বাইরের কথা অাগে বল ৷ তখন—

#রায়_কহে—জ্ঞানশূন্যা ভক্তি সাধ্য সার ৷ (চৈ;চ;)

#জ্ঞানশূন্যাভক্তি—জ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কশূন্য ভক্তি ৷

#জ্ঞানের_তিনটি_অঙ্গ—


ভগবত্তত্ত্ব-জ্ঞান , জীবতত্ত্ব_জ্ঞান ,

এবং জীব-ব্রহ্মের ঐক্যজ্ঞান ৷ জ্ঞানমিশ্রা ভক্তির ক্ষেত্রে এই তিনটি অঙ্গের সঙ্গে মিশ্রিতা ভক্তির কথাই বলা হয়েছে ৷

#কিন্তু_ভক্তির_সঙ্গে জীব-ব্রহ্মের ঐক্যজ্ঞান সঠিক নয় বলে মহাপ্রভু জ্ঞানমিশ্রা ভক্তিকে বাহ্য বলেছেন ৷

#তা_শুনে—রামানন্দ জ্ঞানের তিনটি অঙ্গের সংশ্রবশূন্যা বা জ্ঞানশূন্যা ভক্তির কথা বললেন ৷ জ্ঞানমিশ্রা ভক্তি থেকে জ্ঞানশূন্যা ভক্তি উৎকর্ষ ; কারণ এই ভক্তিতে জীব-ব্রহ্মের ঐক্যজ্ঞানের মিশ্রণ নেই ৷

#রায়ের_কথা_শুনে মহাপ্রভু জ্ঞানশূন্যা ভক্তিতে—সেব্য-সেবকত্ব ভাব বা সেবাবাসনা থাকায় বললেন— "এহো হয় " ; তবু এর পরে কিছু থাকলে তা শুনতে চাইলেন ৷

8 views0 comments

Opmerkingen


Be Inspired
bottom of page