top of page

*"(#রাধাভাবে_ভোরা_গোরা)"'* (#পর্ব_১৩_চলবে)*


*"(#রাধাভাবে_ভোরা_গোরা)"'*

*(#পর্ব_১৩_চলবে)*


*#মহাপ্রভুর_গম্ভীরালীলার অন্তরঙ্গ ভক্তদের প্রসঙ্গে একটু আলোকপাত করব—*

#শঙ্কর"'—

মহাপ্রভুর অতি আদরের যে দামোদর পণ্ডিত, তাঁরই কনিষ্ঠ শঙ্কর ৷ দামোদর পণ্ডিতের মতই শঙ্করও মহাপ্রভুর অত্যন্ত প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেন ৷

#মহাপ্রভু দক্ষিণ দেশ ভ্রমণ করে নীলাচলে ফিরে আসার কিছুদিন পর শঙ্কর গৌড়ীয় ভক্তগণের সঙ্গে নীলাচলে আসেন ৷ মহাপ্রভু শঙ্করের সুপবিত্র প্রেম-ভক্তি ভাব দেখে প্রসন্ন হয়ে স্বরূপ দামোদরকে বলেন—"দামোদর !

তোমার উপরে আমার সগৌরব-প্রীতি, শঙ্করের উপরে আমার কেবল শুদ্ধ প্রেম ৷ শঙ্করকে আমার কাছে রাখ ৷"'

#শঙ্কর_তখন থেকেই নীলাচলে থাকতেন ৷ মহাপ্রভুর যেদিন কৃষ্ণবিরহ-নিমিত্ত অত্যন্ত আর্তির কারণে গম্ভীরা থেকে বাইরে যাবার পথ না পেয়ে দেওয়ালে ঘর্ষণের কারণে মহাপ্রভুর মুখ ও মস্তক ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল, তার পরদিন থেকে স্বরূপ দামোদর ও সকলে পরামর্শ করে মহাপ্রভুর দেহরক্ষী হিসাবে শঙ্করকেই গম্ভীরার ভিতরে শয়ন করিবার ব্যবস্থা করেন, যাতে মহাপ্রভুকে ঠিকমত দেখাশোনা করা যায় ৷

#সেই_থেকে_শঙ্কর

প্রতিদিন মহাপ্রভুর চরণের নীচে শয়ন করতেন, আর মহাপ্রভু তাঁর পাদদ্বয় শঙ্করের শরীরের উপরে রাখতেন ৷ এই কারণে শঙ্কর মহাপ্রভুর *#পাদোপাধান* (পায়ের বালিশ) নামে সুপরিচিতি হয়েছিলেন ৷ এইভাবে অত্যন্ত নিষ্ঠাসহকারে মহাপ্রভুর পদসেবা করতে করতে শঙ্করের সারারাত্রি অতিক্রান্ত হত ৷ মহাপ্রভুর এই পাদসম্বাহন সৌভাগ্যই শঙ্করকে বৈষ্ণব জগতে স্মরণীয়,বরণীয় ও মহনীয় করে রেখেছে ৷


*#গোবিন্দ !*—

#কি_হেরিলাম_অপরূপ_গোরা রূপনিধি ৷ কতই চান্দ নিঙ্গাড়িয়া নিরমিল বিধি॥ উগারই সুধা জনু গোরামুখের হাসি ৷ নিরখিতে গোরারূপ হৃদয়ে রইল পশি ৷৷ অাঁখি পালটিতে কত যুগ হেন মানি ৷ হিয়ার মাঝে গাঁথি থোব গোরা রূপখানি॥ মনে অভিলাষ ক্ষমা নাহি হয় মোর ৷ গোবিন্দ দাস কহে মুঞি ভেল ভোর॥"'

#মহাপ্রভুর_অঙ্গসেবক গোবিন্দের সেবার মহিমা অতুলনীয় ৷ একদিন বা দু'দিন নয়, প্রতিদিন মধ্যাহ্ন আহারের পর মহাপ্রভু গম্ভীরাতে শয়ন করলে, গোবিন্দ মহাপ্রভুর অঙ্গসেবা করতেন এবং মহাপ্রভু নিদ্রা যাওয়ার পর গোবিন্দ উঠে এসে আহার করতেন ৷ এই নিয়মটি একদিনের জন্যও ভঙ্গ হয় নাই ৷

#এমনকি_সেই_বেঢ়া কীর্তনের দিন মহাপ্রভু সকাল হতে বেলা তৃতীয় প্রহর পর্যন্ত প্রেমানন্দে নৃত্যকীর্তনাদি করে আহারের পর গম্ভীরার দ্বার জুড়ে এমনভাবে শয়ন করলেন যে, ভিতরে কারো প্রবেশ করবার উপায় ছিল না, তখন গোবিন্দ কোনো উপায় না দেখে অবশেষে নিজের বহির্বাস খানি মহাপ্রভুর অঙ্গে বিছিয়ে মহাপ্রভুকে ডিঙ্গিয়েই ভিতরে প্রবেশ করে তাঁর "পাদসংবাহনাদি" করেন ৷

#মহাপ্রভুর_অঙ্গসেবার

প্রতি গোবিন্দের প্রাণের টান এত অধিক ছিল যে, ভগবদ্ দেহ লঙ্ঘন করবার যে শাস্ত্রীয় বিধি-নিষেধ আছে তা তিনি গ্রাহ্য করেন নাই ৷ ভগবদ্ দেহ ডিঙ্গালে যে ভয়ঙ্কর অপরাধ হবে আর তার ফলে যে নিদারুণ নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে, তা তিনি জানিয়াও গ্রাহ্য করেন নাই ৷

#এই_ঘটনার_ভিতর

দিয়ে ভগবৎ সেবাই যে ভক্তের একমাত্র কর্তব্য এবং তারজন্য যা কিছু প্রয়োজন অপরাধজনক হলেও ভক্ত তা পালন করবেন, কিন্তু নিজের ইন্দ্রিয় তৃপ্তির জন্য ভক্ত ভুলক্রমেও কখনও কোনরূপ অন্যায় কর্ম করবেন না, ভক্তিধর্মের এই সূক্ষ্মমর্ম গোবিন্দ সেদিন সকলকে জানিয়ে দিয়েছেন ৷


*#গোবিন্দ মনে কহে আমার সেবা সে নিয়ম। অপরাধ হোক চাই নরকে গমন।।*

#গোবিন্দের_সেবানিষ্ঠা —

মহাপ্রভু যখনই গম্ভীরা হতে বাইরে যেতেন, তখন গোবিন্দ জলপাত্র নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে যেতেন ৷ গোবিন্দ জগন্নাথ মন্দিরে প্রবেশের আগে মহাপ্রভুর পাদপ্রক্ষালণ করে দিতেন, এমনকি মহাপ্রভু যখন জগন্নাথ দর্শন করতেন তখনও গোবিন্দ মহাপ্রভুর পাশে থাকতেন, যাতে মহাপ্রভুর জগন্নাথ দর্শনে কোন বিঘ্ন না ঘটে ৷

একবার—

"'#উড়িয়া_এক_স্ত্রী ভিড়ে দর্শন না পাঞা ৷ গরুড়ে চড়ি দেখে প্রভুর স্কন্ধে পদ দিয়া ॥"'(চৈ;চ;)

#একদিন এক উড়িয়া রমণী, ভাবাবিষ্ট মহাপ্রভুর স্কন্ধোপরি পা রেখে গরুড়স্তম্ভ ধরে জগন্নাথ দর্শন করছিলেন, তখন গোবিন্দই রমণীকে নিষেধ করেছিলেন ৷ মহাপ্রভু তখন বললেন—

#অাদিবশ্যা ! এই স্ত্রীকে না কর বর্জন ৷ করুক যথেষ্ট জগন্নাথ দর্শন ॥" (চৈ;চ;-৩/১৪/২৪)


*#স্ত্রীনাম_শুনি প্রভুর বাহ্য হৈলা ৷ পুনরপি সেই পথে বাহুড়ি চলিলা॥* প্রভু কহে গোবিন্দ আজি রাখিলে জীবন ৷ স্ত্রী স্পর্শ হৈলে আমার হইত মরণ ॥

#মহাপ্রভু_দূর_হতে এক দেবদাসীর কণ্ঠোচ্চারিত গীতগোবিন্দের গুর্জরী রাগের সুমধুর সঙ্গীত শুনে ভাবোন্মত্ত অবস্থায় সেদিকে ছুটে যাচ্ছিলেন তখন গোবিন্দ অতি দ্রুত ছুটে গিয়ে মহাপ্রভুকে এমনভাবে জড়িয়ে ধরলেন যাতে মহাপ্রভু সেই গায়িকাকে স্পর্শ করিতে না পারেন ,মহাপ্রভু প্রকৃতিস্থ হওয়ার পর গোবিন্দকে বললেন গোবিন্দ তুমি আজ আমার জীবন রক্ষা করলে ৷


*#মুকুন্দার_মাতার_নাম_শুনি প্রভুর সঙ্কোচ হইল ৷ তথাপি তাহার প্রীতে কিছু না বলিল ॥* (চৈ;চ;)

#এই_প্রসঙ্গক্রমে_স্ত্রীস্পর্শ করাতো বহু দূরের কথা, মহাপ্রভু স্ত্রী শব্দটি মুখেই উচ্চারণ করতেন না ,বিশেষ কারণেও তিনি স্ত্রী শব্দ না বলে #প্রকৃতি"' শব্দটি ব্যবহার করতেন ৷ এমন কি #স্ত্রী"' শব্দটি শ্রবণ করলেও মহাপ্রভু সঙ্কোচ বোধ করতেন ৷


*#স্ত্রীসব_দূর_হইতে_কৈল_দরশন_॥* (চৈ;চ;)

এই সমস্ত কারণেই স্ত্রীলোকগণ দূরে থেকে অলোকসুন্দর প্রেমের ঠাকুর মহাপ্রভুকে দর্শন করতেন ৷

#এইভাবে_মহাপ্রভু নিজে আচরণ করে ছোট হরিদাসকে চিরতরে বর্জনের মাধ্যমে জগৎকে শিক্ষা দিয়েছিলেন—সাধনপথে কামিনী স্পর্শ বা চিন্তা সাধক জীবের নিকট গভীর অন্তরায় ৷ কারণ, রজোগুণের প্রাবল্যে সৃষ্টি সুখানুভূতি আসে এবং রজোগুণ ঈশ্বর চিন্তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী ৷ তাই সৃষ্টি সুখানুভূতির উৎস নারীসঙ্গ, ভোগ ও সংসারাসক্তি সৃষ্টির দ্বারা অধঃপতনই আনয়ন করে ৷ তাই করুণার অবতার মহাপ্রভু শ্রীমুখে বলেছেন—


*"#শিশ্নোদরপরায়ণ_কৃষ্ণ_নাহি_পায় ॥"* (শিশ্নোদরপরায়ণ-কামুক ও পেটুক )(চৈ;চ;-৩/৬/২২৫)!"

#অর্থাৎ_কাম_ও রসনেন্দ্রিয় পরায়ণ ব্যক্তির কখনও কৃষ্ণচরণ প্রাপ্তি হয় না ॥

#একদিন_পুরীতে সমুদ্রতীরে " চটক " পর্বত দর্শন করতেই মহাপ্রভু গোবর্দ্ধনপর্বত জ্ঞানে প্রেমাবেশে মূর্চ্ছিত হয়ে পড়লে গোবিন্দই মহাপ্রভুর চোখে মুখে জলের ঝাপটা দিয়ে ও নানাভাবে সেবাশুশ্রূষা করে সুস্থ করে তোলেন ৷

#ভক্ত_গোবিন্দ সমস্ত ভাবধারায় মহাপ্রভুর রক্ষণাবেক্ষণ এবং পাদসম্বাহনাদি সেবাকার্য করতেন এবং আহারাদির ব্যাবস্থাও করতেন ৷ এমনকি ভক্তবৃন্দ মহাপ্রভুর সেবার নিমিত্ত যে সমস্ত দ্রব্য সামগ্রী আনতেন তাও গোবিন্দই সযত্নে সুরক্ষিত রাখতেন এবং যথা সময়ে মহাপ্রভুকে দিতেন ৷ মহাপ্রভুর প্রসাদ দেওয়ার কাজটিও গোবিন্দই সম্পাদন করতেন ৷ মহাপ্রভু তাই গোবিন্দকে দিয়েই নামাচার্য শ্রীশ্রীহরিদাস ঠাকুরের নিকট নিত্যদিন মহাপ্রসাদ পাঠাতেন ৷

#শ্রীশ্রীহরিদাস_ঠাকুরের দেহ রক্ষার পূর্ব দিনটিতে তাঁর নিকটে মহাপ্রসাদ নিয়ে গিয়ে গোবিন্দ—

*#দেখে_হরিদাস_ঠাকুর_করিয়াছে_শয়ন ৷ মন্দ মন্দ করিতেছে সংখ্যা-সংকীর্তন ॥* (চৈ;চ;)

0 views0 comments

Comments


Be Inspired
bottom of page