top of page

*#রাধাভাবে_ভোরা_গোরা ! *(#পর্ব_২১চলবে)*


*#রাধাভাবে_ভোরা_গোরা ! *(#পর্ব_২১)*


*"#দিনে_প্রভু_নানা_সঙ্গে_হয় অন্যমনা ৷ রাত্রিকালে বাঢ়ে প্রভুর বিরহ বেদনা ॥"* (চৈ;চ;)

#দিবাবসানে ভক্তগণ নিজ নিজ বাসায় গমন করলে মহাপ্রভু নিশ্চিন্ত হতেন ৷ সন্ধ্যা সমাগমে কাশীমিশ্রের নির্জন উদ্যান বাটিখানি আরও নির্জন হয়ে যেত ৷ তখন গম্ভীরার ক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠে হয়তো মহাপ্রভু আনমনা হয়ে একাকীই বসে আছেন , এমতাবস্থায় প্রিয় সেবক গোবিন্দ আথেব্যথে এসে তৈলদীপখানি জ্বেলে দিয়ে কার্যান্তরে চলে যেতেন ৷ আকাশে একটি-দুইটি করে নক্ষত্র ফুটছে ৷ তিথি জানা নাই, হয়তো একটু পরেই চাঁদ উঠবে ৷ সমগ্র জগন্নাথপুরী চন্দ্রালোকে মধুময় হয়ে উঠবে ৷ সমুদ্রের সৈকত ভূমিতে জ্যোৎস্নার বান ডাকবে ৷ সায়ংকৃত্য সমাপনান্তে পার্শ্বস্থ কক্ষ থেকে স্বরূপ দামোদর গুটি গুটি পায়ে গম্ভীরায় প্রবেশ করে মহাপ্রভুর দক্ষিণে পাতা আসনটিতে বসলেন ৷ কিছুক্ষণ পরেই বহির্দ্বার দিয়ে রামানন্দ রায় উদ্যানবাটিতে প্রবেশ করে গম্ভীরা কক্ষে মহাপ্রভুর বামপার্শ্বে এসে বসলেন ৷

#বহির্দ্বারে_অর্গল তুলে মহাপ্রভুর অষ্টপ্রহরের প্রহরী গোবিন্দ গম্ভীরার দ্বারদেশের আড়ালে নিঃশব্দে এসে বসলেন ৷

এমতাবস্থায় মহাভাবে বিভাবিত মহাপ্রভু বলিয়া উঠিলেন—

"#বলো_বলো_রামানন্দ !

#কৃষ্ণ_কথা_বলো !"

#মহাপ্রভুর_মনের_ভাব বুঝে রামানন্দ গীতগোবিন্দ

হতে একটি বিশেষ শ্লোক মহাপ্রভুকে শুনালেন—

"#প্রাপ্তপ্রণষ্টাচ্যুতবিত্ত_আত্মা যথৌ বিষাদোজ্ঝিতদেহগেহঃ ৷

গৃহীতকাপালিকধর্মকো মে

বৃন্দাবনং সেন্দ্রিয়শিষ্যবৃন্দঃ ॥

#আমার_মন

শ্রীকৃষ্ণরূপ ধনকে প্রথমে পেয়ে পরে হারিয়েছে ; তাই বিষাদে দেহরূপ গৃহকে পরিত্যাগ করে কাপালিক ধর্ম গ্রহণ করে ইন্দ্রিয়রূপ শিষ্যবর্গের সঙ্গে শ্রীবৃন্দাবনে চলে গেছে ॥

#যথা_রাগ !"


"#প্রাপ্ত_কৃষ্ণ_হারাইয়া ,

তার গুণ সোঙরিয়া ,

মহাপ্রভু সন্তাপে বিহ্বল ৷

রায়_স্বরূপের কণ্ঠ ধরি ,

কহে হাহা হরি-হরি ,

ধৈর্য গেল হইল চপল ॥

শুন বান্ধব কৃষ্ণের মাধুরী ৷

যার লোভে মোর মন ,

ছাড়িলেক বেদধর্ম ,

যোগী হঞা হইল ভিক্ষারী ॥

কৃষ্ণলীলা মণ্ডল ,

শুদ্ধ শঙ্খ কুণ্ডল ,

গড়িয়াছে শুক কারিগর ৷

সেই কুণ্ডল কানে পরি ,

তৃষ্ণা-লাউ-থালি ধরি ,

আশা-ঝুলি কান্ধের উপর ॥"

#কাপালিক_অর্থাৎ যোগীগণ যে সমস্ত বেশভূষা ধারণ ও আচরণ করে থাকেন, যেমন যোগীগণ কর্ণে শঙ্খ-কুণ্ডল ধারণ করেন , কাঁধে ভিক্ষার ঝুলি ও হাতে থালি নিয়ে ভিক্ষা সংগ্রহ করেন, তারপর ভিক্ষালব্ধ বস্তু থালি থেকে ঝুলিতে রেখে দেন ;

#তেমনই_মহাপ্রুভুর

মনোরূপ যোগীও কৃষ্ণকথারূপ শঙ্খ-কুণ্ডল ধারণ করে কৃষ্ণমাধুর্য আস্বাদনের লালসারূপ থালি হাতে এবং কখন কোথায় সেই মাধুর্য পাওয়া যাবে—এই আশারূপ ঝুলি নিয়ে ঘুরে বেড়ান ৷

#সেই_সঙ্গে_সঙ্গত করে স্বরূপ দামোদর তাঁর সুধাময় কণ্ঠে চণ্ডীদাসের একটি সুমধুর পদ গেয়ে উঠলেন—

#রাধার_কি_হৈল_অন্তরে_ব্যথা ৷

বসিয়া বিরলে, থাকয়ে একলে,

না শুনে কাহার কথা ৷

সদাই ধেয়ানে, চাহে মেঘপানে,

না চলে নয়ান-তারা ৷

বিরতি আহারে, রাঙ্গাবাস পরে ,

যেমতি যোগিনী পারা ॥

এলাইয়া বেণী, ফুলের গাঁথনি ,

দেখয়ে খসাঞা চুলি ৷

হসিত বদনে, চাহে মেঘ পানে ,

কি কহে দু'হাত তুলি ॥

এক দিঠ করি, ময়ূর ময়ূরী ,

কণ্ঠ করে নিরিক্ষণে ৷

চণ্ডীদাস কয়, নব পরিচয় ,

কালিয়া বঁধুর সনে ॥"'

#সাধারণতঃ এভাবেই নিত্যদিন পালা করে গভীর রাত্রি পর্যন্ত কৃষ্ণকথার মহারঙ্গ চলত ৷

*(#জয়_মহাপ্রভু)*

3 views0 comments

Comments


Be Inspired
bottom of page