top of page

*#রাধাভাবে_ভোরা_গোরা !* *(#পর্ব_২৯)* চলবে ৷


*#রাধাভাবে_ভোরা_গোরা !*


*(#পর্ব_২৯)* চলবে ৷




#মহাপ্রেমাবেশে—


"একদিন মহাপ্রভু সমুদ্র যাইতে ৷

চটক পর্বত দেখিলেন আচম্বিতে॥ গোবর্ধন-শৈল জ্ঞানে আবিষ্ট হইলা ৷

পর্বত দিশাতে প্রভু ধাইয়া চলিলা ॥" (চৈ;চ;-৩/১৪/৭৯-৮০)

#মহাপ্রভু_একদিন সমুদ্র যাইবার সময়ে হঠাৎ চটক পর্বত দেখতেই তারমধ্যে গোবর্দ্ধনপর্বত জ্ঞানে আবিষ্ট হয়ে সেইদিকে ধাবিত হলেন, এবং সেই অবস্থায়—

"#হন্তায়মদ্রিরবলা_হরিদাসবর্যো

যদ্ রামকৃষ্ণচরণস্পর্শপ্রমোদঃ ৷

মানং তনোতি সহগোগণয়ো-স্তয়োর্যৎ পানীয়সূযবসকন্দর-কন্দমূলৈঃ॥"( শ্রীমদ্ভাগবতে—১০/২১/১৮) #অর্থাৎ—এই গিরিগোবর্দ্ধনের কথাও ভুলে যাস না যেন,সখীরা ! প্রকৃতপক্ষে হরিভক্তগণের মধ্যে এঁকে শ্রেষ্ঠ বললেও ভুল হয় না ৷ বলরাম এবং শ্রীকৃষ্ণের চরণস্পর্শের সৌভাগ্যে ইনি মনে হয় হর্ষে মগ্ন হয়ে আছেন, সর্বাঙ্গে তৃণোদ্গমের ছলে এঁর রোমাঞ্চই প্রকাশিত হচ্ছে ৷ কত বিনয়ে, নম্রতায়, আনন্দে তিনি পশুযূথ এবং বয়স্যগণসহ তাঁদের দুজনের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন, ঝরণাগুলি থেকে স্নান ও পানের জল, কোমল তৃণরাশি (পশুখাদ্য), বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত গুহাশ্রয় এবং আহারের জন্য কন্দমূল_ফল ইত্যাদির সম্ভার প্রতিদিন নিবেদন করছেন তাঁদের উপযোগের জন্য ৷ নিঃশব্দ নীরব এই মহান সেবাব্রতীর জন্য কোন প্রশংসাই কি যথেষ্ট ? "#মহাপ্রভু_নিজে_এই_শ্লোক_ পড়তে পড়তে—

"#এই_শ্লোক_পড়ি_প্রভু_চলে বায়ুবেগে ৷ গোবিন্দ ধাইল পাছে নাহি পায় লাগে॥"

(চৈ:চ:-৩/১৪/৮১)

(শ্রীনীলাচলে অবস্থিত একটি পর্বতের নাম চটক ৷বর্তমানে এর নাম চিরাই বা সিরাই)৷

#সেই_সময়ে_মহাপ্রভু

মনটি সদা-সর্বক্ষণই শ্রীরাধার শ্রীকৃষ্ণবিগ্রহের ভাবে আবিষ্ট হয়ে শুধুমাত্র শ্রীকৃষ্ণের বিষয় এবং সেই বিষয়ে লীলা ও লীলাস্থলীর বিষয়েই অভিনিবিষ্ট হয়ে থাকত ৷

#পুরীর_দক্ষিণ_পশ্চিম কোণে সমুদ্র কিনারে ক্ষুদ্র পর্বতাকার বালির স্তুপ চটক-পর্বতের দিকে দৃষ্টিপাত হতেই মহাপ্রভু ভাবলেন তিনি যেন গোবর্দ্ধন পর্বতই দেখছেন, এই স্থানেই শ্রীকৃষ্ণ ক্রীড়া করছেন এই ভাবনায় রাধাভাবাবিষ্ট মহাপ্রভু শ্রীকৃষ্ণের সহিত মিলিত হবার ইচ্ছায় সেই চটক পর্বতের দিকে দ্রুত গতিতে ছুটে চললেন, ভগবৎলীলা ও নাম তন্ময়তা কত প্রগাঢ় হলে যে কোন দর্শন, স্পর্শনাদিতে শুধু শ্রীকৃষ্ণলীলারই স্ফূরণ ঘটতে পারে তারই চরম পরাকাষ্ঠা এই লীলা ৷ কিছুদূর যেতেই মহাপ্রভুর দেহে স্তম্ভ নামক সাত্ত্বিক ভাবোদয়ে জড়তা এসে উপস্থিত হওয়ায় তিনি আর চলতে পারলেন না ৷ এমন অবস্থায় মহাপ্রভুর দেহে পুলকাদি অষ্ট সাত্ত্বিক ( স্তম্ভ,স্বেদ,রোমাঞ্চ, স্বরভঙ্গ,বেপথু,বৈবণ্য,অশ্রু ও প্রলয় এই হল অষ্ট সাত্ত্বিকের লক্ষণ) বিকার হওয়ার ফলে—

"#বৈবর্ণে_শঙ্খপ্রায়_শ্বেত_হৈল_অঙ্গ ৷ তবে কম্প উঠে যেন সমুদ্রতরঙ্গ ॥"(চৈ;চ:-৩/১৪/৮৯)

#এমনঅবস্থায়, তরঙ্গ উত্থিত হলে সমুদ্র যেমন থর থর করে নিরন্তর কাঁপতে থাকে, মহাপ্রভুর দেহটিও ঠিক তেমনি থর থর করে অবিরত কাপতে লাগল এবং মহাপ্রভু মুর্চ্ছিত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন, এইভাবে প্রাণাধিক মহাপ্রভুকে সংজ্ঞাশূন্য অবস্থায় দর্শন করে গোবিন্দ, স্বরূপ দামোদর ও অন্যান্য ভক্তগণ—

"#উচ্চসংকীর্তন_করে_প্রভুর শ্রবণে ৷ শীতলজলে করে প্রভুর অঙ্গসস্মার্জনে॥

এইমত বহুবার করিতে করিতে ৷ হরিবোল বলি প্রভু উঠিলা আচম্বিতে ॥ আনন্দে বৈষ্ণব সভে বলে "হরি হরি" ৷ উঠিল মঙ্গলধ্বনি চতুর্দিক ভরি॥" (চৈ:চ:-৩/১৪/ ৯৪,৯৫,৯৬)

#নিদ্রাকালে_বা অচেতন অবস্থায় অবচেতন মনে মহাপ্রভু যা ভাবত চেতনা প্রাপ্ত হলে তাই মনে ও মুখে উচ্চারিত হত ৷ তা মহাপ্রভুর নিজ এই উক্তির মধ্যেই বুঝা যায়—

"#হরিবোল_বলি_প্রভু_উঠিলা__আচম্বিতে॥"

#মহাপ্রভু_অন্তঃ_ও বাহ্যদশা সব অবস্থাতেই নামে তন্ময় থেকে জীবের কল্যাণ করতেন ৷

#অর্থাৎ_অন্তঃদশায় তিনি হরিনাম রসাপ্লুত অবস্থায় সংজ্ঞাশূন্য থাকতেন এবং ভক্ত কণ্ঠে মধুর হরিনাম ধ্বনি শ্রবণ করে নিজ মুখে সেই রসঘন ,?বিগ্রহ হরিনাম উচ্চারণ করতে করতে উঠে বসতেন ৷ মহাপ্রভুর গম্ভীরা লীলার এটাই হল বিশেষ তাৎপর্য ৷

1 view0 comments

Comments


Be Inspired
bottom of page