top of page

*#রাধাভাবে_ভোরা_গোরা!* *(#পর্ব_৩০)* চলবে ৷


*#রাধাভাবে_ভোরা_গোরা!*


*(#পর্ব_৩০)* চলবে ৷




#একদিন_মহাপ্রভুর

ইঙ্গিতে গোবিন্দ মহাপ্রসাদ আনলেন, প্রাকৃত বস্তুর অলৌকিক গন্ধযুক্ত স্বাদের মহাপ্রসাদ গ্রহণ করে সবাই প্রেমাবেশে হরিধ্বনি করে উঠল।

তখন মহাপ্রভু—


"#প্রেমাবেশে_মহাপ্রভু_যবে আজ্ঞা দিলা ৷ রামানন্দ রায় শ্লোক পড়িতে লাগিলা॥"

(চৈ:চ:-৩/১৬/১০৯)

#মহাপ্রভুর_আজ্ঞায়_রামানন্দ রায় তখন শ্লোক পড়তে শুরু করলেন—

"#সুরতবর্ধনং শোকনাশনং

স্বরিতবেণুনা সুষ্ঠু চুম্বিতম্ ৷

ইতররাগবিস্মারণং নৃণাং

বিতর বীর নস্তেঽধরামৃতম্॥"

(চৈ:চ:-৩/২৬ শ্লোক-৯)

#পদটির_ভাবার্থ-

বীরশ্রেষ্ঠ তুমি , প্রিয় আমাদের ! দানে দয়ায় তোমার সমকক্ষও তো কেউ নেই, নিজের সব কিছুই তুমি অবলীলায় বিলিয়ে দাও ৷ তোমার একান্ত নিজস্ব অধরামৃতদানেও তুমি পরাঙ্মুখ হও না ৷ আমরা যে ব্যধিতে আক্রান্ত হয়েছি, তার প্রকৃত ঔষধ ওই বস্তুটিই ৷ তোমার মুখের বাঁশিটি তোমারই অধরামৃত পান করে সুরে সুরে ভরে ওঠে, বিশ্বময় বিতরণ করে মহানাদের অসীম সম্পদ ৷ জীবনের কোনো বিশেষ শুভক্ষণে যে একবার তোমার অধরসুধারসরূপ পরম দানের, ভাবমগ্নতায় কোনো নিভৃত প্রহরে গোপন প্রেমিকের সরভস চুম্বনের মতো তোমার প্রেমের বিদ্যুদ্দীপ্ত চকিত স্পর্শের আস্বাদ লাভ করে, তোমার প্রতি আসক্তি বন্ধন তার আর কখনো ছিন্ন হয় না, দিনে দিনে বেড়ে চলে তার প্রেমোজ্জ্বলা সুরতি, সর্বশোক থেকে বিমুক্ত হয় সে, জাগতিক আর কোন পদার্থের জন্যই তার কোন কামনা থাকে না ৷ সেই সুধা পান করিয়ে জীবন রক্ষা করো আমাদর ৷


"#শ্লোক_শুনি_মহাপ্রভু_মহা_তুষ্ট হৈলা ৷ রাধার উৎকণ্ঠা শ্লোক পড়িতে লাগিলা॥"(৩/১৬/১১০)


"#ব্রজাতুলকুলাঙ্গনে

তররসালিতৃষ্ণাহরঃ

প্রদীব্যদধরামৃতঃ

সুকৃতিলভ্যফেলালবঃ ৷

সুধাজিদহিবল্লিকা-

সুদলবীটিকা-চর্বিতঃ

স মে মদনমোহনঃ

সখি ! তনোতি জিহ্বাস্পৃহাম্॥"

(চৈ:চ:-৩/১৬শ্লোক_১০)

#মহাপ্রভু_যে_পদটি বললেন তার ভাবার্থ এরূপ—

#শ্রীরাধা_সখিকে বলছেন-যিনি অতুলনীয়া ব্রজগোপীদের অন্য সমস্ত রসের তৃষ্ণাকে হরণ করেন, যাঁর অধরের সুধা নিবিড় আনন্দ দান করে, যাঁর ফেলালব (ভুক্তাবশেষ কণা) পাওয়া যায় অনেক সুকৃতির ফলে, যাঁর চর্বিত পান অমৃতের চেয়েও সুস্বাদু-হে সখি!

সেই মদনমোহন আমার জিহ্বার বাসনাকে বর্ধিত করছেন ৷


"#এত_কহি_মহাপ্রভু_ভাবাবিষ্ট হঞা ৷ দুই শ্লোকের অর্থ করেন প্রলাপ করিয়া॥ (৩/১৬/১১১)

যথা-রাগঃ

~~~~~~

#শুষ্ক_বাঁশের_কাঠিখান,

এত করে অপমান,

এই দশা করিলে গোঁসাঞি৷

না সহি কি করিতে পারি,

তাহে রহি মৌন ধরি,

চোরার মাকে ডাকি কান্দিতে নাঞি॥ (৩/১৬/১২০)

#চোরের মা যেমন পুত্রের অপকর্মের জন্য চিৎকার করে কাঁদতে পারে না, কারণ তাতে রাজকর্মচারী এসে পুত্রকে ধরে নিয়ে যায় ;তেমনি বেণুর অত্যাচারেও আমরা লোকলজ্জা ভয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারি না, নীরবে আমাদের তা সহ্য করতে হয় ৷

#মহাপ্রভু_প্রেমাবেশে বললেন-তোমার যে অধরসুধা আমাদের মিলন-বাসনাকে বর্ধিত করে, এবং তোমাকে না পাওয়ার জন্য যে অধরসুধা আমাদের দুঃখের অনুভবকেও ভুলিয়ে দেয়,তোমার বাঁশিতে যা বাজতে থাকা আমাদের যে আসক্তিকেও ভুলিয়ে দেয়, তোমার সেই অধরসুধা আমাদের দান করো ৷

8 views0 comments

Commentaires


Be Inspired
bottom of page