top of page

রাধাভাবে ভোরা গোরা ( প্রেক্ষাপট ) ক্রমশঃ চলিবে


*#কাঁহা_গেল_কৃষ্ণ_এখনি_পাঁইলু_দর্শন!*


#বিশুদ্ধ_বাতাবরণে নিরিবিলি নির্জনে ভক্ত-ভগবানের মধূর লীলা ৷ শ্রীমন্ মহাপ্রভুর দিব্য "রাধাভাবে বিভোর" প্রসঙ্গে কিঞ্চিৎ ভাবনা রাখতে প্রয়াসী হব ৷ এদিকে গোলকে চাঞ্চল্য, গোলকবিহারীর মনে অস্থিরতা ৷ এদিকে শান্তিপুরে অদ্বৈতাচার্য হাতে গঙ্গাজল-তুলসীপত্র নিয়ে মূহুর্মূহ হুংকার করে চলেছেন, প্রবল হরিনামের মাধ্যাকর্ষণ হরিদাস ঠাকুরের ৷ এদিকে গোলকে গোলকবিহারীকে নিত্যসহচরী গোপিনীরা ঘিরে ধরলে তখন প্রভু বললেন—"আমি শীঘ্রই মর্তে অবতরণ করব,জগতে প্রেম প্রয়োজন ৷" গোপিনীরা বললেন-"ভালো কথা, তুমি আমাদের কাছে ঋণী, মনে আছে ? প্রভু হাসলেন, কিভাবে তা শোধ হবে,তোমরাই বলে দাও ৷" গোপিনীরা বললেন-"মনে আছে তোমার জন্য আমরা যেমন কেঁদেছি,ঠিক তেমনই তোমাকেও কেঁদে কেঁদে ঘরে ঘরে বিলাতে হবে মধুর

কৃষ্ণনাম,আর নিজে কেঁদেও জগৎবাসীকে কাঁদাতে হবে, তবেই জগৎ উদ্ধার পাবে, আমরাও সাথী হব তোমার এই লীলায় ৷" প্রভু সস্মত হলেন,অতঃপর একান্তে প্রভু শ্রীমতীরাধারাণীর সঙ্গে ভয়ে ভয়ে দেখা করে বললেন, রাধে কীভাবে ঋণ শোধ করব ? শুনে শ্রীরাধা বললেন-শোধ করবে তোমার সাধ্য কি ? তবে উপায় একটা আছে , শ্রীরাধার প্রেমে তখন প্রভু ঢলে পড়লেন কোলে,শ্রীমতীরাধা তখন বললেন,"আমার হৃদয় আর কান্তি তুমি ধার নাও, কারণ তোমার পুরুষ হৃদয় দিয়ে কৃষ্ণপ্রেম আস্বাদন হবে না , একমাত্র আমার হৃদয়েই কৃষ্ণপ্রেম উপভোগ্য ৷" আজ ধার নাও,লীলান্তে আবার ফিরিয়ে দিও ৷ প্রভু বললেন-"তাই কি হয়, রাধে ? যথা রাধা তথা কৃষ্ণ, যথা কৃষ্ণ তথা রাধা, বস্তুতঃ এক, কোন ভেদ নেই ৷ তাই বলি চলো এবার নদীয়াতে দুজনে যুগলে অবতীর্ণ হই ৷ শ্রীমতী রাধারাণী সস্মতি দিলেন-"তবে তাই হোক" তোমার ইচ্ছাই পূর্ণ হোক ৷" তখন গোপিনীরা হাততালি দিয়ে একসঙ্গে বলে উঠলেন—#জয়_রাধা_মাধবের_জয়_হোক৷



অতএব তা-ই হলো ৷ শ্রীরাধার ভাবকান্তি চুরি করে নদীয়ার শ্রীনবদ্বীপধামে শ্রীগৌরচন্দ্র উদিত হলেন ৷ জগৎ আলোকিত হল অপরূপ চন্দ্রচ্ছ্বটায় ৷ হরিগুণগানে ভুবন ভরে উঠল ৷ চাঁদ কাজী,জগাই-মাধাই উদ্ধার হল ৷ গৌরচন্দ্র হলেন চৈতন্যচন্দ্র ৷ দিকে দিকে,ঘরে ঘরে, নাম প্রেম প্রচারিত হল ৷ প্রভু নিত্যানন্দ,অদ্বৈত প্রভু,শ্রীবাস-গদাধর,হরিদাস ঠাকুর,রূপ-সনাতন,স্বরূপ-রামানন্দ আরও লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি গৌরভক্তবৃন্দ ৷ উপলব্ধি হ'লো- প্রথমে নাম, তারপরে প্রেম ; নামের প্রাবল্য প্রথমে,তারপরে নামের ফল প্রেমের উদয় ৷ প্রেম ব্যতীত প্রেমনিধিকে ধরা যায় না ৷ এই নামপ্রেমেই প্রয়োজন জগতের, এই নামপ্রেমই মরুভূমিতে মরূদ্যান ৷ মহাপ্রভুর আবির্ভাব এই নামপ্রেমের জন্যই ৷ মৃদঙ্গ,করতাল সহযোগে নৃত্য-কীর্তন,লম্ফ-ঝম্প,গড়াগড়ি একে একে সব হ'লো, নদীয়া নাম-প্রেমে ডুবু ডুবু,নবদ্বীপ-শান্তিপুর নাম-প্রেমে ভেসে গেল, শ্রীক্ষেত্রে চাঁদের হাট,প্রেমের ঘাট, নাম-সংকীর্তনের

প্রবল সমুদ্রোচ্ছ্বাসে দেশ ভেসে গেল ৷ জগতের প্রয়োজন তো মিটল, এখন নিজের প্রয়োজন ৷ স্বকীয় মাধুর্য আস্বাদন তথা নিজেই ভক্তভ্রমর হয়ে নিজ মধু পান ৷ অদ্বৈতাচার্যও তাঁকে ছুটি করে দিয়েছেন ৷ প্রাণাধিক প্রিয় ঠাকুরহরিদাস বিদায় নিয়েছেন ৷ এখন অবসর, প্রাণের অবসর প্রাণারামের জন্য, ষোল আনাই প্রভুর জন্য অবসর ৷ তাই কাশী মিশ্রালয়ের এই কক্ষে অন্তরঙ্গদের সঙ্গতে শুধুই কৃষ্ণ কথা,লীলা কথা ৷ অন্তর্দশাই শুধুই কৃষ্ণামৃত পান,লীলামৃত পান ৷ শ্রীরাধার মহাভাবে ভাবিত হয়ে,শ্রীরাধার কৃষ্ণপ্রেমে শুধুই শ্রীকৃষ্ণকমলের সহস্রধারায় মধু পান করতে করতে মহাপ্রভু একসময় জগন্নাথে বিলীন হলেন ৷ #রাধাভাবে_ভোরা_গোরা"' অত্যধিক মহাভাব,অত্যদ্ভুত বিকারসমুহ,ভগবৎ-বিরহ ও কৃষ্ণপ্রেমোন্মাদনা সুপরিস্ফুট ৷ #জয়_মহাপ্রভু !"

"#সনৎমিত্রঠাকুর

13 views0 comments

Kommentare


Be Inspired
bottom of page