top of page

শ্রীনিত্যানন্দ প্রকাশ মূর্ত্তি শ্রীনরোত্তম দাস ঠাকুর মহাশয় ও তাঁহার রচনাবলি



পণ্ডিত শ্রীরঘুনাথ দাস শাস্ত্রীজী মহারাজ প্রকাশিত শ্রীনরোত্তম বিলাস গ্রন্থ হতে------------


কলিযুগ পাবনাবতার শ্রীগৌরসুন্দর । তাঁহার প্রেমলীলা সম্বরণের সাথে সাথে দ্বিতীয় প্রকাশরূপে যে তিন শক্তির উদ্ভব হইয়া ছিল ঠাকুর নরোত্তম তাঁহাদিগের মধ্যে একজন । প্রভু নিত্যানন্দের প্রেমশক্তির প্রকাশই ঠাকুর নরোত্তম । শ্রীমন্মহাপ্রভুর বৃন্দাবন যাত্রাকালে গৌড়দেশে আগমন করতঃ কানাইর নাটশালা হইতে প্রত্যাবর্ত্তন পথে পদ্মগর্ভে প্রেমশক্তির রক্ষা করিয়া আসেন । এতদ্বিষয়ে শ্রীপ্রেমবিলাস গ্রন্থের ৮ বিলাসের বর্ণন---


শ্রীপাদ বলেন প্রেম ভাল রাখ প্রভু ।

গ্রাম উজাড় হয় ইহা নাহি দেখি কভু ।।

প্রভু বলে পদ্মাবতী ধর প্রেম লহ ।

নরোত্তম নামে প্রেম তারে তুমি দিহ ।।

নিত্যানন্দ সহ প্রেম রাখিল তোমাস্থানে ।

যত্ন করি ইহা তুমি রাখিবা গোপনে ।।

পদ্মাবতী বলে প্রভু করো নিবেদন ।

কেমনে জানিব কার নাম নরোত্তম ।।

যাহার পরশে তুমি অধিক উছলিবা ।

সেই নরোত্তম প্রেম তাঁরে তুমি দেব ।।

প্রভু কহে এই সব যে কহিলা তুমি ।

এই ঘাটে রাখ প্রেম আজ্ঞাদিল আমি ।।

আনন্দিত পদ্মাবতী রাখিলেন তটে ।

বিরলে রাখিল প্রেম বিরল যে ঘাটে ।।


এই ভাবে প্রভু নিত্যানন্দ পদ্মাগর্ভে সংরক্ষণ করেন । ঠাকুর নরোত্তমের পিতার নাম শ্রীকৃষ্ণানন্দ দত্ত, মাতা নারায়ণী, জৈষ্ঠ ভ্রাতা রামকান্ত, তৎপুত্র রাধাবল্লভ, জৈষ্ঠতাত পুরুষোত্তম দত্ত তৎপুত্র সন্তোষ দত্ত ।



তথাহি---ভক্তি ১ তরঙ্গে


জ্যেষ্ঠ পুরুষোত্তং কনিষ্ঠ কৃষ্ণানন্দ ।

শ্রীকৃষ্ণানন্দের পুত্র শ্রীল নরোত্তম ।

শ্রীপুরুষোত্তমের তনয় সন্তোষাখ্য ।।



নরোত্তম বিলাসের ১২ বিলাস--


শ্রীমহাশয়ের জৈষ্ঠ ভ্রাতা রামকান্ত ।

তাঁর পুত্র শ্রীরাধাবল্লভ মহাশান্ত ।।


শ্রীনরোত্তম দাস ঠাকুর মহাশয় মাঘী পূর্ণিমায় আবির্ভূত হন । অন্নপ্রাশন কালে গোবিন্দের প্রসাদ ভিন্ন অন্ন গ্রহণ না করায় তদবধি প্রসাদ গ্রহণ করিতে লাগিলেন । কিছুদিন পরে পিতামাতা পুত্রে বিবাহ দিয়া রাজ্যাভিষেকের অভিপ্রায় করিলে সংবাদ শুনিয়া নরোত্তম অত্যন্ত বিচলিত হইলেন । সহসা একদিন প্রভাতে একাদী পদ্মাস্নানে গমন করেন । সে সময় প্রভু নিত্যানন্দ রক্ষিত প্রেম সম্পদ পদ্মাদেবী প্রকট হইয়া তাঁহাকে অর্পণ করেন । সেই প্রেম প্রভাবে নরোত্তমের বর্ণান্তর ঘটিল এবং প্রেম বাহ্যজ্ঞান হারাইয়া নৃত্যগীতাদি করিতে লাগিলেন । এদিকে পিতামাতা তাঁহার অনুসন্ধানে আসিয়া বর্ণানন্তর ঘটায় সহসা তাঁহাকে চিন্তিতে পারে নাই । শেষে নরোত্তমের বাহ্যজ্ঞান হইয়া পিতামাতাকে প্রণাম করিলে সকলে চিনিতে পারিলেন । কৃষ্ণকান্ত দেহ গৌরবর্ণ হইল এবং বৃন্দাবন যাইবার জন্য উদ্বিগ্ন হইলেন ।




পিতামাতার আদেশ চাহিলে তাহার বিষপানে প্রাণ ত্যাগ করিতে চাহিলেন । তখন বিষয়ী প্রায় রহিলেন । কৃষ্ণদাস নামক জনৈক বৈষ্ণব মুখে গৌরলীলা শেষে শ্রীনিবাসের মহিমা শুনিয়া তাহার সহিত মিলিত হইবার জন্য ব্যকুল হইলেন । সে সময় জয়গীদার তাহাকে লইবার জন্য লোক পাঠাইয়াছেন । সেই সুযোগে মাতার নিকট বিদায় লইয়া রওনা হইলে পথে জায়গীদারের লোকদের বঞ্চনা করিয়া নবদ্বীপ আদি ভ্রমণ করতঃ বৃন্দাবনে রওনা হইলেন । দ্বাদশ বর্ষীয় শিশু পথে চলিতে চলিতে পায়ে ব্রণাদি অবস্থায় বৃক্ষমূলে শায়িত আছেন , দুগ্ধ হস্তে গৌরসুন্দর স্বপ্নে রূপসনাতন দর্শন দিয়া অশেষ করুণা প্রকাশ করেন । তারপর ব্রজে পৌঁছিয়া গোবিন্দ মন্দিরে জীব গোস্বামীর দর্শন প্রাপ্ত হন । তার পর লোকনাথ প্রভুর সমীপে দীক্ষা গ্রহণ ও শ্রীজীব গোস্বামী সমীপে গোস্বামী শাস্ত্র অধ্যয়ন করিয়া ঠাকুর মহাশয় উপাধি প্রাপ্ত হন । কতদিনে শ্রীনিবাস আচার্য্য সহ বৃন্দাবন মিলনে হইল । তারপর বৃন্দাবন লীলাস্থলী দর্শনাদি করতঃ কতককাল অবস্থান করেন । শ্রীজীব গোস্বামীর আদেশে স্রীনিবাস আচার্য্য সঙ্গে গোস্বামী গ্রন্থ লইয়া গৌড়দেশে আগমন করেন । বনবিষ্ণুপুরে গোস্বামীগ্রন্থ অপহৃত হইলে শ্রীনিবাস আচার্য্য তাহাকে খেতুরী প্রেরণ করেন । নরোত্তম খেতুরী গিয়া পিতামাতাদির সহিত মিলন করতঃ কতককাল অবস্থান করিয়া নীলাচল গমন করেন । তথায় তৎকালীন প্রকট গৌরাঙ্গ পার্ষদগণের সহিত মিলন করতঃ গৌড়দেশে আসেন । তথায় নবদ্বীপ আদি সমস্ত লীলাস্থলী দর্শন ও গৌর পার্ষদগণের সহিত মিলন করতঃ খেতুরীতে অবস্থান করিতে লাগিলেন । সে সময় বিগ্রহ স্থাপনের অভিলাষে পাঁচমূর্ত্তি প্রিয়াসহ কৃষ্ণমূর্ত্তি নির্ম্মাণ করেন ।



তথাহি--- নরোত্তম বিলাসে ৯ বিলাস


গৌরাঙ্গ বল্লবীকান্ত শ্রীকৃষ্ণব্রজ মোহন ।

রাধারমন হে রাধে রাধাকান্ত নামোহ স্তুতে ।।



গৌরাঙ্গ বিগ্রহ পাছ পাড়া গ্রামবাসী বিপ্রদাসের ধান্য গোলা হইতে স্বপ্নাদীষ্ট হইয়া প্রকট করেন । বিপ্রদাসের ধান্য গোলায় বহুদিন যাবৎ সর্পভয়ে কেহই তাঁহার পার্শ্বে যাইতে সক্ষম হইত না । ঠাকুর নরোত্তম স্বপ্নাদীষ্ট হইয়া তথায় গমন করতঃ প্রিয়াসহ গৌরসুন্দর প্রকট করেন । গৌরাঙ্গ বিগ্রহ প্রকট করিয়া ভাবাবেশে সঙ্কীর্ত্তন কালে নব তালের সৃজন করেন । তাহাই গরানহাটী সুর নামে খ্যাত । গরানহাট পরগণায় এই তালে সৃজন তাই পরানহাটী সুর নামে খ্যাত ।

তথাহি নরোত্তম বিলাসে-৬ষ্ঠ বিলাসে---


অকস্মাৎ হৃদয়েতে হইল উদয় ।

নৃত্যগীত বাদ্য যে সঙ্গীত শাস্ত্রে কয় ।।

সেইক্ষণে মহাশয় হস্তে তালি দিয়া ।

গায় গৌরচন্দ্র গুণ নিজগণ লৈয়া ।।

কি অদ্ভূত গান সৃষ্টি কৈলা মহাশয় ।

দেখিতে সে নৃত্য গন্ধর্বের গর্বক্ষয় ।।




এভাবে নরতালের সৃষ্টি হইল । তারপর ফাল্গুনী পূর্ণিমায় শ্রীবিগ্রহ স্থাপন উৎসবে বিশাল বৈষ্ণব সমাবেশ ঘটিয়া ছিল । তৎকালীন প্রকট শ্রীজাহ্নবা দেবী সহ সমস্ত গৌরাঙ্গ পার্ষদগণ একত্রিত হইয়াছিল । এতবড় বৈষ্ণব সমাবেশ ও মহোৎসব তৎপূর্বে ও পরে হয় নাই । শ্রীনিবাস আচার্য্য সপার্ষদে উৎসবের সহযোগিতা করিয়াছিলেন । সেই উৎসবে সঙ্কীর্ত্তনে শ্রীগৌরসুন্দর সপার্ষদে প্রকট হইয়া কীর্ত্তন করিয়াছিলেন । সে কালে প্রকটাপ্রকটের এক অভিন্ন স্বরূপ প্রকাশ পাইয়াছিল । রামচন্দ্র কবিরাজ সহ নরোত্তমের এক অবিচ্ছিন্ন প্রেমসূত্র স্থাপিত হইল । তদবধি রামচন্দ্র খেতুরীতে নরোত্তমের সমীপে অবস্থান করিতে লাগিলেন । রামচন্দ্র কবিরাজ সহ প্রেমরসে অবস্থান করিয়া ভক্তিশাস্ত্র প্রচার ও জীবোদ্ধার করিতে লাগিলেন । শ্রীনরোত্ত ঠাকুরের প্রভাবে কত যে দস্যু উদ্ধার প্রাপ্ত হইয়াছে তাঁহার কোন ইয়ত্তা নাই । দস্যু চাঁদরায় আদি উদ্ধার তাঁহার প্রাকাট্য প্রমাণ । নরোত্তমের শূদ্র হইয়া গঙ্গানারায়ণ চক্রবর্ত্তী আদি ব্রাহ্মণ শিষ্য করায় ব্রাহ্মণ সমাজ ঈর্ষান্বিত হন । সে কারণ খেতুরী গ্রামে দিব্য উপবীত প্রদর্শন ও গাম্ভীল গ্রামে প্রাণত্যাগ এবং চিতার অস্তির মধ্যে ঐশ্বর্য্য প্রকাশাদি লীলা করেন । বৃন্দাবনে গিয়া রামচন্দ্র কবিরাজ অন্তর্দ্ধান করায় প্রিয়বিচ্ছেদ বিরহাক্রান্ত নরোত্তম প্রেমাবেশে পদাবলী সৃজন করেন ।



তথাহি--- পদকল্পতরু ৪/৩৫/১ পদ


শ্রীআচার্য্য শ্রীনিবাস আছিনু তাঁহার দাস

কথা শুনি জুড়াইত প্রাণ ।

তেঁহো মোরে ছাড়ি গেলা রামচন্দ্র না আইলা

দুঃখে জীউ করে আনচান ।।

যে মোর মনের ব্যাথা কাহারে কহিব কথা

এ ছার জীবনে নাহি আশ ।

অন্নজলে বিষখাই মরিয়া নাহিক যাই

ধিক ধিক নরোত্তম দাস ।।


প্রার্থনা ও প্রেমভক্তিচন্দ্রিকার মধ্যে রামচন্দ্র ও নরোত্তমের অভিন্নতা ও শুদ্ধ রাগমার্গীয় সাধকগণের সাধনের পথ নির্দ্দেশ নির্দ্দেশিত রহিয়াছে । ঠাকুর শ্রীনরোত্তমের রচনা বিষয়ে বল্লভ দাসের বর্ণন---


নরে নরোত্তম ধন্য গ্রন্থাকার অগ্রগণ্য

অগণ্য পূণ্যের একাধার ।

সাধনে সাধক শ্রেষ্ঠ দয়াতে অতি গরিষ্ঠ

ইষ্ট প্রতি ভক্তি চমৎকার ।।

চন্দ্রিকা পঞ্চম সার তিনমণি সারাৎসার

গুরুশিষ্য সংবাদ পটল ।

ত্রিভুবনে অনুপাম প্রার্থনা গ্রন্থের নাম

হাট পত্তন মধুর কেবল ।।

রচিলা অসংখ্য পদ হৈয়া ভাবে গদগদ

কবিত্বের সম্পদ সে সব ।

যেবা শুনে যেবা পড়ে যেবা তা গান করে

সেই জানে পদের গৌরব ।।



চন্দ্রিকা পঞ্চম অর্থাৎ প্রেমভক্তিচন্দ্রিকা,সিদ্ধ প্রেমভক্তিচন্দ্রিকা,সাধ্যপ্রেমভক্তিচন্দ্রিকা,সাধন ভক্তিচন্দ্রিকা ও চমৎকার চন্দ্রিকা । তিনমণি অর্থাৎ সূর্য্যমণি,চন্দ্রমণি ও প্রেমভক্তিচিন্তামণি, গুরু শিষ্য সংবাদ ও উপাসনা পটল । এই ভাবে কতকাল অতিবাহিত করিয়া শ্রীপাট খেতুরী হইতে গাম্ভীলায় আগমন করতঃ গঙ্গাস্নান কালে অন্তর্দ্ধান করেন । এতদ্বিষয়ে স্রীনরোত্তম বিলাসের বর্ণন--


বুধরি হইতে শীঘ্র চলিলা গাম্ভীলে ।

গঙ্গাস্নান করিয়া বসিলা গঙ্গা কুলে ।।

আজ্ঞা কৈলা রামকৃষ্ণ গঙ্গা নারায়ণে ।

মোর অঙ্গ মার্জ্জন করহ দুইজন ।।

দোঁহা কিবা মার্জ্জন করিব পরশিতে ।

দুগ্ধ প্রায় মিশাইল গঙ্গার জলেতে ।।

দেখিতে দেখিতে শীঘ্র হইল অন্তর্দ্ধান ।

অত্যন্ত দুর্জ্জেয় ইহা বুঝিবে কি আন ।।

অকস্মাৎ গঙ্গার তরঙ্গ উথলিল ।

দেখিয়া লোকের মহাবিস্ময় হইল ।।

শ্রীমহাশয়ের ঐছে দেখি সঙ্গোপন ।

বরিষে কুসুম স্বর্গে রহি দেবগণ ।।


এই ভাবে প্রভু নিত্যানন্দের প্রকাশ মূর্ত্তি ঠাকুর নরোত্তম আবির্ভূত হইয়া নামে প্রেমে জগতে ধন্য করতঃ অন্তর্দ্ধান করেন । তাঁহার মহিমা প্রেম বিলাস,ভক্তিরত্নাকর গ্রন্থাদিতে বিশেষ ভাবে বর্ণিত হইয়াছে ।



*** শ্রীকিশোরী দাস বাবাজী মহারাজ প্রকাশিত শ্রীনরোত্তম বিলাস গ্রন্থ হতে ।




বিশেষ সূচনা


শ্রীঠাকুর মহাশয় বহু গ্রন্থ রচনা করিয়াছেন । শ্রীঠাকুর মহাশয়ের রচিত বহু গ্রন্থের মধ্যে কেবল শ্রীপ্রেমভক্তিচন্দ্রিকাই বর্তমানে বিশেষ খ্যাতি লাভ করিয়াছে, পরন্তু দুঃখের বিষয় এই যে শ্রীঠাকুর মহাশয় কর্তৃক রচিত আরও গ্রন্থ থাকিলেও সেগুলির প্রকাশন হয় নাই আর হইলেও তাঁহার সংরক্ষণের অভাবে তথা কালের প্রভাবে তাঁহা বিলুপ্ত হইয়াছে । শ্রীঠাকুর মহাশয়ের প্রায় ৭০ খানি গ্রন্থের সন্ধান আমারা পাইয়াছি কিন্তু তাঁহার বেশিরভাগই খণ্ডিত । প্রচুর সন্ধান করিয়াও তাঁহার সম্পূর্ণ উদ্ধার আমরা করিতে পারি নাই । আশা করি ক্রমানুসারে ঠাকুর মহাশয়ের গ্রন্থগুলি আমরা প্রকাশনের প্রচেষ্টা করিব ।




নিম্নোক্ত গ্রন্থসমূহ আমরা সংগ্রহ করিতে পারিয়াছি--


১। শ্রীউপাসনাপটল, ২। শ্রীকুঞ্জ বর্ণন, ৩। শ্রীগুরুশিষ্যসংবাদ, ৪। শ্রীচমৎকারচন্দ্রিকা, ৫। শ্রীপ্রেমভক্তিচিন্তামণি,

৬। শ্রীপ্রেমভক্তিচন্দ্রিকা, ৭। শ্রীপ্রার্থনা, ৮। শ্রীভক্তিউদ্দীপন, ৯। শ্রীরাগমালা, ১০। শ্রীরসভক্তিচন্দ্রিকা,

১১। শ্রীনিবাসাষ্টকম্, ১২। শ্রীসাধনভক্তিচন্দ্রিকা, ১৩। শ্রীসূর্যমণি । ১৪। শ্রীভক্তিতত্ত্বসার ।


১৩৪৮ ও ১৩৪৯ সালের শ্রীহট্ট সাহিত্য-পরিষদ পত্রিকায় শ্রীযতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য শ্রীহট্ট সাহিত্য-পরিষদ গ্রন্থাগারে রক্ষিত বাংলা পুথির একটি তালিকা প্রকাশ করেন । উহাঁতে ঠাকুর মহাশয়ের ভণিতায় অতিরিক্ত এই পুথিগুলি আছে---


১। শ্রীগোরচনা, ২। শ্রীরসসাধ্যগ্রন্থ, ৩। শ্রীস্বকীয়া পরকীয়া বিচার, ৪। শ্রীসাধন বিষয়ক এবং ৫। শ্রীগৌরাঙ্গ সন্ন্যাস ।


ইহাছাড়া, বিভিন্ন পুথিশালায় অনুসন্ধান করিয়া আমরা আরও কতকগুলি নূতন পুথি পাইয়াছি । এই সমুদয় উল্লেখ সূত্র হইতে শ্রীনরোত্তম ঠাকুর মহাশয়ের নামে যে সব পুথি দেখা গিয়াছে তাঁহাদের সম্পূর্ণ তালিকা দেওয়া গেল ।



১। প্রেমভক্তিচন্দ্রিকা, ২। সাধ্যপ্রেমচন্দ্রিকা, ৩। সাধনচন্দ্রিকা, ৪। ভক্তিউদ্দীপন, ৫। প্রেমভক্তিচিন্তামণি,

৬। গুরুভক্তিচিন্তামণি, ৭। নামচিন্তামণি, ৮। গুরুশিষ্যসংবাদপটল, ১। উপাসনাতত্ত্বসার, ১০। স্মরণমঙ্গল,

১১। বৈষ্ণবামৃত, ১২। রাগমালা, ১৩। কুঞ্জবন, ১৪। চমৎকারচন্দ্রিকা, ১৫। রসভক্তিচন্দ্রিকা, ১৬। সাধনভক্তি-চন্দ্রিকা, ১৭। উপাসনাপটল, ১৮। ভক্তিলতাবলী, ১৯। শিক্ষাতত্ত্বদীপিকা, ২০। ভজননির্দেশ, ২১। প্রেমমদামৃত,

২২। আশ্রয় তত্ত্ব বা আশ্রয়তত্বসার, ২৩। আত্মজিজ্ঞাসা বা দেহকড়চা, ২৪। চম্পককলিকা বা স্মরণীয় টীকা, ২৫। পদ্মমালা, ২৬। নবরাধাতত্ত্ব, ২৭। দেহতত্ত্ব নিরূপণ, ২৮। প্রেমবিলাস, ২১। বস্তুতত্ত্ব, ৩০। ব্রজনিগূঢ়তত্ত্ব,

৩১। সাধ্যকুমুদিনী, ৩২। সাধনটীকা, ৩৩। ধ্যানচন্দ্রিকা, ৩৪। সহজপটল, ৩৫। সিদ্ধিপটল, ৩৬। রসমঙ্গলচন্দ্রিকা, ৩৭। কাঁকড়া-বিছা গ্রন্থ, ৩৮। রসতত্ত্ব, ৩৯। চতুর্দশপটল বা রাধারসকারিকা বা রসপুরকারিকা, ৪০। সারাৎসার-

কারিকা, ৪১। গুরুদ্রুম কথা, ৪২। ভক্তিসারাৎসার, ৪৩। হাটপত্তন, ৪৪। ব্রজপূরকারিকা, ৪৫। অভিরামপটল,

৪৬। রসবস্তুচন্দ্রিকা, ৪৭। সহজ উপাসনা, ৪৮। সিদ্ধি কড়চা, ৪৯। আশ্রয় নির্ণয়, ৫০। স্বরূপ কল্পতরু, ৫১। রসসার, ৫২। সদ্ভাব চন্দ্রিকা, ৫৩। গোস্বামীতত্ত্ব-নিরূপণ, ৫৪। নরোত্তম দাসের পাঁচালী, ৫৫। শ্রীগোরচনা, ৫৬। রসসাধ্যগ্রন্থ, ৫৭। স্বকীয়-পরকীয়া বিচার, ৫৮। সাধনবিষয়ক, ৫৯। গৌরাঙ্গ সন্ন্যাস, ৬০। চন্দ্রমণি, ৬১। সূর্য্যমণি,

৬২। সিদ্ধপ্রেমভক্তিচন্দ্রিকা । ৬৩ । ভক্তিতত্ত্বসার ।


ইহার মধ্যে কিছু গ্রন্থকে শ্রীঠাকুর মহাশয়ের লিখিত না বলিয়া তাঁহার উপর আরোপিত করা হইয়া থাকে । তবে আমরা বাদ বিবাদে যাইতে চাহি না । যাঁহা হউক শ্রীঠাকুর মহাশয়ের গ্রন্থসমূহকে আমরা পুনরায় প্রকাশন করিব বলিয়া সংকল্প করিয়াছি । শ্রীনরোত্তম ঠাকুর মহাশয়ের গ্রন্থ সমূহ প্রকাশনে আপনাদিগের সকলের সহযোগিতা কামনা করিতেছি ।


বিনীত নিবেদক

গুরুবৈষ্ণব চরণাভিলাষী দাসানুদাস রঘুনাথ দাস


267 views0 comments

Recent Posts

See All

Comments


Be Inspired
bottom of page