top of page

স্ত্রীদিগের ব্যাসাসনে উপবেশন অনুচিত

Updated: Jun 25, 2020

আদৌ সাধারণ দেহধারী স্ত্রী ব্যাসাসনে উপবেশন করিয়া ভাগবত কথাদি পরিবেশনের যোগ্য কিনা ?


#বিশেষ: পোষ্টটি কোন বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য নয় এটি সমস্ত বৈষ্ণবাদি সম্প্রদায় তথা সনাতন সমাজের সকল বর্গের জন্য সেহেতু সিদ্ধান্ত মূলশাস্ত্রাদি হইতে নেওয়া হইয়াছে ৷ কাহাকে তুষ্টি বা কাহার অবমাননা করিতে লেখা হয়নি এখানে কেবল শাস্ত্র সিদ্ধান্তকে স্থাপন করা হইয়াছে ৷


ভাগঃ১


যাহারা স্ত্রীদের ব্যাসাসনে বসে প্রবচনের পক্ষপাতী তাহাদিগের এবং কথাবাচিকাগনের এই বিষয়ে লোকসমাজে ভ্রমফেলানো অপসিদ্ধান্ত পূর্ণ উদাহরণ, নিম্ন প্রকারঃ--


পরাশর- সংহিতার ভাষ্যকার তথা বৈষ্ণবপরম্পরার পরমাচার্য্য মধ্বাচার্য্য জী নিজের টিকা তে লিখিয়াছেন " দ্বিবিধা স্ত্রীয়ো ব্রহ্মবাদিন্য: সদ্যবধশ্চ ৷ তত্র ব্রহ্ম্বাদিনীনাম্ উপনয়নম্ অগ্নিবন্ধনম্ বেদাধ্যযনম্ স্বগৃহে ভিক্ষা ইতি, বধুনাম্ তু উপস্থিতে বিবাহে কথংচিৎ উপনয়নং কৃত্বা বিবাহঃ কার্য্য: ৷ অর্থাৎ দুই প্রকারের স্ত্রী হইয়া থাকে৷ যথা এক ব্রহ্মবাদিনী যাহাদের উপনয়ন হইয়া থাকে এবং যিনি অগ্নিহোত্র, বেদাধ্যায়ন তথা নিজগৃহে ভিক্ষাবৃত্তি ( গৃহের লোকেদের নিষ্কাম সেবা তথা স্বেচ্ছায় প্রাপ্ত অন্ন ধন দ্বারা জীবন যাপন) করিয়া থাকেন ৷

অপর প্রকারের স্ত্রী (সদ্যোবধু) তিনি । যাহার শীঘ্র বিবাহ হইয়া যায় এবং এদের উপনয়ন-সংস্কার এর পশ্চাতেই বিবাহ করা উচিৎ ৷ গোভিলীয় গৃহ্যসুত্র চর্চায় আসিয়া থাকে " প্রাবৃতাং যজ্ঞোপবীতিনীম্ অভ্যুদানয়ন্ জপেৎ, সোমোঽদদৎ গন্ধর্বায় ইতি " অর্থাৎ কন্যা কে বস্ত্র পরিধান করাইয়া তথা যজ্ঞোপবীত পরাইয়া পতির নিকট লইয়া বলিতে হইবে " সোমোঽদদৎ " ৷৷ তৎ সহিত একটি শ্লোক বলিতেও হইবে "পুরাকল্পে হি নারীণাং মৌঞ্জীবন্ধনমিষ্যতে ৷ অধ্যাপনং চ বেদানাং সাবিত্রীবাচনং তথা "৷৷ অর্থাৎ প্রাচীনকালে স্ত্রীবর্গের যজ্ঞোপবীত হইতো, তাহারা বেদশাস্ত্রের অধ্যায়ন করিতেন৷ ৭ বীং শতাব্দীতে সম্রাট হর্ষবর্ধনের রানী মহাশ্বেতার বর্ণনা করিবার সময় মহাকাব্য কাদম্বরীতে বাণভট্ট লিখিয়াছেন " ব্রহ্মসূত্রেণ পবিত্রীকৃতকায়াম্" অর্থাৎ ব্রহ্মসূত্রকে পরিধান করিবার জন্য পবিত্র শরীরধারী ৷ মালবীয় জী স্ত্রীদিগের বেদশিক্ষার প্রবল পক্ষাধর রহিয়াছিলেন ৷ লক্ষ্মী জী ভগবান বিষ্ণু কে ভাগবৎ শ্রবন করাইয়াছিলেন ৷ ৠগ্বেদ ১০৷ ৬৪ তে সম্পূর্ণ মন্ত্রের ৠষিকা সূর্যা -সাবিত্রী ৷ ৠষি শব্দের অর্থ নিরুক্তে এমনটি বলা হইয়াছে, ৠষির্দর্শণাৎ৷ স্তোমান্ দর্শতেতী(নিরুক্ত ২,১১) ৷ ৠষয়ো মন্ত্রদ্রষ্টর: ( দু,বৃ ২,১১) ৷ অর্থাৎ মন্ত্র সমূহের দ্রষ্টা তাহার রহস্যকে বুঝিয়া তাহার প্রচার যিনি করিয়া থাকেন তাহাকে ৠষি বলা হইয়া থাকে ৷ ৠগ্বেদ এর ৠষিকাদের সূচী বৃদৎ দেবতা গ্রন্থের দ্বিতীয় অধ্যায় তে বর্ণন করা হইয়াছে, যথা গোধা, বিশ্বাবারা, অপালা, উপনিষদ্,নিষদ, ব্রহ্মজায়া(জুহু), অগস্ত্য মুনির ভগিনী, অদিতি,ইন্দ্রাণী এবং ইন্দ্রের মাতা, সরমা, রোমশ,উর্বশী,লোপামুদ্রা এবং নদিয়াঁ, যমী, শশ্বতী, শ্রী, লাক্ষা, সার্পরাজ্ঞী, বাক্, শ্রদ্ধা,মেধা,দক্ষিণা,রাত্রী, এবং সূর্যা— সাবিত্রী আদি সকলেই ব্রহ্মবাদিনী ছিলন । ঋগ্বেদ এর ১০— ১৩৪,১০—৩৯,৪০,১০-৯১,১০-১০৭,১০-১০৯,১০-১৫৪.১০-১৫৯,॥০-॥৮৯,৫-২৮,৮-৯১ আদি সুক্তের মন্ত্র দ্রষ্টা উপরোক্ত ঋষিকাগণই ছিলেন । এমন অনেক প্রমাণ দেখাযায় যাহা স্পষ্ট হইয়াছে কি স্ত্রীবর্গও পুরুষদের ন্যায় বেদাধ্যায়ন এবং যজ্ঞ করিতেন এবং করাইতেন। তাহারা যজ্ঞ-বিদ্যা এবং ব্রহ্ম-বিদ্যাতেও পারদর্শী ছিলেন। তৈত্তরীয় ব্রাহ্মণ ‘’ তে সোম দ্বারা সীতা – সাবিত্রী ঋষিকাদের তিন বেদ প্রদান করিবার বর্ণন বিস্তারপূর্বক আসিয়া থাকে --- তং ত্রয়ো বেদা অন্বসৃজ্য়ন্ত। অথ হ সীতা সাবিত্রী । সোমঁ রাজানং চকমে। তস্যা উ হ ত্রীন বেদান্ প্রদদৌ। তৈত্তরীয় ব্রা০২-৩-১০-১,৩ এই মন্ত্রে বলা হয়েছে কিভাবে সোম সীতা-সাবিত্রী কে তিন বেদ প্রদান করিয়াছিলেন ।

উপরোক্ত এই কথাগুলি বলে তারা অপসিদ্ধন্ত প্রদান করিয়া থাকে । এটিকে পাখণ্ডদের জয়পতাকা বলা হয় ।

নোটঃ ব্রহ্ম অর্থ ভগবদ্তত্ত্ব..


।। ভাগঃ২।।


অপসিদ্ধান্ত খণ্ডন/নিরসন


ব্রহ্মবাদিনী শব্দের অর্থ বেদ বাদিনী নহে কারণ মন্বাদি প্রবল শাস্ত্র প্রমাণেতে তাহা সর্বদা নিষেধ প্রাপ্ত তথা বর্জিত হইয়াছে । ব্রহ্ম শব্দ অনেকার্থাবাচী হইয়া থাকে ইহার অর্থ বেদ , ব্রহ্মা, বিপ্র, প্রজাপতি(ব্রহ্মশব্দং তপো বেদো ব্রহ্মা বিপ্রঃ) আদি হইয়া থাকে ।তেমনি সামান্য় দৃষ্টিতে ব্রহ্ম+বাদিনী=ব্রহ্ম কে যিনি জ্ঞাতবতী তথা (কেবল এখানে স্ত্রীঅর্থে) বলিয়া থাকেন এই অর্থ হইল । ব্রহ্ম কেবল বস্তুতঃ আত্মতত্ত্বকে বলা হইয়া থাকে। আত্মেতি তু উপগচ্ছন্তি গ্রাহয়ন্তি চ ব্রহ্মসূত্র( ৪।১।৩ ) এই ওঁ কারময় বেদ ও তাহার বাচক( তস্য় বাচকঃ প্রণবঃ- যোগসূত্র ১-২৭ ) তুনে যে বেদান্তপ্রসিদ্ধ অর্থ কেন লিখেন নাই? কেবল বেদই কেন লিখিয়াছেন বাকী পূর্ণ অর্থ কেন প্রয়োগ করেন নাই?কারণ আপনাদের উদ্দেশ মর্কট তথা উৎপাৎ করা তথা পাখণ্ডবাদকে প্রচার করা (নিজ সুবিধার্থে) ।কেবল এটাই নয় অপিতু অন্ন, প্রাণ,মন,বিজ্ঞান, আনন্দ, সবকিছুকেই প্রসঙ্গ প্রকরণে ব্রহ্মই বলা হইয়া থাকে (তৈত্তরীয়োপ ০ ভৃগুবল্লী ) সংস্কৃত এর যে কোন শব্দের অর্থ করিবার পূর্বে তাহার পূর্বাপর প্রকরণ, তাহার মর্মকে ,তাহার বাহ্যার্থ কে জ্ঞাত হওয়া অত্যন্ত আবশ্যক অন্যথা ঠিক তেমনই স্থিতি হইবে কি ভোজনার্থে প্রবৃত্ত ব্যক্তি দ্বারা লবন চাহিয়া সৈন্ধবমানয়! বলা হইল আর শ্রোতা উপস্থিত হইলেন ঘোড়া লইয়া! (কারণ সৈন্ধব শব্দ এর অর্থ লবণ এবং ঘোড়া দুটি অর্থই হইয়া থাকে ) অস্তু, উক্ত মর্মকে বোঝাইবার পুর্বে প্রথমে আপনার ধ্য়ান ,,ব্রহ্ম ,, শব্দের উপরে লইয়া আসি কি ব্রহ্ম কাকে বলা হইয়া থাকে?এই প্রশ্নের উত্তরে স্বয়ং বেদ বলিয়াছে -- যে সমস্ত প্রাণী যে ( নিরতিশয়ং নির্বিশেষং মহৎ তত্ত্বং) তত্ত্ব হইতে জন্ম লাভ করিয়া থাকে ,যাহাতে স্থিত হইয়া থাকে এবং যাহার মধ্যে প্রবিষ্ট হইয়া থাকে,সেই জিজ্ঞাসা তত্ত্বকেই (যাহা হইতে অর্থাৎ জিজ্ঞাসা তত্ত্ব হইতে, যাহাতে তথা ব্রহ্মে ) ব্রহ্ম বলিয়া থাকে । উপনিষৎসু প্রতিপাদিতস্য তত্ত্বস্য ব্রহ্ম ইতি নাম।

যতো বা ইমানি ভূতানি জায়ন্তে । যেন জাতানি জীবন্তি । যৎ প্রযন্ত্যভিসংবিশন্তি । তদ্বিজিজ্ঞাসস্ব।তদ্ ব্রহ্মেতি ।।-- তৈত্তিরীয়োপনিষৎ ৩-১-৩ ইমানি ভুতানি যতো জায়ন্তে, জাতানি যেন জীবন্তি ,যদেব অভিসংবিশন্তি প্রয়ন্তি, তদেব ব্রহ্মা, তদেব বিজিজ্ঞাসস্ব । অর্থাৎ-সমস্তম্ ইদম্ বিশ্বং যস্মাদ্ উৎপদ্য়তে, যেনৈব জীবতি, যস্মিন্নেব চ লীয়তে তদেব ব্রহ্ম । এবং সমস্তস্যাপি জগতঃ সৃষ্টিস্থিতিলয়কারণভূতং তত্ত্বং বেদান্তেষু ব্রহ্মশব্দেন গীয়তে । সকলস্য়াস্য় বিশ্বস্য ব্রহ্ম উপাদানং নিমিত্তং চ কারণং ভবতি। অতঃ ব্রহ্ম নৈব কার্যং ভবেৎ । জগৎকারণত্বেন ব্রহ্মণ এব প্রতিপাদিত্বাৎ কাপিলসাংখ্যদর্শনে প্রতিপাদিতং প্রধানং বা বৈশেষিকদর্শনে প্রতিপাদিতঃ পরমাণুর্বা জগতঃ কারণং নৈব ভবতি ইত্যভিপ্রায়ঃ ।। অস্তু,


এখন প্রশ্ন ইহ কি ব্রহ্মজ্ঞান ( ভগবৎতত্ত্ব জ্ঞান ) কিভাবে লাভ হইয়া থাকে ? ইহার উত্তর এখনে দেখুন— বেদ বলে যে তপস্যা দ্বারা বেদ কে জানতে হয় কারণ তপই ব্রহ্ম – তপসা ব্রহ্ম বিজিজ্ঞাসত্ব,তপো ব্রহ্মেতি ঢ-তৈত্তরীয়োপনিষদৎ-ভৃগূবল্লী-০১ নিজের তপস্যার পূর্বকালে স্ত্রীগণ বেদ মন্ত্রের সাক্ষাৎকার করিয়া নিতেন ,তাহাদের তপস্য়া কি? স্বধর্মে চলিবার জন্য় তাহাদিগের বেদ্য তত্ত্বের জ্ঞান হইয়া যাইত ওটাই তাহাদিগের /তপস্যা । স্বধর্মের পালন, দেব,দ্বিজ,গুরু,প্রাজ্ঞের পূজা,আর্জব,ইন্দ্রিয়ের নিগ্রহ,অহিংসা,এর মাধ্যমেই পাপদেহী স্ত্রীগণ শুদ্ধতা কে প্রাপ্ত করিতেন । প্রমাণঃ-( দেবস্য দ্বিজস্য আচার্য্য়স্য পণ্ডিতস্য চ অর্চনম্ শুদ্ধতা আর্জবম্ ব্রহ্মচর্যম্ অহিংসা চ শরীরং তপঃ ইত্যুচতে ) দেবদ্বিজগুরুপ্রাজ্ঞপূজনং শৌচামার্জবম্। ব্রহ্মচর্যমহিংসা চ শরীরং তপ উচ্যতে ॥ (ভগবদ্গীতা ১৪ । ১৪) ঋষন্তি জ্ঞানসংসারয়োঃ পারং গচ্ছন্তি ঋষয়ঃ।ঋষী শ গতৌ নাম্নীতি কিঃ। রিষির্হসাদিশ্চ।বিদ্যাবিদগ্ধমতয়ো রিষয়ঃ প্রসিদ্ধাঃ। ইতি প্রয়োগাৎ। স্ত্রিয়াং ঋষী চ । ইত্যামরটীকায়াং ভরতঃ ইতি হি শ্রুয়তে । অথবা ঋষন্তি অবগচ্ছন্তি ইতি ঋষয়ো মন্ত্রাঃ । ঋষি দর্শনাৎ(০২।১৯।১) স্তোমান্ দদর্শেত্যৌপমন্যবঃ। তদ্ যদ্ এতাংস্তপস্যমানান্ ব্রহ্ম(বেদং) স্বযম্ভবভ্যানর্ষৎ, ত ঋষয়োঽভবন্,তদ্ ঋষিণামৃষিত্বম্ । - নিরুক্ত ২।১৯।১ ঋষি গোত্র প্রবর্তক , দীর্ঘায়ু,মন্ত্রসাক্ষাৎ কর্তা , দিব্যদ্রষ্টা আদি হয়েছেন । দীর্ঘাযুষো মন্ত্রকৃত ঈশ্বরা দিব্যচক্ষুষঃ। বৃদ্ধাঃ প্রত্যক্ষধর্মাণো গোত্রপ্রবর্তকাশ্চ যে॥ (বায়ু পুরণ পুর্বার্ধ ৬১।৯৪) ঋষি শব্দের স্ত্রীত্ব বিবক্ষার্থে ঋষিকা প্রয়োগ হইয়াছে ,ঋষিকা কেন বলা হয়েছে ? কারণ কোন এক সমানধর্ম থেকে তাকে ওটা বলা হইয়াছে ,যেমন লোকে সমাজে শৌর্য বা ক্রৌর্য আদি কোন সমান ধর্মের আধারে বালককেও সিংহ বলা হইয়া থাকে(প্রমাণ- সিংহঽয়ং মাণবকঃ )। সমানতা কি? সমানতা হল দীর্ঘায়ুত্বের,দিব্য-দ্রষ্টৃত্বের, প্রত্যক্ষা ধর্মা হওয়া ।স্ত্রীগণও তো দিব্যদর্শিণী হইতে পারে । এবার আপনি বিচার করুন , আপনি কি কখনও ঋষিকা তথা স্ত্রীদের গোত্রের নাম শুনেছেন? যেটি স্ত্রী তথা ঋষিকা দ্বারা উৎপন্ন হইয়াছে । নিশ্চই শুনেন নাই ,কেন জানেন? কখনও কি কোন শাস্ত্রে স্ত্রীগণের শিষ্যা পরম্পরার ব্যাপারে আছে এমনটি শুনেছেন? কোন স্থান বিশেষ পাঠশালার কথা শুনেছেন ? যেখানে তাদের বেদাধ্য়য়ন করানো হইত । অবশ্যই শুনেন নাই । কারণ স্ত্রীদের ঋষিকা হওয়ার মার্গ ঋষিদের ন্যায় ছিল না । তাদের সিদ্ধি প্রাপ্তির মার্গ ভিন্ন । এই প্রকার উদাহরণের জন্য সীতা,সাবিত্রী আদি সকল শব্দ লৌকিক অর্থ তুল্য গ্রাহ্য নয় , কারণ লৌকিক শব্দ এবং বৈদিক শব্দের অর্থে অনেক পার্থক্য হইয়া থাকে । যেমন দেখুন, লৌকিক অর্থে কবি শব্দের অর্থ কবিতা যাহারা লিখেন তাদের বলা হইয়া থাকে কিন্তু বৈদিক অর্থে কবি শব্দের অর্থ ত্রিকালজ্ঞ ,তেমনি লোকিক অর্থে ক্রতু শব্দের অর্থ যজ্ঞ হইয়া থাকে পরন্তু বেদিক অর্থে ক্রতু শব্দের অর্থ বুদ্ধি হইয়া থাকে ( অগ্নির্হোতা কবিক্রতুঃ ঋগবেদ-অগ্নিসুক্ত ৫) বেদের একটি শব্দের অর্থ অনেক গ্রন্থ অনেক অর্থ প্রকাশ করে তাই বিচক্ষণ,পণ্ডিৎ,জ্ঞানী ব্যক্তি ছা়ড়া শব্দের অর্থ সামান্য ব্যক্তি কখনই বুঝিতে পারিবে না ।

বহুভক্তিবাদীনি হি ব্রহ্মণানি ভবন্তি।পৃথীবি বৈশ্বানরঃসংবৎসরো বৈশ্বানরো,ব্রাহ্মণো বৈশ্বানরো ইতি(নিরুক্ত৭।৭।২২ ) অস্তু ।

শাস্ত্রকারেরা বলেন যে মনুস্মৃতির বিরুদ্ধে যে স্মৃতি বচন সেটি গ্রহণ যোগ্য নহে । কারণ বেদার্থের অনুসার নিবদ্ধ হইবার জন্য সর্বপ্রথম মনু স্মৃতিই মান্য় করিতে হইবে ( সর্বধর্মময়ো মনুঃ )। প্রমাণ- মনুস্মৃতি বিরুদ্ধা যা সা স্মৃতির্ন প্রশস্যতে । বেদার্থোপনিবদ্ধত্ত্বাৎ প্রাধান্য হি মনোঃ স্মৃতেঃ ॥ তথাহি---- যদ্ বৈ কিঞ্চ মনুরবদৎ তদ্ ভেষজম্ । ( তৈত্তিরীয় সং০২/২/১০/২ ) মনু বৈ যৎ কিঞ্চাবদৎ তৎ ভেষজায়ৈ।(তাণ্ড্য-মহাব্রা০২৩/১৬/১৭ ) অথাপি নিষ্প্রচমেব মানব্যো হি প্রজাঃ। ঋগ্বে ০১/৮০/১৬ অপি দ্রষ্টব্যম্। এটা তো হইয়া গেল পারাশর সংহিতায় দ্বিবিধা স্ত্রী এবং পুরাকল্পে হি নারীণাং মৌঞ্জীবন্ধ আদির উত্তর । এখন শুনুন ব্রহ্মসুত্রেণ পবিত্রকৃতকায়াম্ এর উত্তর ব্রহ্মসুত্র শব্দের বিবিধ অর্থ হইয়া থাকে,ব্রহ্ম শব্দের অর্থ তপ,বেদ,ব্রহ্মা,বিপ্র,প্রজাপতি আদি হইয়া থাকে,অতএব মহাশ্বেতাদি অন্য স্ত্রীগণ স্বধর্ম পালন রূপ তপস্যা করিয়া পবিত্র কায়া হইয়াছিলেন ,এটাই সিদ্ধ হইল । যথাঃ— ব্রহ্মশব্দং তপো বেদো ব্রহ্মা বিপ্রঃ প্রজাপতিঃ ইতি বচনেন অত্র ব্রহ্মসুত্রশব্দস্য তপঃ সুত্রেণ পবিত্রীকৃতকায়ামিতি তাৎপর্য্য়ং সমাচীনং । বহ্বর্থকো হি ব্রহ্মসুত্রশব্দঃ,তথাহি যজ্ঞোপবীতভিন্নর্থে- ব্রহ্মসুত্রপদৈশ্চৈব হেতুমদ্ভির্বিনিশ্চিতৈরিতি গীতায়াম্ ।

এখন আগে দেখুনঃ— স্ত্রীর গুরু কেবল তার পতি । শাস্ত্রে রহিয়াছে ,, গুরুরগ্রির্দ্বিজাতীনাং বর্ণানাং ব্রাহ্মণো গুরুঃ । পতিরেব গুরুঃ স্ত্রীণাং সর্বস্যাঽভ্যাগতো গুরুঃ ॥ ( পদ্মপুরাণ স্বর্গ৫১.৪১,ব্রহ্মপুরাণ ৮০।৪৭ ) অগ্নি দ্বিজাতিদের গুরু ,ব্রাহ্মণ চার বর্ণের গুরু,একমাত্র পতিই স্ত্রীর গুরু,এবং অতিথি সবার গুরু । স্ত্রীদের যজ্ঞোপবীত সংস্কার একটি ঘোর পাখণ্ডতা , তাহার প্রমাণঃ— বৈবাহিকো বিধিঃ স্ত্রীণাং সংস্কারো বৈদিকঃ স্মৃতঃ । পতিসেবা গুরুৌ বাসো গৃহার্থোঽগ্নিপরিক্রিয়া ॥ ( মনুস্মৃতি ২।৬৭) স্ত্রীদের একমাত্র সংস্কার হইল বিবাহ সংস্কার, বৈবাহিক বিধির পালন করাই তাহাদিগের বৈদিক সংস্কার,( যজ্ঞোপবীত সংস্কার) পতির সেবা করাকেই গুরুকুল বাস এবং গৃহের কার্য করাটাকেই অগ্নিহোত্র বলা হইয়াছে । স্ত্রীদের ব্য়াসাসনে উপবেশন করা অনুচিৎ ,যজ্ঞোপবীত সংস্কারাদি অনুচিৎ সেটি নিম্নে প্রমাণিত করা হল । ক বার মালবীয় নামে মহামূর্খ স্ত্রীদের ব্য়াসাসনে উপবেশন করা এবং যজ্ঞোবপীত সংস্কারের পক্ষে প্রচার শুরু করেন এবং সেটাকে সিদ্ধ করিতে চাহে কিন্তু সেই সময় পরমপূজ্য ধর্মসম্রাট স্বামি শ্রীকরপাত্রী জী মহারাজ তাহার সহিত শাস্ত্রার্থ করেন এবং তাহার অপসিদ্ধান্ত কে খণ্ড-বিখণ্ড করিয়া দেন । ঋষিকেশে তিনদিন পর্য্যন্ত সেই পাখণ্ডীর সাথে সুক্ষ্ম থেকে সুক্ষ্মতর সকল আলোচনা হয় । যাহার নির্ণয়ক তৎকালিন জয়দয়াল গোয়ন্দকাদি বড় বড় পণ্ডিৎ উপস্থিত ছিলেন । সেই আলোচনায় পাখণ্ডী মালবীয়ের এমন শোচনীয় পরাজয় হয় ঠিক সিংহের মুখোশ পরিহিত শিয়ালের ন্য়ায় , শিয়াল যেমন সিংহের মুখোশ পরিয়া অন্য় জীব সকলকে ভয় দেখাইয়া ফিরে পরন্তু যখন সিংহের সামনে যাইয়া তাহাকে হুংকার করে তখন সিংহের আক্রমণে মূর্খ ছদ্মবেশী শিয়াল সিংহের মৃত্য়ু হয়, অথবা শোচনীয় অবস্থা হয় । নিম্নে সেই শাস্ত্রার্থের অংশ দেওয়া হইল । লক্ষ্মীদেবী শ্রীভগবান বিষ্ণুকে ভাগবৎ শুনাইয়াছিলেন ইহার আধারে স্ত্রীদের ব্যাসাসনে বসিয়া ভাগবৎ পাঠ করার সিদ্ধি কিভাবে হইতে পারে ? কারণ লক্ষ্মীদেবী কোন স্ত্রীদেহধারী মানবী নন,তিনি সবার হৃদয়ে পরিব্যপ্ত স্বয়ং পরমাত্মতত্ত্ব এবং আত্মাকে লৌকিক স্ত্রীদের তুল্য কোন এক জাতি বিশেষ এর সাথে তুলনা করা মূর্খতা বৈ কিছু নয় । ( ত্বং স্ত্রী ত্বং পুমানসি ত্বং কুমার উৎ বা কুমারীতি শ্বেতাশ্বতরোপ ০৪/৩ ) অন্য কথা হইল লক্ষ্মীদেবীও ব্যসাসনে বসিয়া কদাপি বিষ্ণু ভগবান কে ভাগবৎ শ্রবণ করান নাই , অপিতু ভাগবৎ বার্তা কহিয়াছিলেন । যাহার অভিপ্রায় হইল ভগবানের লীলা কথাকে পরস্পর আদান-প্রদান করা ,যাহাকে সংবাদ বলা হইয়া থাকে । সংবাদ আলাদা বিষয় আর ব্যাসাসনে উপবেশন পূর্ব্বক ভাগবৎ অনুষ্ঠানাদি করা আলাদা বিষয় । স্বয়ং শ্রীভগবান গীতাই বলিয়াছেন – যেষাং চিত্তং ময়ি সংলগ্নং ভবতি,যেষাম্ ইন্দ্রিয়াণি ময়ি সন্তি তাদৃশাঃ বুধা ভাবসমন্বিতাঃ অন্যোন্যং মাং বোধয়ন্তঃ কীর্তযন্তঃ চ সদা সন্তোষং প্রাপ্নুবন্তি, ময্য়েব চ বিহরন্তি যথাঃ— মচ্চিত্তা মদ্গতপ্রাণা বোধয়ন্তঃ পরস্পরম্ । কথয়ন্তশ্চ মাং নিত্যং তুষ্যন্তি চ রমন্তি চ ॥ ( শ্রী,গীতা ১০।৯) ঐ দৃঢ় নিশ্চয়কারী আমার ভক্তজন নিরন্তর আমার নাম এবং গুণের কীর্তন করিয়া তথা আমাকে প্রাপ্তির জন্য় যত্ন করিয়া সদৈব আমার ধ্যানে যুক্ত হইয়া অনন্য প্রেম দ্বারা আমার উপাসনা করিয়া থাকে । সততং কীর্তয়ন্তো মাং য়তন্তশ্চ দৃঢ়ব্রতাঃ । নমস্যন্তশ্চ মাং ভক্ত্যা নিত্যযুক্তা উপাসতে ॥ ( শ্রী গী ৯।১৪) স্বয়ং কে বেদের অধিকারিণী বানাইয়া যে ভাগবৎ কে যে সকল স্ত্রিয়া ব্যাসাসনে বসিয়া শ্রবণ করাইতে চাহেন ,তাহারা কোন মুখ হইতে ভাগবতের পারায়ণ করিয়া থাকেন ? কারণ স্বয়ং ভাগবতই স্ত্রীদের অনধিকারী বলিতেছেন , যথাঃ স্ত্রীশুদ্রদ্বিজবন্ধুনাং ত্রয়ী ন শ্রোতিগোচরা । ( শ্রী ভাঃ ১/৪/২৫) স্ত্রী, শুদ্র, দ্বিজবন্ধু অর্থাত্ স্বধর্ম হইতে পতিত ব্রাহ্মনাদি ত্রয়বর্ণ তথা মাছ, মাংসাদি, ভোজনকারী পতিত ব্যক্তিবর্গ । পূর্বেই সিদ্ধ করিয়াছি শাস্ত্রাদি তে আসুরিক দ্রব্য ভক্ষণে নিষেধ সম্বন্ধে । প্রমাণঃ- মদ্যংমাংসং সুরাসবং ইত্যাদি(১১।৫৬) মনুস্মৃতি বচনেন । স্ত্রী আদি ব্যাসাসনে উপবেশন তো দূর শ্রুতি শ্রবণেরও অযোগ্য স্বয়ং ভাগবত্ এ বাক্য বলিতেছে তথাপি কিছু কূপমণ্ডক ইহা স্বীকার করিবে না। শ্রুতি শব্দের অর্থ কেবল বেদ নহে তথা আগম, নিগম, বেদাঙ্গম্ , আদি হইয়া থাকে ।মহর্ষি বেদব্যাস থেকে অধিক জ্ঞানী তো আপনি বা তথ কথিত বিদ্বান নহেন । যদি বেদব্যাসের বাক্য আপনার নিকট গ্রাহ্য নয় তবে আপনি যে একজন মহান নাস্তিক সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না । এখন আপনাদিগের আশ্চার্য করিব , বেদব্য়াস কে লইয়া । প্রত্যেক দ্বাপর যুগে বিষ্ণু ব্যাসের রূপে অবতীর্ণ হইয়া বেদের বিভাজন করিয়া থাকেন । এই রূপ চার বেদকে আঠ্ঠাইশ বার বিভাজন করা হইয়াছে ।প্রথম দ্বাপরে স্বয়ং ব্রহ্মা হইয়াছিলেন, তার পরবর্তী দ্বিতীয় দ্বাপরে প্রজাপতি, তৃতীয়ে শুক্রাচার্য্য়, চতুর্থে বৃহস্পতি বেদব্যাসের অবতার হইয়াছিলেন । এভাবে পর্যায়ক্রমে সূর্য,মৃত্যু , ইন্দ্র , ধনঞ্জয় , কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন , অশ্বথামা আদি বেদব্যাস হইয়াছেন । সময়-সময়ে কিভাবে বেদকে বিভাজন করা হইয়াছে তাহার উদাহরণ নিম্নে প্রস্তুত করা হইল । কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন বেদব্যাস ব্রহ্মার প্রেরণায় চার শিষ্যকে চার বেদ পড়াইয়াছেন। ১। মুনি পৈল কে ঋগ্বেদ ২। বৈশংপায়ন কে যজুর্বেদ ৩। জৈমিনি কে সামবেদ ৪। সুমন্তু কে অথর্ববেদ

ইহারা মহর্ষি বেদব্যাসের উত্তরাধইকারী পুরুষ ছিলেন কোন দেহধারী স্ত্রী নয় এবং ইহাদের যে পরম্পরা চলিয়াছে তাহাও পুরুষদিগের পরম্পরা । অদ্যাবধি পর্যন্ত স্ব-স্ব শাখাধ্যায়ী ব্রাহ্মণ পুরুষ দ্বারা পরম্পরা বিস্তারিত । কেবল মহর্ষি বেদব্যাস এর সাক্ষাৎ শিষ্য অথবা শিষ্য পরম্পরায় অন্তর্ভুক্ত পুরুষকেই কেবল ব্যাসাসনে বসিবার অধিকারী বলা হইয়াছে ।

মনুস্মৃতি তে পরমপিতা মনু মহারাজ বলিয়াছেন স্ত্রীগণ নিরিন্দ্রিয় , মন্ত্ররহিতা, অসত্যস্বরুপিণী – প্রমাণঃ- নিরিন্দ্রিয়া হ্যমন্ত্রাশ্চ স্ত্রিয়োঽনৃতমিতি স্থিথিঃ । মনু০৯। ১৮ স্ত্রী পাপযোনী, উহার জন্মের কারণ পাপ,এই বিষয়ে গীতায় স্পষ্ট প্রমাণ রহিযাছে , যথাঃ— মাং হি পার্থ ব্যপাশ্রিত্য যেঽপি স্যুঃ পাপযোনয়ঃ । স্ত্রিয়ো বৈশ্যাস্তথা শুদ্রাস্তেঽপি যান্তি পরাং গতিম্ ॥

হে অর্জুন স্ত্রী, বৈশ্য, শুদ্রাদি পাপযোনি-চণ্ডালাদি কেহই হোক না কেন , তাহারা যদি আমার আশ্রিত হয় তবে আমার পরমপদকে প্রাপ্তি করিয়া থাকে । আক্ষেপঃ— এখানে পাপযোনী – এই শব্দকে বৈশ্য আদির বিশেষণ মানা অযুক্তি সংগত কারণ ছান্দোগ্যোপনিষৎ এ বৈশ্য কে উত্তমযোনি বলা হইযাছে অতঃ শ্রুতি বিরুদ্ধ অর্থ অগ্রাহ্য । নিম্নে এর সমাধান দেওয়া হইল । সমাধানঃ— ‘রমণীয়াং যোনিম্ ‘’ বিশেষণ বলা হইয়াছে , “পুণ্যযোনিম্ “ বলে নাই যে বাক্যের খণ্ডন করিতে শুরু করিবেন । গীতাক্ত “পাপযোনী” শব্দের নিষেধ করা হয় নাই এখানে । পাপযোনী শব্দের অর্থই আপনি জ্ঞাত নন অন্যথা এটি বুঝিতে ভুল করিতে না । আচার্য্য় শংকর স্ত্রী, বৈশ্য, তথা শুদ্রের প্রতি “পাপযোনী” বিশেষণের সংগতি করিয়াছেন এবং তিনি স্পষ্ট করিয়াছেন কি দ্বিজত্বের প্রাপ্তিতে পুণ্যত্ব নাই পরন্তু এমনটি নয় পুণ্যত্ব তো আছেই তবেই তো দিজত্ব মিলিয়াছে । ইহার জন্য় এই বিষয়ে তিনি লিখিয়াছেনঃ— রমণীয়চরণেনোপলক্ষিতঃ শোভনোঽনুশয়ঃ পুণ্যং কর্ম যেষাং তে রমণীয়চরণঃ যে তু রমণীয়চরণা দ্বিজাতযস্তে আদি ( তত্রৈব শংকরভাষ্য )

অতঃ জানা উচিৎ কি মানব যোনি তে জন্ম হওয়া জীব , স্ত্রী, বৈশ্য এবং শুদ্র – এই তিন যোনীতে জীব পাপের প্রভাবে জন্ম লইয়া থাকে । ব্রাহ্মণাদি দুই যোনিতে পুণ্যের প্রভাবে জন্ম হইয়া থাকে , তথা গীতায় , “ চতুর্বর্ণ ময়াসৃষ্টং গুণকর্মবিভাগশয়ঃ” ইত্যাদি , পূর্ব যোনিতে কৃত কর্মের পাপপুণ্য়ের প্রভাবেই পরবর্তীতে তাহার সেই যোনিতে জন্ম হইয়া থাকে । পরন্তু এ স্থলে অনেকেই অর্থ করিবে যে জন্মের পরবর্তীতে গুণকর্মের দ্বারা বর্ণ বিভাজন হইয়া থাকে কিন্তু এটি সঠিক নহে । জন্মের পূর্বে তাহার কৃত কর্মের ফলেই তাহার জন্ম ক্রমানুসারে সেই যোনিতে হইয়া থাকে । পূর্বপুণ্যের প্রভাবে মানব যোনীতে জন্ম তাহাদের হইযা থাকে পরন্তু পাপের প্রভাব এর জন্য ইহাদিগের জন্ম উত্তম বর্ণে হয় না । এটিই সিদ্ধান্ত অন্যথা সকলের জন্ম তো ব্রাহ্মণ তথা উত্তমকুলে হইত বৈশ্য়,শুদ্রাদি কুলে জন্ম হইত না । ইহার জন্য়ই এদের পাপযোনী বলা হইয়া থাকে ।

“জন্মনা জায়তে শুদ্র সংস্কারাৎ দ্বিজোচ্চতে” আদি শ্লোক শাস্ত্রে কোথাও দৃষ্ট হয়না , না ইহার কোন প্রমাণ কোথাও রহিয়াছে , এটি অশাস্ত্রীয় তাই স্বীকার্য্য় নহে । জন্তুনাং নরজন্ম দুর্লভমতঃ পুংস্ত্বং ততো বিপ্রতা – ইত্যাদিপূর্বক এই মর্ম ভগবান শংকর বিবেক চুড়ামণি তে বোঝাইয়াছেন । অর্থাৎ সংসারে বিভিন্ন যোনীতে জন্মের মধ্যে প্রথমত নর জন্ম বহুত দুর্লভ হইয়া থাকে , তার পরবর্তীতে পুরুষত্ব কে লাভ করা অতিব দুর্লভ । মানব জন্ম হইয়া গেল তৎ পশ্চাৎ পুরুষত্ব মিলিয়া গেল তৎ পশ্চাৎ ব্রাহ্মণাদি যোনিতে জন্ম লাভ করাও অতিব দুর্লভ । এখন অভিধারণ আরও দৃঢ় হইবে । আগে দেখুন ঃ— প্রশ্ন ঃ— উত্তম যোনি বলিয়া দিয়াছি তবে কি স্পষ্ট হইল যে অধম যোনী নাই ? ! দিন বলিয়া দিয়াছি তবে কি স্পষ্ট হইল যে রাত নাই ?

উত্তরঃ- এই তর্ক তো তখন কাজ করিবে যখন শ্রুতি পুণ্যযোনী বিশেষণ দিবে ,কিন্তু শ্রুতি এ বিশেষণ দেয় নাই । তবে কিভাবে বলিয়া থাক কি পাপযোনী নাই এটি সিদ্ধ হইল ? এখানে রমণীয় বিশেষণে “ শাস্ত্রীয়চরণম্ আচরণম্ কর্মং যেষাং তথাভুতাঃ ব্রাহ্মণক্ষাত্রিয়বৈশ্যসম্বন্ধিনীং রমণীয়াম্ নিজোদ্ধারক্ষমাং যোনিম্ আপদ্যন্তে “ এমনটি রাঘবকৃপাকরভাষ্যকর এর কথন ( তত্রৈব , রাঘবকৃপাকর ভাষ্য পৃষ্ঠ ৫৬০ ) অর্থাৎ যিনি শাস্ত্রীয় আচরণ পূর্বক স্বয়ং কে উদ্ধার করিতে সক্ষম তিনিই রমণীয়চরণ । অর্থাৎ স্পষ্ট কি দিজত্বপ্রাপ্তি পূর্বক শাস্ত্রীয় বিধি-নিষেধ এর পালন যাহারা করেন সেই সকল যোনী । এই অভিপ্রায় রাঘবকৃপাকরভাষ্যকর বলিতে চাহেন । অর্থাৎ পুণ্যযোনির স্থানে শাস্ত্রীয় আচরণে সক্ষম যোনি এমন অভিপ্রায় স্বীকৃত করিয়াছেন । এখন বলুন কি বলিবেন ? পুনশ্চ এখানে তো দ্বিজত্ব প্রাপ্তি তে সক্ষম অথবা বলুন শাস্ত্রীয়বিধিনিষেধ পালনের অধিকারী যোনির পৃথকীকরণ হইয়াছে ! তবে কোথায় গীতাক্ত “পাপযোনী” বিশেষণ এর খণ্ডন হইল ? এই পাপযোনী দ্বিজত্ব প্রাপ্তির অধিকারী যোনি নয় এমনটি শংকরাচার্য্য় বলেন নাই । অর্থাৎ নাই এমনটি বলেন নাই হ্যাঁ এটাও বলেন নাই । উনি ততটুকু বলিতেছেন যতটুকু অখণ্ডনীয় সিদ্ধান্ত , তবে আক্ষেপ কোন আধারে ? পাপযোনী, পুণ্যযোনী, পাপকর্মা,পুণ্যকর্মা -প্রত্যেক শব্দ স্বয়ং ভিন্ন -ভিন্ন অভিপ্রায় লইয়াছেন । পুণ্য়কর্মা হইয়া পাপ – প্রাধান্যত্বেন পাপযোনী হইতে পারে , পাপকর্মা হইয়া পুণ্য – প্রাধান্যত্বেন পুণ্যযোনি হইতে পারে । ইহাই শাস্ত্র সিদ্ধান্ত । অস্তু , নিম্নে আরও দেখুন এটাই কি সিদ্ধান্ত কোথাও কি বর্ণিত আছে কি দ্বিজত্বের অধিকারিণী যোনি পাপযোনি হইতেই পারেনা ? ‘পুণ্যযোনি” বিশেষণ যদি দ্বিজমাত্র কেই প্রাপ্তি হইয়া যায় তবে আপনার মতামত সঠিক হইতে পারে । কিন্তু এমনটিও নয় । এটি শুধু কেবল ব্রাহ্মণের জন্যই শ্রীভগবান দ্বারা স্বীকৃত । যথাঃ কিং পুনর্ব্রাহ্মণাঃ পুণ্যা – তত্রৈব গীতায়াম্ ৯। ৩৩ এখানে পুণ্যা হইতে পুণ্যযোনয়ঃ- এমন অর্থই উচিৎ কারণ পিছে পাপযোনী বিষয়পূর্বার্ধ স্পষ্ট হইয়াছে । বাকী এই স্ত্রী,বৈশ্যাস্তথা ০ এর উপর বেংকটনাথ বেদান্তদেশিক এই শ্লোকের ব্যাখা কিভাবে বোঝাইতেঠেন আপনাদিগের ন্যায় হঠধর্মিদের । ত্রৈবর্ণিকস্য বিদ্যাদিমতোঽপি বৈশ্যস্য শুদ্রাদিভিঃ সহ পাপযোনিত্বেন পরিগণনং সত্রানধিকারিত্বাৎ এই প্রকার সবিস্তার আপনাদের ন্যায় আক্ষেপকর্ত্তাদিগের হঠধর্মতার ধ্বজ বেদান্তদেশিকাচার্য্য সবিস্তার নষ্ট করিয়াছেন । স্বয়ং সেগুলি পঢ়িয়া লইবেন , আপনাদিরের জন্য সংকেতই যথেষ্ট ।

অন্য একটি বিষয় তুলিয়া ধরিব যেটি আপনাদিগের ন্যায় ধার্মিকাতংকিরা একটি বারও বিচার করেনা এবং কুকর্ম করিতেও পিছপা হন না । বর্তমান সময় কালে কথাবাচিকাগণ যাহারা এখানে ওখানে ব্যাসাসনে বসিয়া কথা বলিয়ে ফিরে তাহাদিগের কি সামান্য জ্ঞান নাই তাহারা কি সামান্য মর্যাদাটুকুও পালন করিতে পারে না? শাস্ত্রীয় বিধি উলঙ্ঘনতাই ইহাদিগের একমাত্র ধর্ম । দেখুন কি পাখণ্ডতা , বর্তমানে ভাগবত্ কথার প্রোগ্রাম তাহারা এক বছর বা দুই বছর আগে হইতে ফিক্সড করিয়া লয় । কিন্তু সেই কথার সময় যদি তাহার স্ত্রীধর্ম ( রজস্বলা ) আসিয়া উপস্থিত হয় সেক্ষেত্রে তিনি কি করিবেন? তিনি কি সপ্তাহ ত্যাগ করিয়া অশৌচ পালন করিবেন নাকি অশৌচ লইয়া পাঠ করিয়া চলিবেন? নিশ্চই তিনি পাঠ ত্যাগ করিবেন না অথবা ভাগবত্ সপ্তাহ বন্ধ করিবেন না । স্ত্রীধর্ম কখন আসিবে সেটি কাহারই জ্ঞাত নয় , সেটি যে কোন সময় আসিতে পারে । স্ত্রীধর্ম আসিলে স্ত্রীদিগরে অশৌচ হয় , অশৌচ কালে তাহাদিগের বিধি মানিতে হয় , গরুড় পুরাণ , স্মৃতি অন্য়পুরাণেও এই সময়ের বিধি পালন সম্বন্ধে বলা হইয়াছে , যাহারা তাহা পালন না করে তাহাদিগের গতি একমাত্র নরক । প্রথমদিবসে স্ত্রী চাণ্ডালী সা রজস্বলা , দ্বিতীয় দিবসে ম্লেচ্ছা তৃতিয়ে রজকী স্মৃতা । (ব্র,বৈ,পু ৪। ৫৯, ১১৭-১১৮)

সপুমান নহি কর্মার্হো দৈবে পৈত্রে চ কর্মণি । অধমঃ স চ সর্বেষাং নিন্দিতাশ্চ যশোস্করা ।। যখন স্ত্রী রজবতী হয় তখন তাহার কোন দৈবিক কর্ম এবং পৈতৃক কর্মে অধিকার থাকে না ,অর্থাত্ ভাগবত্ সেবাদি করিবার যোগ্য থাকেন না । আর এ অবস্থায় যদি সে এসক কর্ম করিয়া থাকে সেটি ঘোর পাপ বৈ কিছু নহে । অতএব বুঝিতেই পারিতেছেন যে সকল স্ত্রীগণ ব্যাসাসনে বসিয়া কথা করিয়া ফিরে তাহারা কত বড় অধর্মকরিয়া থাকে কত বড় অপকর্ম করিয়া থাকে । এবার আপনারাই বিচার করুন যে কাহারা শাস্ত্র মানিয়ে সত্ কর্ম করিতেছে আর কাহারা অসত্ কর্ম করিয়া ফিরিতেছে ।


287 views0 comments

Comments


Be Inspired
bottom of page